পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষে অনিষ্ট করার কথাই বলন, তুমি প্রসন্ন মনে তাঁকে ক্ষমা করো। ইচ্ছে, এই জঙ্গি সময়ে—” তাঁহার কন্ঠস্বর রন্ধ হইয়া আসিল, তিনি আর কিছু বলিতে পারলেন মন। হেমন্তবাব বাস্ত হইয়া বলিলেন, “আপনি হাতযোড় করেন কেন, বউঠাকরণ? করেন কি ! আমায় অত করে বলতে হবে না। খুব সম্ভব জনরের ঘোরে একটা কোনও কাল্পনিক অনিটের কথাই তাঁর মাথায় ঢুকেছে। যদি বাসতবিকই কিছ হয়, আমি আপনার কাছে কথা দিচ্চি, আমি এমনভাবে উত্তর করব, যাতে তাঁর মনে কোনও ক্ষোভ, কোন অশান্তি আর না থাকে। আপনি সে সম্বন্ধে নিশ্চিত থাকুন বউঠাকরণে।” ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ এক ঘণ্টা পরে ইন্দ্রভূষণবাবর পুনরায় জ্ঞানসঞ্চার হইল। গহিণী যেরূপ বলিয়াছিলেন, জাগিয়াই তিনি হেমন্তবাবর খোঁজ করিলেন। হেমন্তবাব অনতিবিলম্বে তাঁহার -শষ্যাপাশেব নীত হইলেন। ইন্দ্রভূষণ ক্ষীণস্বরে কহিলেন, “হেমন্ত, এসেছ ভাই ? আমার মেয়াদ ত শেষ হয়ে এসেছে। তোমাকে আমার কিছু বলবার আছে, সেইটি না বললে আমার প্রাণ বেরচ্চে না। ওগো, তোমরা সবাই একবার ও-ঘরে যাও।” উপস্থিত সকলে ধীরে ধীরে তথা হইতে প্রস্থান করিলেন। যাইবার সময় গহিণী মিনতিপণ দটিতে হেমন্তবাবর পানে চাহিয়া গেলেন। নিজান হইলে, ইন্দ্রভূষণবাব বললেন, “বেশী কথা ক’বার সময় নেই, শক্তিও নেই। ఙ్ఞా శా డా శాసౌ రాజా శా বড় কটে তোমার দিন !" হেমন্ত বলিলেন, “হ্যাঁ দাদা, মনে পড়ে বইকি ! তোমার কাছে সে সব দিনে অনেক সাহায্য আমি পেয়েছি, জীবনে তা কি ভুলবো ?” ইন্দ্রভূষণ ধীরে ধীরে বলিলেন, “যাক। তখন তিন বছর না চার বছর তোমার প্রাকটিস হয়েছে। জামীণীতে যে লটারী খেলা হয়, আমি সেই লটারির দখনি টিকিট কিনেছিলাম। একখানি তোমার জন্যে, একখানি আমার নিজের জন্যে। তোমার আসল ঠিকানাটি না দিয়ে, আমার কেয়ারেই লিখে দিয়েছিলাম । উঃ, গলা শকিয়ে যাচ্চে, একটা জল ।” হেমন্ত মন্ত্রমাগধবৎ এই কাহিনী শুনিলেন। তাঁহার মনে হইতে আরম্ভ হইয়াছিল, ইহা ত জম্বরের প্রলাপের মত শনাইতেছে না। পাশের টেবিলে জলের গেলাস ছিল। দই তিন চামচ জল রোগীকে তিনি পান করাইয়া দিলেন। - জল পান করিয়া একটা সস্থ হইয়া ইন্দ্রভূষণবাব ধীরে ধীরে বলিতে লাগিলেন, “উভয়ের অদম্পট-পরীক্ষার জন্যে, টিকিট দখানি কিনেছিলাম। কত দিন হ’ল, সে অজ বোধ হয় ত্রিশ বছরের কথা, নয় —আজ ত্ৰিশ বছর পরে তোমায় জানাচ্চি, তোমার টিকিটখানি এক লক্ষ টাকা প্রাইজ পেয়েছিল।” হেমন্ত অলফট সবরে বলিয়৷ উঠিলেন,-“অ্যাঁ ।” ইন্দ্ৰবাব বলিয়া যাইতে লাগিলেন—“যখন চিঠি এল, তখন আমি দেশের বাড়ীতে৭ একখানি ক্লশ-করা চেক । কলকাতায় ষে জামর্শণীর ব্যাঙ্ক আছে, সে ব্যাকের উপর চেক । তোমার নামে, আমার কেয়ারে রেজেন্দ্রী করা চিঠি, তার ভিতর তোমার নামে লক্ষ টাকার ভিতরটায় যেন আগনে জলতে লাগলো। আমি যে এত ক্ষুদ্রমনা, তা আগে জানতাম না। বৃকের সেই আগন বকে চেপে রেখে ভাবলাম, তোমায় গিয়ে খবরটা দিই, চেকখানা তোমায় দিয়ে আসি। উ-আর একটু জল!” ~ - - - పె* -