পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিয়া হরিহরবাব অত্যন্ত খসী হইয়া উঠিলেন। বললেন, “ঠাকুর, আপনার আশীব্বাদে ঠিক লোকটি পেয়েছি এবার। এতদিনে আমার চেষ্টা সফল হ’ল।”—বলিয়৷ ভদ্রলোক, জ্যোতিষী মহাশয়ের টেবিলের উপর পাঁচ টাকার একখানি নোট প্রণামী স্বরাপ অপণ করিয়া হাসিমুখে প্রস্থান করিলেন। o জ্যোতিষী মহাশয় দেরাজের গুপ্তস্থান হইতে নকলটি বাহির করিয়া একবার তাহ। পাঠ করিলেন, তার পর, সেখানি হাতে লইয়া উপরে গিয়া ডাকিলেন, “ওগো, একটা কথা শুনে যাও।” গহিণী আসিয়া দাঁড়াইতেই চাপি চপি বলিলেন “হরিহর যাকে খুজছিল, তার চিঠি এতদিনে এসেছে। এই দেখ।”—বলিয়া নকলখানি তাঁহার হস্তে দিলেন। পত্ৰখানি এই ঃ– বেঙ্গলী মেস—মোরাদপুর বাঁকীপর মহাশয়, বিশবদত সংবাদপত্রে আপনার প্রদত্ত বিজ্ঞাপনটি পাঠ করিলম। তদত্তরে লিখিতেছি আমি আজন্ম পিতৃহীন। আমার পিতা বরদাচরণ ঘোষ মহাশয় সিমলা-শৈলে বড় লাটসাহেবের দপ্তরে চাকরি করিতেন, আমার মাতাঠাকুরাণী নদীয়া জিলায় মুকুন্দপুর গ্রামে আমার মাতুলালয়ে ছিলেন, আমি ভূমিষ্ঠ হইবার দই মাস পর্বে সিমলা-শৈলে জর ও নিউমোনিয়া রোগে আমার পিতৃদেবের দেহান্ত হয়। আমার জন্ম তারিখ জানি না, সন ১৩oo সাল বৈশাখ মাস, এইটুকুমাত্র জানি। ১০ বৎসর বয়ঃক্ৰম কালে আমি মাতৃহীন হই। পরে আমার মাতুল মহাশয় ও মাতুলানী ঠাকুরাণীও সবগারোহণ করেন। ১৫ বৎসর বয়সে আমি প্রাতঃস্মরণীয়া মহারাণী স্বর্ণময়ীর আশ্রয়লাভ করিয়া বহরমপুর কলেজে পড়িয়া তথা হইতে বি-এ পাস করিয়া, এখন বাঁকীপুরে ৫o বেতনে শিক্ষকতা করিতেছি ও সঙ্গে সঙ্গে আইন পড়িতেছি। আমার আত্ম-বিবরণ সংক্ষেপে আপনাকে_ জানাইলাম, ইতি— - বিনীত শ্ৰীসন্ধীরকুমার ঘোষ পত্রখানি গহিণী নিবিট চিত্তে পাঠ করিয়া, স্বামীকে বলিলেন, “উঃ, দেখ একবার কাণ্ড! ৫০ টাকা মাইনের মাস্টারি করছে—কোথাও কিছু নেই।--হঠাৎ একটা মস্ত বড়লোক হয়ে যাবে। একেই বলে অদষ্ট !” জ্যোতিষী বলিলেন, “কিন্তু আমরা যে দুটো অনুমান করেছিলাম, কই, তার কোনওটার সঙ্গে ত মিলছে লা!” গহিণী বলিলেন, “তা, কি করে জানলে মিলছে না ? অবিশ্যি, ঠিক ব্যাপারটা কি হয়েছে তা আমরা জানিনে। ধর, ঐ সিমলা পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে তার বাপ যদি মস্ত একখানা হীরেই কুড়িয়ে পেয়ে থাকে, যার দাম বিশ লাখ, সে হীরে হয় ত কার্য কাছে গচ্ছিত আছে, সে এখন উত্তরাধিকারীকে খুজছে। কিংবা মরবার আগে ওর বাপ হয় ত কোনও রাজা মহারাজার বিশেষ কোন উপকার করেছিল, সেই রাজা, সেই উপকারের পুরস্কার স্বরুপ কোনও জায়গীব-টায়গীর দেবার জন্যে ছেলেকে এখন খুজছে। ঠিক কি, তা তে আমরা জানিনে।” - জ্যোতিষী মহাশয় একটা চিন্তা করিয়া বলিলেন, “একটা বিশেষ রকম প্রাপ্তিযোগ তার আছে বলে আমারও বিশ্বাস হচ্চে, তা হলে এখন কি করা যায় বল দেখি ?” “যা পরাশ ছিল, তাই কর। আজই রওয়ানা হয়ে তুমি বাঁকীপরে যাও। তার ভগ দেখা করে, যে রকম বলেছিলে সেই রকম একখানা দলিল তার কাছে লিখিয়ে, কালই রেজিটারি করে নাও। তার পর যা আছে অদটো কি রকম দলিল লেখাবে - ১৩২