পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিকটবৰ্ত্তী হইয়া, সকলে দেখিলেন ছাদের আলিসার উপর একখানা শাড়ীর প্রাক্তভাগ ঘাতাসে উড়িতেছে বটে। কিছু দরেই একখানা মই পড়িয়ছিল। মেঝকত্তা সেখানা টানিয়া আনিয়া, ছাদে লাগাইয়া তাঁহাতে উঠিয়া পড়িলেন। তিনি উপরে উঠিলে, বড়কত্তা জিজ্ঞাসা করিলেন, কি দেখছ ?” মেঝকত্তা বললেন, “ছোট বউমাই ত বোধ হচ্চে।” ছোটকত্তা জিজ্ঞাসা করিলেন, “রন্থের চিহ্ন আছে ?” মেঝকত্তর্ণ উত্তর করিলেন, “কই, সে রকম ত কিছু দেখছিনে।” “ও বঝেছি, তা হলে অসাঘাত করেনি। বিষ প্রয়োগ কিবা গলা টিপে মেরেছে।” —বলিয়া তিনিও মই বাহিয়া ছাদে উঠিয়া পড়িলেন। পশ্চাৎ পশ্চাৎ বড়কত্তাও কস্টেসটে উঠিলেন। তিনজনে দাঁড়াইয়া লাসের পানে একদটে চাহিয়া রহিলেন। হঠাৎ বড়কত্তা বলিলেন, “ওহে, নিঃশেবস পড়ছে যে !" বলিয়া তিনি উচ্চস্বরে ডাকিলেন, “ছোট বউমা ! ও ছোট বউমা !” এই শব্দে, লাস পাশ ফিরিল, চক্ষ মেলিল, এবং তিন শবশরকে তথায় সমবেত দেখিয়া, ধড়মড় করিয়া উঠিয়া বসিয়া, মাথায় ঘোমটা টানিয়া দিল। . বড়কত্তা বলিলেন “নারায়ণ । নারায়ণ! শ্ৰীগর রক্ষা করেছেন। ওঃ”—বলিয়া জই হতে মন্তক ধারণ করিয়া সেইখানেই বসিয়া পড়িলেন। বসিয়া ছাদের ইতস্ততঃ দৃষ্টিপাত করিতে লাগিলেন। দেখিলেন বহুসংখ্যক আমের অাঁঠি ও খোলা পড়িয়া রহিয়াছে—কতক বা শতক ও পরাতন কতকগুলি বা সদ্যোভুক্ত। দেখিয়া তিনি এই “গুপ্ত রহস্যের" সত্ৰ পাইলেন। মেঝকত্তা ক্ৰোধের স্বরে বললেন, “বউমা, তুমি এখানে এলে কি করে ?” বউ নীরব—বেশী করিয়া ঘোমটা টানিয়া দিল। বড়কত্তা তখন উঠিয়া দাঁড়াইলেন। বলিলেন, “সে সব কৈফিয়ৎ পরে হবে এখন । আমি সমস্তই বুঝতে পেরেছি। এখন তোমরা সব নামো দেখি। আমিও নেমে যাচ্চি । তারপর বউমা, তুমি আস্তে আস্তে, খুব সাবধানে নেমে এস। কিছু ভয় নেই তোমার মা ! কেউ তোমায় বকবে না, কিচ্ছ বলবে না। বাড়ীর লোক এখনও কেউ ওঠেনি ---এইবেলা নেমে এস, কেউ দেখতে পাবে না।” মেঝকত্তা ছোটকত্তা নামিলেন, তৎপশ্চাৎ বড়কত্তাও নামিয়া গেলেন। মই নামিতে বউমা পাছে পড়িয়া যান, এই আশঙ্কায় মেঝকত্ত একটু আড়ালে দাঁড়াইয়া অপেক্ষা করিতে যাইতেছিলেন। বড়কত্তা তাঁহার হাত ধরিয়া টানিয়া বললেন, “এস এস, কিচ্ছ: : ও সব ওদের অভ্যাস আছে।” ভাইদের লইয়া তিনি গাহের ভিতর প্রবেশ | বড়দাদার আচরণ ও কথাবাত্তা উভয় ভ্রাতার নিকট প্রহেলিকার মত বোধ হইতেছিল। তাঁহারা অবাক হইয়া, প্রশ্নপণ দটিতে জ্যেঠের পানে চাহিয়া রহিলেন। . বড়কত্তর্ণ তখন বলিলেন, “কাল বিকেলবেলা, আমি যখন বাগানে যাচ্ছিলাম, দেখলাম মইখানা গোয়ালের পিছনে লাগানো রয়েছে। দেখে বললাম, মইখানা এখানে কে এনে রাখলে রে। কেস্টাকে ডেকে সেখানা সরিয়ে ফেললাম। তখন কি জানি যে ছোট বউমা সেই মই দিয়ে ছাদে উঠে বসে আছেন!” এত বড় একটা “রহস্য” এত সহজে মীমাংসা হইয়া ষায় দেখিয়া ছোটকত্তর্ণ ক্ষয় স্বরে জিজ্ঞাসা করিলেন, “মই দিয়ে ছোট বউমা গোয়ালের ছাদেই বা উঠতে যাবেন কেন ?" বড়কত্ত বলিলেন, “কেন ? আমার পিন্ডি চটকাতে, আর কেন ? আম খেতে উঠেছিল বোধ হয়। জন্ম ও আন মৃত্যু আর আট হানা য়াছ খেলা" - "ృషి -