পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কথা বলতে কি কথা বলে ফেলি; তায় কি রাগ করতে আছে ?” এইবার আমার মনটা নরম হইল। বলিলাম, “না ঝি, রাগ করিনি।” “আচ্ছা, আবার কবে আসবেন বলন।” “আবার শীঘ্রই একদিন আসবো।” “এই সময়, বুঝেছেন। বারোটা বাজলেই আমি মনিব-বাড়ী থেকে বেরই। আপনি বরঞ্চ সোজা এই বাড়ীতেই আসবেন, রাস্তাপথে আর দেখা করে কাজ নেই।” “আচ্ছা, তাই আসবো।”—বলিয়া আমি কলেজে ফিরিয়া গেলাম। প্রকসির বন্দোবস্ত করিয়া গিয়ছিলাম, সতরাং হাজিরার কোনও ব্যাঘাত হয় নাই। রাত্রি ১০টায় এ ডায়েরি লিখিতে বসিয়াছিলাম, এখন প্রায় ১২টা বাজে! খানিক ভাবিতেছি, খানিক লিখিতেছি। ঝির অনেক আবোলতাবোল বাজে কথার মধ্যে দুইটি কথা প্রণিধানযোগ্য। ১ম—মধ পরে হইতে উহাদের অকালে তিরোধানের কারণ আমার শ্রবণযোগ্য নহে; তাহাতে আমার আপশোস বাড়িবে বই কমিবে না। ২য়—সে সব এখন আমাদের মন থেকে মুছে ফেলাই ভাল। তবে, তাহারও মনে মুছিয়া ফেলিবার যোগ্য জিনিষ আছে। মোছা কি যায় পাগলী মছিতে গেলে যে বক ভাগিয়া যায়! যাহা হউক, মধ্যপরে শাড়ী-সঙ্কেতে মনে যে আশার অঙ্কুরোদগম হইয়াছিল, আজ ঝির কথায় তাহা পত্ৰশোভিত হইয়া উঠিল। পত্র’—পল্লব অথেই লিখিয়াছি; কিন্তু এখন মনে হইতেছে, ঝির হাতে আমি যদি তাহাকে পত্র অথাৎ চিঠি পাঠাই, এবং সে আমাকে ঐ উপায়ে পত্র লেখে, তাহা হইলে যথার্থই আমাদের প্রেমতর পত্ৰশোভিত হয়। ২২শে অগ্রহায়ণ। আজ আবার বামা ঝির সহিত সাক্ষাৎ করিতে গিয়াছিলাম—তাহার নাম বামাসুন্দরী। শৈলর অনেক গল্পই সে করিল। বেশ পাটই বুঝিতে পারিতেছি, শৈলও আমার সমতিকে তাহার অন্তরের অত্যন্তলে গোপন করিয়া রাখিয়াছে। চিঠি পাঠাইবার প্রস্তাব করলাম, কিন্তু বামা .ত রাজি হয় না। বলে, “বউগিন্নীর সঙ্গে সেভাবের কোন কথা ত আজ পৰ্য্যন্ত আমার হয়নি; চিঠি দিতে গেলে যদি তিনি রেগে চেচিয়ে হিতে বিপরীত করে বসেন।” ঠিক বটে। মনে যার যাই থাকুক, অন্য কাহারও কাছে ধরা পড়িয়া গেলে ত সেটা সখের হয় না। আমি অনেক পীড়াপীড়ি করাতে অবশেষে বলিল, “আচ্ছা, আগে বেড়া নেড়ে গেরস্তের মন বুঝে দেখি।”—অথাৎ আমার ২১টি কথা সে তাহার কাছে বলিয়া দেখিবে ! আগামী পরশব বিপ্রহরে আবার আমায় যাইতে বলিয়াছে। ২৪শে অগ্রহায়ণ। আজ গিয়াছিলাম : ঝি বলিল, গতকল্য বিকালে কৌশলে আমার নাম তাহার নিকট সে পাড়িয়াছিল। শৈল কাঁদিয়াছে, কিন্তু রাগ করে নাই। চিঠির কথা পাড়িতে সাহস হয় নাই, আজ কিংবা কাল সাবধামত সে কথা পাড়িবে। - ২৫শে অগ্রহায়ণ । চিঠির কথা ঝি পাড়িয়াছিল; সে আংশিকভাবে রাজি হইয়াছে, অর্থাৎ আমি চিঠি লিখিব, কিন্তু সে লিখিবে না—তাহার যাহা বক্তব্য তাহা ঝির মাখে বলিয়া পাঠাইবে । মাত্র। সে বলিয়াছে, “তিনি অবিবাহিত, সুতরাং তিনি যাহা ইচ্ছা তাহা করিতে পারেন। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত্রী, আমার কি উচিত চিঠি লেখা ?” আচ্ছ, আপাততঃ তাহাই হইবে—শনৈঃ পন্থা। ২৭শে পৌষ । o - - চিঠি ত একে একে অনঙ্গলং লিষ্ণু,দল ত একখানিরও মিলিল না।