পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মহত্ত মধ্যে অপসত হইল ; সভয়ে দেখিলাম, শিকারের খাকী পোষাক পরা পরষে মাত্তি —স্বয়ং প্রবোধ গুপ্ত—হতে চাবক। দেখিয়া আমার মাথাটা বন বন করিয়া ঘরিয়া উঠিল। পড়িয়া যাইবার ভয়ে আমি দেওয়াল ধরিলাম। বেশ কঝিতে পারলাম ঝি শয়তানী এই বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছে। প্রবোধ তখন মালী মালী বলিয়া চীৎকার করিতে লাগিল । মালী আসিয়া কক্ষদ্বার খলিয়া, ভিতরে অলো জালিয়া দিল। প্রবোধ কঠোরস্বরে আমায় বলিল, “এস।” মালীকে বলিল, “তুম আভি যাও।” আমি কম্পিত পদে ভিতরে প্রবেশ করিলাম। দরজা বন্ধ করিয়া একটা চেয়ারে বসিয়া প্রবোধ বলিল, “কি প্রেমিকবর ? প্রেম করবে ?” আমার মুখ দিয়া কথা সরিল না। আমায় কাঁপিতে দেখিয়া বলিল, “বস।" আমি একটা চেয়ারে বসিলাম। প্রবোধ বলিল, “পরের সন্ত্রীর প্রতি লোভ করলে, কি দণ্ড শাসের বিহিত আছে জান ? নাসিকা ও কর্ণচ্ছেদন।”—বলিয়া পকেট হইতে একটা বহৎ শিকারীর ছদ্রী (hunting knife) বাহির করিয়া তাহার ফলা খলিল । দেখিয়া, আমার আত্মাপর্ষ শুকাইয়া গেল। আমি কাঁদিয়া উঠিয়া হাত যোড় করিয়া বলিলাম, “আমায় মাফ করন, আমার কিছু দোষ নেই। আপনার স্ত্রীই আমায় চিঠি লিখে ডেকে পাঠিয়েছিল।" প্রবোধ হা হা করিয়া হসিয়া উঠিল। বলিল, “কই সে চিঠি?” “এই যে”—বলিয়া বকপকেট হইতে সেই অভিশপ্ত চিঠিখানা বাহির করিয়া আমি প্রবোধ গুপ্তের সামনে ফেলিয়া দিলাম। প্রবোধ তাহা খলিয়া বলিল, “তোমার বিশ্বাস, এই চিঠি শৈল তোমায় লিখেছে – নিবোধ ! এ আমার হাতের লেখা। দেখ।” বলিয়া বকপকেট হইতে ফাউন্টেন ে বাহির করিয়া কি লিখিয়া চিঠিখানা আবার আমার সামনে ফেলিয়া দিল। দেখিলাম, যেখানে শৈলর স্বাক্ষর ছিল তাহার নিনে বিতীয় বক্ষর হইয়াছে শ্ৰীমতী শৈলজাসন্দেরী গুপ্তা। একই লেখা । তখন বঝিলাম, সেই ফলস্ক্যাপের টুকরায় সেই স্বাক্ষরও ইহারই লিখিত। ঝি সব্বনাশী প্রথমাবধিই বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছে। প্রবোধ বলিল, “শোন বলি। ছেলেবেলায় একটি মেয়ের সঙ্গে খেলা করেছ বলেই, বড় হয়ে, বিবাহের পরও, সে মেয়ে—বিশেষ হিন্দরে মেয়ে—তোমার প্রেমে হাবড়ুব খাবে এ বিশ্বাস ত্যাগ কর। আমাদের বিবাহের পর, তোমার গল্প শৈল আমার কাছে করেছিল, ঢাকা থেকে ফিরে ইস্কুলের ঠিকানায় তুমি তাকে যে চিঠি লিখেছিলে—যদিও সে চিঠি সে দেখোন—সে চিঠির কথাও আমাকে বলেছিল। তারপর মধ্যপরে বেড়াতে বেরিয়ে একদিন আমায় বলেছিল, এই যে লোকটি গেল, ঐ সেই নিৰ্ম্মল। নিৰ্ম্মলের মনে যে এত ময়লা, তখনও আমি বাকতে পারিনি। ভেবেছিলাম, পাঁচজনের মত তুমিও মধ্যপরে পজোর ছটিতে শুধ বঝি বেড়াতেই এসেছ। তারপর পাজের নিমন্ত্রণের সঙ্গে তোমার সেই প্রেমের চিঠি শৈল আমায় দেখালে। সে প্রথমে রাজি হয়নি, আমারই পীড়াপীড়িতে 'সে বিজয়া দশমীর বিকালে নীলাবরী বারাণসী পরে বেড়াতে বেরিয়েছিল। আমি শুধ একটু আমোদ করবার জন্যেই শৈলকে দিয়ে ঐ কার্যটি করিয়েছিলাম? তার পর সাহস পেয়ে পাছে তুমি আর কোনও রকমে তাকে বিরক্ত কর, এই ভয়ে তারই অনুরোধে, পরদিন আমরা মধ্যপর ত্যাগ করি। তার পর, তুমি কলকাতায় এসে বির সঙ্গে দেখা করলে। ঐ বির মা, আমার মায়ের ঝি ছিল, এখন ও আমার স্ট্রীর ঝি, অত্যন্ত বিশ্ববাসী, সে এসে প্রথম দিনই তোমার সব কথা আমাদের দুজনের কাছে প্রকাশ করে। তুমি ঝির হাতে যে সমস্ত চিঠি পাঠাতে, ঝি আমাকে নিয়ে গিয়ে দিত। আমি কোন কোন দিন আমোদ ಘೀতই শনত না, ছটে পালিয়ে - 》e --