পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দাগাবাজি নাই ত? আমি ঝিকে বলিলাম, “দেখ, ও ভাবে ট্যাক্সিতে উঠে কলকাতার বাইরে যেতে আমার কিছুমাত্র আপত্তি নেই; কিন্তু আমি শধে তোমার মাখের কথায় উপর নিভার করতে পারিনে।” “কিসে নিভার করতে পারেন ?” “শৈল নিজে হাতে আমায় চিঠি লিখলে আমার মনে আর কোনও সন্দেহ থাকে না।” ঝি একটা ভাবিয়া বলিল, “কিন্তু, তিনি কি চিঠি লিখতে রাজি হবেন ?” আমি বলিলাম, “তার হাতের চিঠি না পেলে আমি কিন্তু যাব না, একথা তাকে বোলো।” - ঝি বলিল, “আচ্ছা, বলে দেখি ; তিনি কি বলেন। আপনি কাল একবার—উহ: পরশন—পরশ ত শুক্লবার ; পরশন একবার আসবেন। তিনি কি বলেন, আপনাকে জানাব।” - ২৯শে ফালগুন। শৈল আমায় চিঠি লিখিয়াছে। প্রিয়তম কিংবা প্ৰাণেশ্বর এরূপ কোনও সম্ভাষণ তাহাতে নাই। কেবল মাত্র লেখা আছে— । - “শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় হেদায়ার পত্ৰব-দক্ষিণ কোণে ফুটপাথে দাঁড়াইয়া থাকিও। আমি ট্যাক্সিতে আসিয়া তোমায় তুলিয়া লইয়া যাইব । শ্ৰীমতী শৈলজাসুন্দরী গুপ্তা।” শৈলর সেই নাম স্বাক্ষরযন্ত ফলস্ক্যাপ কাগজের টাকরাটি বাহির করিয়া, হাতের লেখা মিলাইয়া দেখিয়াছি—সেই লেখা, সেই টান—কোনও প্রভেদ নাই ! এখানি তাহারই সরহস্তে লিখিত লিপি তাহাতে আর সন্দেহ নাই। হৃদয়! তুমি শান্ত হও—সখের অতিশয্যে ফাটিয়া যাইও না। আজ এখন রাত্রি ১uটা—আর ২২ ঘণ্টা। এ ২২ ঘণ্টা কি করিয়া কাট্রাইব জানি না। দেহ ক্ষণে ক্ষণে পলকে শিহরিয়া উঠিতেছে। আহাদে পাগলের মত হইয়াছি। কত আশা, কত কল্পনাই যে মনোমধ্যে উদিত হইতেছে ! ১৯শে ফালগন। - যদি এই মহত্তে রসাতলে যায় তাহাতেও আমার কিছুমাত্র আপত্তি নাই। সেই শনিবারের কাল-সন্ধ্যায়, যথাসময়ে আমি হেদয়ার পর্বে-দক্ষিণ কোণে ফন্টপথে গিয়া দাঁড়াইয়া ছিলাম। বিডন স্ট্রীটের দিক হইতে ট্যাক্সিও আসিয়াছিল, তাহাতে নীলাম্বরী বারাণসী পরিয়া একজন বসিয়াও ছিল, কিটাও নামিয়াছিল, আমিও ট্যাক্সিতে উঠিয়া বসিয়াছিলাম। ট্যাক্সি তখন কর্ণওয়ালিস স্ট্রীট দিয়া ধৰ্ম্মতলা পার হইয়া, গড়ের মাঠের দিকে ছটিল। ইডেন গাডেনের কাছাকাছি গিয়া ইচ্ছা হইয়াছিল বলি, “এই বাগানেই নামা যাক এস, বেশ নিরিবিলি পাওয়া যাবে।” কিন্তু গাড়ীতে কথা কহিতে বারণ, পাছে হিতে বিপরীত হয়, এই আশঙ্কায় নীরব রহিলাম। ট্যাক্সি গঙ্গার ধার দিয়া খিদিরপর অভিমুখে ছটিল। তাহার পর, কোথা দিয়া কোথায় যে গেল আমি কিছই নিণয় করিতে পারিলাম না। ওদিকটা আমি একেবারেই চিনি না। ক্ৰমে দেখিলম, দই ধারে খোলা মাঠ রাখিয়া ছটিতেছি। সরকারী পাকা রাস্তা, কিন্তু একেবারে নিজজন-রাতার পাশেব আলোকস্তম্ভও নাই। ট্যাক্সি আর থামিতে চাহে না। অনামান হইল প্রায় এক ঘণ্টা কাল আমরা ছটিতেছি। অবশেষে টাক্সি একটা বাগানের ফটকের কাছে থামিল। ভিতরে একটা বাগানবাড়ীর মত দেখা গেল, গাড়ীবারান্দায় আলো জলিতেছে। সে নামিয়া নিম্নস্বরে আমায় বলিল, “আসন।”—আমি কম্পিত বক্ষে নামিয়া তাহার অনুসরণ করিলাম। বাড়ীটার বারান্দায় উঠিবামার নীল শাড়ী ు లి ఆ .