পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আটকাইয়া পড়ারই বা কি কারণ ঘটিতে পারে? যদি হঠাৎ অসুখ বিসখ করিয়া থাকে, তবে তাহারা কি এতক্ষণ খবর দিত না ? তিন কত্তায় এবং বড়গিন্নীতে মিলিয়া অনেকক্ষণ পরামর্শ হইল, কিন্তু এই রাত্রে, “আমাদের ছোটবউ তোমাদের বাড়ীতে আছে কি ?”—এ সন্ধান লইতে প্রতিবেশীদের গহে লোক পাঠানো কাহারও মত হইল না—কারণ, আর একটা অব্যক্ত আশঙ্কা সকলের মনে জাগিতেছিল, এখন এ সম্বন্ধে কোনও রপে গোলযোগ করা নিতান্ত নিববন্ধিতার কাৰ্য্য হইবে। তবে কুণ্ডকুমের পিরালয়ে গোপনে লোক পঠাইতে আপত্তি নাই—এবং নিশ্চয়ই ছোটবউ কোনও গণ্ডা বা ডাকাইতের হাতে পড়িয়াছে; পলিশে সংবাদ দেওয়া আবশ্যক; কিন্তু তাহার মতে কেহই মত দিল না। . রারি দইটার সময় কুঙ্কুমের পিত্ৰালয় হইতে লোক ফিরিয়া আসিয়া সংবাদ দিল, কুঙ্কুম সেখানে যায় নাই। . - - గ్రీ II সে রাত্রে বাড়ীর অনেকেই আপন শয্যায় গেল না। যে যেখানে পাইল পড়িয়া রহিল। বিষম দংশ্চিন্তা ও মানসিক উদ্বেগে রারি শেষ হইল। শেষরাত্রে বড়কত্তা মহাশয় ঘামাইয়া পড়িয়াছিলেন। হঠাৎ তাঁহার নিদ্রাভঙ্গ হইল— হল তাঁকে ভঙ্গিল “বড়দা—বড়দা উঠন। ছোটবউয়ের সন্ধান পাওয়া, rগয়েছে।” বড়কত্ত ধড়মড় করিয়া উঠিয়া বসিয়া বলিলেন, “অ্যাঁ--অ্যাঁ ? কোথা ?” ছোটকত্তা মথখানা পেচকের মত গভীর করিয়া বলিলেন, “আমার কথা তখন কেউ ' শনলেন না। কে তাকে হত্যা করে, গোয়ালবাড়ীর ছাদের উপর লাস তুলে রেখে চলে “অ্যাঁ! লাস তুলে রেখে চলে গেছে ? খন করেছে ? কি সব্বনাশ–তুমি কি করে জানলে ?” ছোটকত্তা বলিলেন, “এইমাত্র আমি গাড়টি হাতে করে, মখ হাত ধোবার জন্যে পকেরঘাটের দিকে যাচ্ছিলাম। গোয়ালবাড়ীর কাছে গিয়ে দেখি ছাদের আলসের উপরটায় একখানা শাড়ীর অচিল ভোরের হাওয়ায় ফর ফর করে উড়ছে। পাড় দেখেই আমি চিনতে পারলাম, ও শাড়ী ত গত মাসে আমিই ওর জন্যে কিনে এনেছিলাম।” বড়কত্তা কাপড় পরিতে পরিতে পালক হইতে নিনে অবতরণ করিয়া বলিলেন, “শধ শাড়ী দেখেছ? তবে লাসের কথা বললে যে ” ছোটকত্তর্ণ অত্যন্ত বিজ্ঞোচিত ভাব ধারণ করিয়া কাঁহলেন, “শধে কাপড়খানা ছাদের উপর উঠবে কি করে বড়দা ? কাপড় যখন রয়েছে, তখন লাসও নিশ্চয়ই ছাদের উপর আছে-এই সবই ত ক্ল, কিনা! লাসটা আলসের জন্যে দেখা যাচ্ছে না।” “চল চল, ছাদে উঠে ত দেখা যাক।” ছোটকত্তা বলিলেন, “না দাদা, অমন কাজটি করবেন না। এখন প্রথম কৰ্ত্তব্য পলিশে খবর দেওয়া। লাস যে অবস্থায় আছে ঠিক সেই অবস্থায় পুলিশ এসে দেখকে। এই হচ্চে নিয়ম--তবে ঠিক সরতহাল হবে, ডিটেকটিব এসে ক্লমে খনের কিনারা করবে। ছদে এখন আমাদের কার্য ওঠা উচিত নয়।” বড়কত্তা বলিলেন, “আরে না না—কি বল তুমি ! চল চল, ছাদে উঠে আগে আমরা দেখি গিয়ে।” বলিয়া কত্তর্ণ শাখা-পায়েই ছটিলেন। বাড়ীর অপর কেহ তখনও জাগে নাই—এমন কি ভূত্যেরাও ঘুমাইতেছে। মেক ভাইকেও জাগাইয়া তিনজনে উঠানে নামিলেন। উঠান পার হইয়া গোহাল বাড়ীর ১২৩