পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাচাই করিয়া দেখা কৰ্ত্তব্য। সে চলোয় যাক। তাঁহার হাতে যদি চব্বিশ টাকা মল্যের ছোট এক শিশি নাকিস দেখেন, অথবা তাঁহার পরিধানে যদি ষাট টাকা জোড়ার একখানা বেলেডাঙ্গার শাড়ী দেখেন, অথবা তাঁহার গলায় যদি খোদ হ্যামিলটনের বাড়ীর সাতশত টাকা মলোর একছড়া নেকলেস দেখেন, তবে কি আপনার জিজ্ঞাসা করা উচিত নয় যে, এগুলি আমি ত তোমায় কিনিয়া দিই নাই, তুমি কোথায় পাইলে ? অধিক আর কিছু লিখিতে চাহি না। চোখ কাণ খালিয়া রাখবেন এবং ভুলিবেন না যে, বড়া চাণক্য পণ্ডিত বলিয়া গিয়াছে, ওরপে সন্ত্রীর সহিত একত্র বাস, স-সপ গহে বাস করার তুল্য, এবং আত্মপ্রাণ রক্ষাথী যদি দার (স্ত্রী) পরিত্যাগ করিতে হয়, তবে তাহাও কৰ্ত্তব্য। ইতি— আপনার কোনও শুভাকাঙক্ষী বন্ধ পত্ৰখানা পড়িয়া ব্ৰজবাবর দেহের রক্ত যেন টগবগা করিয়া ফুটিতে লাগিল। মাথা বিষম ঘুরিতে লাগিল। উষার নিকট ছোট নাকিসের শিশি তিন দেখিয়াছেন বটে। সে উহা নিজে কেনে নাই তাও নিশ্চিত। কিনিলে, মাল্য চব্বিশ টাকার স্থানে সাড়ে তিন টাকা বলিত না; আন্দাজি বলিয়াছে। কিন্তু কই সে বেলেডাঙ্গার শাড়ী এবং হ্যামিলটনের বাড়ীর নেকলেস ত ব্ৰজবাব দেখেন নাই ! আছে নিশ্চয়ই আছে। যে ব্যক্তি নাকিসের কথা ঠিক লিখিয়াছে, শাড়ী ও নেকলেস সম্পবন্ধেও তাহার উক্তি ঠিক হওয়াই সম্পভব। উষার নিকট এত টাকা নাই যে, সে নিজে ওসব কিনিতে পারে। সতরাং, বেনামী পত্রোক্ত তাহার সেই লীলা-সঙ্গীরই ওগুলি উপহার। কে সে ব্যক্তি ? সেই হতভাগ্য লাহিড়ীই কি ? পত্রে পল্ট ইঙ্গিত রহিয়াছে, সে যে থিয়েটারে বায়সেকাপে গিয়াছিলাম বলে, তাহা মিথ্যা কথা,-অন্য কোথাও গিয়া তাহার প্রেমাপদের সঙ্গে মিলিত হয়। ব্ৰজবাব মনে মনে বলিতে লাগিলেন, “স-সপ গহে বাস” উল্লেখ করিয়া পত্রপ্রেরকআমাকে সাবধান করিয়াছে। আমার প্রাণহানি করাও কি পাপীয়সীর উদ্দেশ্য নাকি ? আশ্চৰ্য্য নহে। কারণ লাহিড়ী অবিবাহিত, আমি মরিলেই উহাদের “বিধবা বিবাহ” হইতে পারবে। এরপে ক্ষেত্রে আমার কি করা উচিত ? উহাকে খন করিয়া পাপের উপযুক্ত প্রতিফল দিয়া, নিজে ফাঁসি যাইব ? না, সন্ন্যাসী হইয়া সংসারাশ্রম ত্যাগ করিব ? এই সময়ই ব্ৰজবাব পীনাল কোড আনাইয়া, খানের ধারা পাঠ করিয়াছিলেন, তাহা পবেই বর্ণিত হইয়াছে। ৷৷ চতুর্থ পরিচ্ছেদ ॥ এই প্রকার নানা চিন্তায় ব্রজবাবর দিন কাটিতে লাগিল। এই সময়ে কলেজ মহলে সংবাদ রচিল, কোম্প্রজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গভাষা শিক্ষা দিবার জন্য একজন অধ্যাপক আবশ্যক, একজন উপযুক্ত লোক নিববাচন করিয়া পাঠাইবার জন্য কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে তাঁহারা অনুরোধ করিয়া পঠাইয়াছেন। এই কথা শুনিয়া, ব্ৰজবাবর মনে হইল, এই কাৰ্য্যটি যদি যোগাড় করতে পারা যায়, তবে সমস্ত সমস্যারই মীমাংসা হইয়া যাইতে পারে। সত্রীকে খনও করিতে হয় না, নিজেকে সন্ন্যাসীও হইতে হয় না। সত্রীকে তাহার পিত্রালয়ে রাখিয়া, বিলাতে গিয়া, আর লা ফিরিয়া আসিলেই হইল। অনেক সহি সুপারিশ যোগাড় করিয়া, ব্ৰজবাব গিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃত্তা মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। কত্তা বলিলেন, “এ কাযের উমেদার বড় নেই। দেশ ছেড়ে, সত্ৰী পত্র পরিজন ছেড়ে, কেউই চিরদিন বিলাতে গিয়ে থাকতে চায় না। প্রেসিডেন্সি কলে- ' 令》