পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"সকালবেলা। আর, এ কটা দিন পরে ত কলেজের ছটিই হয়ে যাচ্ছে।” “তা হলে, তোমার মত কি বল।” বিনোদ বলিল, আপনি যখন এই সঙ্কটে আমায় উদ্ধার করছেন—আপনার আদেশ আমি শিরোধায্য করলাম।” “আচ্ছা বেশ। তা কাল থেকেই এস। ইংরেজি, সংস্কৃত আমি নিজেই ওকে পড়াই। এই সন্ধের পর, চা খেয়ে ওকে নিয়ে রোজ বসি । বিকেলে চারটে থেকে পাঁচটা পয্যন্ত অঙ্কটা তুমি কষিও—অঙ্কে ও একটু কাঁচাই আছে। বস, টাকাটা আমি নিয়ে আসি।”— কয়েক মিনিট পরেই পাঁচখানি নোট আনিয়া তিনি বিনোদের সম্মখে রাখিলেন। বিনোদ টাকা কয়টি উঠাইয়া লইল। নিজ হৃদয়ের উচ্ছসিত কৃতজ্ঞতা অত্যন্ত অসম্পন্ণভাবে প্রকাশ করিয়া, নমস্কারান্তে বিদায় গ্রহণ করিল। বাসায় পেশছিয়া দেখিল, দেশ হইতে তাহার এক বন্ধর পত্র আসিয়াছে। যে জমিদারের এস্টেট তাহার খড়া মহাশয় চাকরি করিতেন, সেই জমিদার কর্তৃক আনীত তহবিল তছরপের মোকদ্দমায় তাহার খড়া মহাশয়ের দেড় বৎসর জেল হইয়া গিয়ছে। পত্র পড়িয়া বিনোদ একটি দীঘনিশ্বাস ফেলিয়া ভাবিল, খুব সময়েই কেদারবাবর ন্যায় দয়াল পরোপকারী মহাত্মার দশন সে পাইয়াছিল, নাহলে ত তাহাকে অথই জলে পড়িতে হইত ! l ○ 嵐 পরদিন বিনোদ তাহার নতন ছাত্রীকে পড়াইতে গেল। কেদারবাব অধ্যাপনা সম্বন্ধে উপযুক্ত উপদেশাদি দিয়া, তাঁহার নিয়মিত হেদয়া-ভ্রমণে বহির্গত হইলেন। পাঁচটা বাজিলে, অলকার মা তাহাকে চা ও জলখাবার আনিয়া দিলেন। প্রথমে কিঞ্চিৎ আপত্তি উত্থাপন করিয়া, অবশেষে জলযোগ সমাপনন্তে বিনোদ বাসায় ফিরিয়া আসিল । এইরুপ দিনের পর দিন চলিতে লাগিল—এবং এ বয়সে এরুপ সান্নিধ্যের ফল যাহা হইবার তাহাই হইল। বিনোদের প্রথমে মনে হইল, তাহার ছাত্রীর স্বভাবটি বড় মধরে । তার পর মনে হইল তাহার দেহের গঠন-বিশেষতঃ চক্ষ দুইটি—বড়ই সন্দের ; মেয়েটি যেরপ রুপবতী, বাঙ্গালীর ঘরে সেইরুপ সচরাচর দেখা যায় না। তার পর মনে হইতে লাগিল, তাহার কন্ঠস্বরটি বড় মিষ্ট, শুনিলে আবার শনিতে ইচ্ছা করে। তার পর মনে হইতে লাগিল এ মেয়ে যাহার গৃহলক্ষম হইবে, তাহার তুল্য সৌভাগ্যবান পর্ষ এ জগতে দলভ। তাহার পর বিনোদ হঠাৎ আবিষ্কার করিয়া বসিল, অলকাকে সে অতিশয় ভালবাসিয়া ফেলিয়াছে । কেন না, যতক্ষণ জাগিয়া থাকে, তাহার চিন্তা এক দন্ড মন হইতে অন্তহিত হয় না। তাহাকে ত চাই—নহিলে জীবনটি যে একান্ত বিবাদ হইয়া যাইবে। এখন উপায় ; এ অবস্থা, মাসখানেকের মধ্যেই উপস্থিত হইল। এ পর্য্যন্ত কিন্তু সে অলকার কাছে নিজ মনোভাব কিছুমাত্র প্রকাশ করে নাই। পড়ার সময় অলকার মা প্রায়ই কাছে আসিয়া বসিতেন। কেদারবাবরে সহিত সাক্ষাৎ সব দিন তাহার হইত না ; যে সময়ে সে অলকাকে পড়ায়, সেই সময়টাই তাঁহার হেদয়া 'ভ্রমণের জন্য নিদ্ধারিত। মাসখানেক পরে একদিন পড়াইতে গিয়া শুনিল, অলকা বাড়ী নাই ; তাহার পিতা }তাহকে একটা ইংরাজি থিয়েটারের বৈকালিক অভিনয় দেখাইতে লইয়া গিয়াছেন। অলকার মা আসিয়া, পড়িবার ঘরে বিনোদের কাছে বসিলেন। প্রথমে অলকার পড়াশনার প্রসঙ্গেই কথাবাত্ত হইল ; তারপর হঠাৎ তিনি বলিয়া বসিলেন, “হ্যাঁ বাবা, তোমার ত বয়স হল, বিযে-থাওয়া করবে না ?” বিবাহের প্রসঙ্গে বিনে,দের লজা হইল। সে মাথাটি নীচ করিয়া বলিল, “আমার অবস্থা সবই ত জানেন ৷” "অবস্থা কি চিরদিন মানুষের সমান থাকে ? আজ বাদে কাল তুমি পাস করবে— סיצלי مرا ----۹