পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তুমি জন্মাওনি। কুমিল্লা জেলায় অনেক স্থানেই আমি টরে করে বেড়িয়েছি। কোন জায়গায় তোমার বাড়ী বল দেখি ?” এই বদ্ধ পর্বে একজন ডেপুটি ম্যাজিষ্টেট ছিলেন শনিয়া বিনোদের মনে একট সম্প্রম উপস্থিত হইল। উত্তর করিল, “আজ্ঞে আমাদের বাড়ী সুবর্ণগ্রাম।” < বদ্ধ বলিল, “সবণগ্রাম। কই মনে করতে পারছিনে।" f অতঃপর তিনি বিনোদকে তাহার পারিবারিক অবস্থা সম্বন্ধে এক আধটি করিয়া প্রশন করিতে লাগিলেন। ক্লমে তাহার উপস্থিত সঙ্কটের বিষয় সমস্তই অবগত হইয়া বলিলেন, “এই জন্যে তুমি কাঁদছিলে ?” এবার বিনোদের আত্মাভিমানে আঘাত লাগিল। সে একটা গবিবতি ভাবেই বলিল, “না, সেজনো আমি কাঁদিনি। আমার মাকে মনে পড়েছিল, তাই চোখে জল এসেছিল।” এতক্ষণে দিবালোক প্রায় নিভিয়া আসিয়াছিল। বেঞ্চখানিতে পথান রহিয়াছে দেখিয়া, অপর দুইটি লোক আসিয়া তথায় উপবেশন করিল। বন্ধ দেখিলেন, সেখানে কথাবাত্তার আর সুবিধা হইবে না। বলিলেন, “আমার সঙ্গে তুমি আসবে ? কাছেই আমার বাড়ী, iবশী দরে নয়। তোমার সঙ্গে আরও কথা আছে।” অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যাইতে প্রথমে বিনোদের মনে একটা বিধা উপস্থিত হইল। তারপর সে ভাবিল, "ইনি গাড়াও নন, আমার কাছে টকাকড়িও নেই, তবে আর ভয়টা কিসের?” বলিল, “বেশ ত, চলন।” বন্ধু উঠিয়া ধীরপদে বাগানের বাহির হইলেন, বিনোদ তাঁহার অনুসরণ করিল। পথে যাইতে যাইতে বদ্ধ বলিলেন, “আমার পরিচয় তোমায় এখনও দিইনি। আমার নাম শ্রীকেদারনাথ সরকার, আমরাও কায়স্থ। পাবে গভর্ণমেন্টের চাকরি করতাম, বছর পাঁচ ছয় হ’ল পেন্সন নিয়েছি। দেশে শরীর ভাল থাকে না, তাই কলকাতাতেই থাকি।" বিনোদ নীরবে কেদারবাবর পশ্চাৎ পশ্চাৎ মাণিকতলা ষ্ট্ৰীট দিয়া চলিল, ক্লমে একটি গলির মধ্যে প্রবেশ করিল। বাবটি এক বাড়ীর দরজায় দাঁড়াইয়া, কড়া নাড়িতে লাগিলেন। উপর বারান্দা হইতে তরণী কণ্ঠে শব্দ হইল, "কে?" কেদারবাব বললেন, “আমি মা, দরজাটা খুলে দিয়ে যাও।” অন্ধ মিনিট পরে, দরজা খলিবার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চারিত হইল, “বাবা, আজ যে এত দেরী ?” বিনোদ দেখিল লন্ঠন হতে একটি মেয়ে ; পিতার সহিত একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখিয়া, সঙ্কুচিত হইয়া এক পাশে দাঁড়াইল! - "এই বাবটির সঙ্গে কথা কইতে কইতে আজ একটু দেরী হয়ে গেল মা। এস হে বিনোদ ।”—বলিয়া কেদারবাব ভিতরে প্রবেশ করিলেন। বিনোদ প্রবেশ করিলে, কেদারবাব দরজায় খিল বন্ধ করিলেন। মেয়েটি লন্ঠন লইয়া অগ্রসর হইল, দুইজনে তাহার পশ্চাৎ সিড়ি দিয়া উপরে উঠিতে লাগিলেন। বন্ধ বিনোদকে লইয়া একটি কক্ষে প্রবেশ করলেন, মেয়েটি অপর দিকে চলিয়া গেল। বিনোদ দেখিল কক্ষটি ক্ষুদ্র, তাহার এক পাবে একটা তত্ত্বপোষের উপর ফরাস বিছানা পাতা, তাহার উপরে দইটা তাকিয়া বালিস, অপর পাবে একটি ক্ষুদ্র টেবিলের নিকট দই “রাধে !” বিনোদ মনে করিয়াছিল, যে মেয়েটি লণ্ঠন দেখাইয়া আনিয়াছিল তাহারই নাম বঝি রাধে। কিন্তু দেখিল, সধববেশিনী গৌরবণা নাতিস্থলা এক রমণী, বয়স বোধ হয় চল্লিশ হইবে, প্রবেশ করিয়া মাথায় কাপড় টানিয়া দাঁড়াইলেন। কেদারবাব বলিলেন, “রাধে, এর নাম বিনোদবাবা-বিনোদবিহারী দত্ত, আমাদের কায়স্থ । ল কলেজে পড়ছেন। আজ হেদোর ধারে আলাপ হল, তাই কথাবাত্তা, কইবার জন্যে সঙ্গে করে এনেছি।” নিয়ে দকটু বলে “ইনি আমার সী।” .