পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অবশেষে সন্ধ্যা হয় দেখিয়া বাবটি উঠিলেন ; বললেন, “আচ্ছা, তা হলে, পরশ —পরশ বিকেলে আর একবার খবর নিয়ে যাব। এখন আসি তা হলে—প্রণাম।” “জয়োহসতু" বলিয়া জ্যোতিষী মহাশয় তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে সদর দরজার বাহির হইয়া দাঁড়াইলেন। পর্বের্ণক্ত টেড়িকাটা চক্ষয়-বসা যুবক, রাস্তার অপর পারে পাণের দোকানের নিকট দাঁড়াইয়া বিড়ি টানিতেছিল। জ্যোতিষী মহাশয়ের সহিত চোখাচোখি হইতেই সে একটু হাসিল। বালটি অলপ দর অগ্রসর হইলে, জ্যোতিষী মহাশয় একটা ইতিগত করিলেন। সেই যুবক তৎক্ষণাৎ বাবটির পিছ লইল। জ্যোতিষী মহাশয় দরজা বন্ধ করিয়া উপরে গেলেন। - প্রায় এক ঘণ্টা পরে সেই যবেক ফিরিয়া আসিয়া জ্যোতিষী মহাশয়ের সদর দরজার কড়া নাড়িল। জ্যোতিষী মহাশয লণ্ঠন হতে নামিয়া দরজা খালিয়া দিয়া যবেককে ভিতরে ডাকিলেন। সে ভিতরে আসিলে, দরজাটি ভেজাইয়া দিয়া নিম্নস্বরে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি রে কেবলা, কিছু সন্ধান পেলি ?” যবেকের নাম কেবলরাম। সে দন্তবিস্তার করিয়া হাসিয়া বলিল, “আজ্ঞে, সব সন্ধানই নিয়ে এলাম। আপনার ছিচরণ আশীব্বাদে, এই কেবলরামের অসাধ্য কি কিছ আছে ?” “কি সন্ধান পেলি বল দেখি !" কেবলরাম মাথাটি এক ধারে নত করিয়া বলিল, “আজ্ঞে, টাকা দটো ?” জ্যোতিষী একটা বিরক্তির সহিত বলিলেন, “আগে টকা . নিয়ে তবে কথা বলবি ? পাড়ার ছেলে তোরা, আমাকে এত অবিশ্বাস ?” কেবল বলিল, “হেহে অবিশ্বাসের কথা কে বলছে ? তবে আজ টাকা দটোর বিশেষ প্রিয়জন, ঠাকুর মশায়। আগে রাত লাটা অবধি খোলা থাকত, আজকাল আবার শালারা ৮টা বজলেই দোকান বন্ধ করে দেয়। তখন পানওয়লার দোকান থেকে ডবল দাম দিয়ে জলমিশানো কিনতে হয়। সাতটা বেজে গিয়েছে কিনা, তাই বলছি।” কেবলরামের এই পাট ও নিভৰ্শক উক্তি শ্রবণ করিয়া, একটা হাসিয়া, তাহাকে অপেক্ষা করিতে বলিয়া জ্যোতিষী মহাশয় উপরে চলিয়া গেলেন। ফিরিয়া আসিয়া কেবলরামের হতে দুইটি টাকা দিয়া বলিলেন, “এই ঘরটার মধ্যে আয়।”—বলিয়া তাহাকে বৈঠকখানায় ডাকিলেন । কেবলরাম টাকা দুইটি টেকে গজিতে গজিতে বৈঠকখানা ঘরে প্রবেশ করিল। জ্যোতিষী মহাশয় লণঠনটি টেবিলের উপর রাখিয়া, চেয়ারে বসিয়া বলিলেন, “কি কি জেনে এলি বল দেখি। খাব আস্তে আস্তে কথা কোস।” কেবল তাঁহার অতি নিকটে গিয়া দড়িাইয়া ফিস ফিস করিয়া বলিল, “তাঁর নাম হরিহর মিত্তির। টন্নি বাড়ীতে চাকরী করে। ১oo, মাইনে পায়। শ্যামবাজারে ৩২নং কাল ঘোষের লেনে থাকে। নিজের বাড়ী নয়, ভাড়া বাড়ী। যা যা জানতে চেয়েছিলেন, দেখন, সবই জেনে এসেছি।” জ্যোতিষী বলিলেন, “ঠিক খবর পেয়েছিস ত ? ভুলটল হয়নি ?" - কেবল বলিল, “আজ্ঞে না, ভুল হবার যো কি ? সেই পাড়ার ৩ ৪ জন লোককে জিজ্ঞাসা করে জেনে এসেছি।”—হঠাৎ কক্ষপিথত ঘড়ির দিকে নজর পড়ায় বলিল, “উঃ, সাড়ে সাতটা যে ! এখন আসি তবে ঠাকুর মশায়—প্রেণাম।” বলিয়া দবারের দিকে অগ্রসর হইয়া, আবার ফিরিয়া নিকটে আসিয়া চুপি চপি বলিল, একটা কথা জিজ্ঞাসা করি। তাকে প্রেহার ট্রেহার দিতে হবে কি ? তা যদি দরকার হয় ত বলবেন । কিন্তু সে ১০ টাকার কমে হবে না, আরও ২ ১ জন সঙ্গে নিতে হবে কিনা !” - জ্যোতিষী বুলিলেন, “না, সে সব এখন কিছয় দরকার নেই।” ”আচ্ছা—যদি দরকার হয় ত পরে জানাবেন। আমরা আপনার হকুমের চাকর। চল্লম তবে প্রেণাম।”—বলিয়া কেবলরাম দ্রুতপদে প্রস্থান করিল। - ১২৯ چیے۔ 9\