পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিছুক্ষণ পরে সন্ধীব ফিরিয়া আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি কি মুখ-হাত ধোবেন ?” “না, আমি সে সব ইন্টিশান থেকেই সেরে এসেছি।” “আপনার সনানাহার—” “সেটা, এইখানেই করতে পারলে ভাল হয়। সে সব হবে এখন, বাস দেখি, সব কথা তোমায় বলি।” সন্ধীর উপবেশন করিলে, জ্যোতিষী মহাশয় তাঁহার ব্যাগ খলিয়া, একখানি খবরের কাগজ বাহির করিয়া পরোক্ত বিজ্ঞাপনটি দেখাইয়া বলিলেন, “আমিই কাগজে কাগজে এই বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম; আর, তুমি তাই পড়ে, আমায় যে পত্ৰখানি লিখেছিলে, এই তার নকল।”—বলিয়া নকলখনিও সন্ধীরের হস্তে দিলেন। দেখিয়া সন্ধীর বলিল, “ওঃ, বুঝেছি। আপনি হস্তরেখাটেখা দেখতে এসেছেন।” জ্যোতিষী বলিলেন, “হ্যাঁ, তোমার হাত দেখি, দাও।” সন্ধীর হাত বাড়াইয়া দিল। জ্যোতিষী মহাশয় ব্যাগ হইতে চশমা বাহির করিয়া চক্ষতে দিয়া, কিছুক্ষণ ধরিয়া, বিশেষ মনোযোগের ভাণ করিয়া সন্ধীরের করাঙ্ক পরীক্ষা করিলেন; শেষে বলিলেন, “যা গণনা করেছিলাম, ভুল হয়নি, ঠিকই সমস্ত মিলে যাচ্চে ।” - সন্ধীর সবিসময়ে জিজ্ঞাসা করিল, “কি মিলে যাচ্চে ? প্রাচ্য আর পাশ্চাত—” জ্যোতিষী হাসিয়া বলিলেন, “না হে না, সে সব কিছ নয়; ও প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য রিসাচ-ফিসাচ নয়, বিজ্ঞাপনের ও সমস্তই বাজে কথা। আসল কথা তোমায় বলি, শোন। আমি গণনায় জানতে পেরেছিলাম যে, সম্প্রতি কোনও আজন্ম পিতৃহীন যুবকের একটা বিশেষ রকম প্রাপ্তিযোগ আছে। কিছু ধনরত্ন সে পাবে। সে যবকটি যে কে, তাই আবিকার করবার জন্যে আমি ঐ বিজ্ঞাপনটি ছাপিয়েছিলাম, তোমার জন্ম সন ও মাস তোমার চিঠিতে পেয়ে বকলাম যে, সে ভাগ্যবান যাবা তুমিই তোমার কর-রেখাতেও সেই কথা মিলে যাচ্চে t” - যবেক বলিল, “তা, কবে আমার সে প্রাপ্তিযোগ ঘটবে ? কি পাব ?” জ্যোতিষী বলিলেন, “ঠিক কবে, তা’ বলতে পারিনে বাবাজী তবে অধিক বিলাব নেই। আর কত, তাও শাসের লেখে না। দশ টাকাও হতে পারে, দশ লাখ হতেও আটক নেই। তবে, ধনরত্ন প্রাপ্তিযোগটা ধ্রুব। কিন্তু তার জন্যে একটি বিশেষ কষ্টসাধ্য দৈবকম করা আবশ্যক, এবং সে দৈবকমটি আমি ছাড়া অপর কারার দ্বারা হবে না।” কথাটা শনিয়া সন্ধীর কয়েক মহত্তে স্তবধ হইয়া বসিয়া রহিল। শেষে তাহার মখে ব্যঙ্গপাণ একটা হাসি ফটিয়া উঠিল। - জ্যোতিষী মহাশয় তাহা লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, “বাবাজী ! ভাবছ, বামন এই বলে ভুজং দিয়ে দৈবক্রম করার নাম করে কিছু টাকা ফাঁকি দিয়ে নেবার মৎলবে এসেছে। তা নয় বাবাজী! কি মৎলবে আমি এসেছি, তা বলি শোন। আমি কলির ব্রাহ্মণ, লোভটা পরোমারাতেই আমার আছে; তুমি আমার সহায়তায় যা কিছু ধনরত্ন লাভ করবে, তার অন্ধেক আমায় দেবে, এই অঙ্গীকার করে যদি তুমি রীতিমত দলিল লিখে রেজেস্টারি করে দাও, তবেই আমি সেই দৈবকমটি করব। নচেৎ নয়। এই জন্যেই গাড়ীভাড়া খরচ করে এত দর এসেছি। ব্যস, সমস্ত খোলাখলি তোমায় বললাম।” জ্যোতিষী বলিলেন, “ভেবে দেখ কথাটা, এই যে দলিলের কথা বললাম, এর সমস্ত তোমার এক পয়সা লাগবে না। যদি আমার গণনায় কিন্তু সত্য না থাকে, দৈবকক্ষের কিছ শক্তি না থাকে, তোমার তাতে সিকি পয়সারও লোকসান নেই। যদি থাকে, আমার - sūB