পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পারিশ্রমিকস্বরপ বল, গণের পত্র রবরাপ বল, যা পাবে তার অন্ধেক আমায় দেবে। যদি দশ টাকা পাও, পাঁচ টকা আমার দিও। যদি দশ লাখ পাও, পাঁচ লাখ দিও।” সন্ধীর বলিল, “পাঁচ লা—খ ” জ্যোতিষী হাসিয়া বললেন, “কি ছেলেমানষে তুমি যখন আমার বিনা সাহায্যে তুমি মোটেই কিছু পাচ্ছ না, তখন তুমি অন্ধেক হোক, সিকি হোক, যা পাবে তাই ত তোমার লাভ ৷ কথাটা ভেবে দেখ ” সন্ধীর কথাটা ভাবিয়া দেখিয়া, জ্যোতিষী মহাশয়ের যুক্তির সারবত্তা স্বীকার করিতে বাধ্য হইল; শেষে বলিল, “আচ্ছা, টাকা যা পাব, তার অর্ধেক না হয় আপনাকে দিলাম। আপনি বলেছেন ধনরত্ন। যদি একটি রত্ন পাই, তার অন্ধেক আপনাকে ভেঙ্গে কি করে দেবো ?” “তার উচিত মল্যের অন্ধেক আমায় দেবে। সে সব কথা দলিলে স্পষ্ট করেই লেখা থাকবে ।” সুধীর জিজ্ঞাসা করিল, “ লেখাপড়া কোথায় হবে ?” জ্যোতিষী উত্তর করিলেন, “যে কোনও একজন ভল উকীলের বাড়ীতে। বড় রাস্তার মাড়ে যে একজন বাঙ্গালী উকীলের সাইনবোট দেখে এলাম, উনি কেমন ?” সন্ধীর বলিল, “কেশববাব? ভাল উকীল ।” “তবে বাবাজী, যদি রাজি থাক, এখনই ওঠ। চল, কেশববাবর বাড়ী যাই। আর বিলম্বব নয়। রাজি না থাক, বল, আমি বিদায় হই ।”—বলিয়া জ্যোতিষী মহাশয় ব্যাগহস্তে উঠিয়া দাঁড় ইলেন। - সন্ধীরও উঠিয়া দড়িাইয়া বলিল, “চলন, আমি রাজি।” এই সময় ভূত্য সুধীরের চায়ের পেয়ালা হতে প্রবেশ করিল। সন্ধীর মুখ পড়াইয়া সেই গরম চা এক নিশবাসে পান করিয়া লইয়া জ্যোতিষী মহাশয়ের সহিত উকীল-বাড়ী গেল । সেইদিন অপরাহ্রের ট্রেণে, রেজিস্টারি দলিলখানি ব্যাগে ভরিয়া জ্যোতিষী মহাশয় কলিকাতা রওয়ানা হইলেন। যাইবার সময়, সুধীরকে নিজ যজ্ঞোপবীত পশ করাইয়া শপথ করাইয়া লইলেন যে, প্রাপ্তিযোগটি সফল হইবামার সে স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া জ্যোতিষী মহাশয়কে সে সংবাদ প্রদান করিবে । 이 কলিকাতায় ফিরিয়া, জ্যোতিষী মহাশয় গহিণীকে সকল সংবাদ জানাইলেন এবং আশান্বিত হািদয়ে উভয়ে দিনযাপন করিতে লাগিলেন। সপ্তাহ কাটিল, পক্ষকাল কাটিল, কিন্তু সন্ধীরের নিকট হইতে কোনও প্রকারের সংবাদ নাই। এদিকে এষ্টণিরা তাহাকে লইয়া কি করিল না করিল, তাহা জানিবারও কোনও উপায় নাই। তখন নিতান্ত উদ্বিগ্ন হইয়া জ্যোতিষী মহাশয় পুনরায় বাঁকীপরে যাত্রা করিলেন। বেঙ্গলী মেসে গিয়া শুনিলেন, সপ্তাহখানেক হইল, ইস্কুলের চাকরীতে ইস্তাফা দিয়া সন্ধীর চলিয়া গিয়াছে। কোথায় যাইতেছে, তাহা কাহকেও কিছু বলিয়া যায় নাই। কলিকাতায় ফিরিয়া আসিয়া কত্ত"-গহিণীতে আলোচনা করিয়া স্থির করিলেন, যে রাজা জায়গীর দিবে, সেই রাজার নিকটেই সন্ধীর বোধ হয় গমন করিয়াছে। গহিণী বলিলেন, “শেষে কি ফাঁকি দেবে আমাদের ?” জ্যোতিষী বিমৰ্ষভাবে বলিলেন, “পৈতে ছাঁইয়ে শপথ করিয়ে নিয়েছি, ফাঁকি দেন । নরকে পচে মরবেন।” v - গহিণী বলিলেন, “তাত ত আমাদের ভারি লাভ! আচ্ছা এই দবার বাঁকীপর : - ---- లి(