পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিনোদ তখন তাহার টাসনি জটিবার ইতিহাসটুকু বলিল। গতকল্য বাহা খটিয়াছে, তাহা গোপন রাখিল । শনিয়া প্রকাশ হাসিতে লাগল। বলিল, “উঃ, বড়ো কি কম চালাক ! কেমন কৌশলটি করেছে দেখ। যুবতী মেয়েটা, তাকে পড়াবার জন্যে চব্বিশ বছরের একজন অবিবাহিত যবেক ছাড়া আর অন্য মাস্টার খাঁজেই পেল ন! শাস্ত্রের কথা ঘি আর আগন—বেশ জানে ; কিছুদিনেই দুজনে দজনার প্রেমে হাবড়ুব খাবে ; তখন তুমি বলবে ওকেই আমি বিয়ে করব,—জাতফাৎ আমি ডোনেটা কেয়ার করি। আচ্ছা, তোমায় গাঁথবীর জন্যে মেয়েটাও বোধ হয় খুব উঠে পড়ে লেগেছে ?” তখন অলকার সরলতামণ্ডিত শান্ত সংযত সন্দের মুখখানি বিনোদের মনে পড়িল । একট, উমার সহিতই সে বলিল, “ছিঃ—এক মহত্তের জন্যেও সে তা করেনি।” প্রকাশ বলিল, “করেনি, করবে। এই ত সবে মাসখানেক যাতায়াত করছ বইত নয়! আগে লোহা বেশ করে লাল হোক, তখন ত পিটবে। সাধন সাবধান! আচ্ছা, রাত প্রায় পাইয়ে এল, এখন তুমি একটা শোও ভাই। আমি কিঞ্চিৎ নিদ্রার চেষ্টা দেখি ”— বলিয়া প্রকাশ বাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করিল। It & ll বাকী রাতটুকু বিনোদ ছটফট করিয়াই কাটাইল—নিদ্রাদেবীর কৃপালাভের জন্য সে একটও ব্যস্ত ছিল না। আর একট হইলেই ত না জানিয়া সে একজন ভ্রাট রমণীর কন্যাকে বিবাহ করিয়া ফেলিয়াছিল! ছি ছি, তাহা হইলে কি কেলেণ্ডকারীটাই হইত বল দেখি ! কেদারবাবর উপর তাহার অত্যন্ত রাগ হইতে লাগিল। তিনি যে বাড়ী লইয়া গিয়া জলখাবার খাওয়াইয়া তাহাকে টাকা দিয়াছিলেন, সেটা তবে দয়া-ধর্মের অনুরোধে নহে, তাহা সবাথপরতা-প্রসত একটা গভীর ষড়যন্ত্র মাত্র ! দেশ হইতে এখন খড়িমা তাহাকে দই মাসের টাকা পাঠাইয়াছেন। বিনোদ ভাকিল, কেদারবাবর পঞ্চাশ টাকাই সে মণিঅড়ার যোগে তাঁহাকে ফেরৎ পাঠাইয়া দিবে এবং কুপনে লিখিয়া দিবে, সমস্তই সে জানিতে পারিয়াছে—ধৰ্ম্মম ভ্রমটার কন্যাকে সে বিবাহ করিতে পরিবে না-ডেপটিগিরির লোভেও নয়। কিন্তু অলকার মুখখানি মনে পড়িবামার, তাহার বকের মধ্যে দারুণ বেদনা বাজিয়া উঠিল। অলকার মা বাপের অপরাধ যতই গরে হউক, অলকার কি দোষ ? হয়ত সে জানেও না যে তাহার জনক জননীর সম্মবন্ধটা অবৈধ—অপবিত্র। আর পাঁচজনের মা বাপ যেমন, তাহার মা বাপও তেমনি, ইহাই সম্ভবতঃ বালিকার বিশ্ববাস। তবে, তাহার কি অপরাধ ? অলকার 'মা যাহা ইঙ্গিতে বলিয়াছেন তাহ যদি সত্য হয়—তাহা সত্যই ত ! সে বিষয়ে বিনোদের মনে ত কিছমাত্র সন্দেহ নাই—তবে এইরুপ নিষ্ঠুরভাবে প্রত্যাখ্যানে—এই অপমানে তাহার বকটি কি ভাঙ্গিয়া যাইবে না ? একজনের অপরাধে আর একজন সম্পণে নিরীহ প্রাণীকে শাসিত দেওয়া কি ঘোর অধৰ্ম্ম নহে? অরি, শধ্যেই কি তাহাকে শাসিত দেওয়া ? নিজেকেও ত সেই শাসিত চিরজীবন ভোগ করিতে হইবে। এই আত্মনিৰ্য্যাতনই বা কিসের জন্য ? কিন্তু এ ভাব তাহার মনে বেশীক্ষণ আধিপত্য করিতে পারিল না। কেদারবাবর উপর আবার তাহার বিষম রাগ হইতে লাগিল ;–কেন তিনি এরূপ ভাবে তাহাকে ঠকাইতে চেষ্টা করিলেন ? তাঁহাকে মহদন্তঃকরণ লোক বলিয়াই ত ধারণা ছিল—কিন্তু তিনি এত নীচ—ছি ছি ছি! বিনোদ মনে মনে বলিতে লাগিল—”এইবার বকতে পেরেছি, হিন্দঘরের অতবড় মেয়ের এতদিন বিবাহ হয়নি কেন –এইবার বুঝতে পেরেছি, দেশে কেন বাবর থাকা হয় না-ছেলেরাই বা অন্য জায়গায় থাকে কেন, বড়ো মিন্সে-দ্ধি ছি। অৰায় ভক্তি

  • - * "من دلا -