পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাতায়াতে, দলিল-টলিলে, কত খরচ হ’ল ?” জ্যোতিষী বলিলেন, “নেই হিসেবই সেদিন দেখছিলাম ৪ou০ খরচ হয়েছে।” গহিণী বলিলেন, “ঐ ৪০০ টাকাই জলে গেল !" আরও এক সপ্তাহ কাটিল । সেদিনও অপরাহ্লে জ্যোতিষী মহাশয় বিতলের সেই কক্ষটিতে বসিয়া আপন মনে ধুমপান করিতেছিলেন, এমন সময় নিন্ন হইতে শব্দ উঠিল —“জ্যোতিষী মশায়! জ্যোতিষী মশায়!" বারান্দয় গিয়া চিক ফাঁক করিয়া জ্যোতিষী মহাশয় দেখিলেন—সুধীর। কিন্তু সে নিজস্ব মোটরগাড়িতে বা ল্যাণ্ডে হাঁকাইয়া আসে নাই—সাধারণ গহন্থের সাজে পদব্রজে আসিয়াছে, দেখিয়া জোতিষী মহাশয়ের বকটা দমিয়া গেল। জ্যোতিষী মহাশয় ভগ্নমনে নামিয়া গেলেন : বার খলিয়া বলিলেন, “এই যে সন্ধীর বাবাজী, এত দিনে মনে পড়ল ই এস এস, ভিতরে এস।”—বলিয়া তাহাকে বৈঠকখানায় আনিলেন। সন্ধীর তাঁহার পদধলি লইয়া বলিল, “আপনার কৃপায় ধনরত্ব আমি লাভ করেছি। আমার সত্ত অনুসারে, তার অন্ধভাগ আপনাকে আমি দেবো বলে ডাকতে এসেছি।” যবকের অঙ্গে লক্ষপতির পোষাক না থাকিলেও, তাহার মুখে আনন্দের উচ্ছবাস দেখিয়া জ্যোতিষী মহাশয়ের একটু ভরসা হইল। ভাবিলেন, লাখলিখা না হউক, তবু বোধ হয়, বেশ ভাল রকমই কিছু প্রাপ্তিযোগ ঘটিয়াছে। নিজে বসিয়া, সন্ধীরকে বসাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন “কি রকমটা হ’ল, সব বল দেখি বাবাজি ?” সন্ধীর হাসিতে হাসিতে বলিল, “আজ্ঞে আগে কিছু বলবো না ;—আমার সঙ্গে আসন, একেবারে দেখাব । আপনাকে নিতে এসেছি চলন।" জ্যোতিষী জিজ্ঞাসা করিলেন, “কত দর?” “কাছে। শ্যামবাজার।” “আচ্ছা বস বাবা, আমি কাপড় বদলে আসি ”—বলিয়া জ্যোতিষী মহাশয় উপরে চলিয়া গেলেন। কি ধনরত্ন সন্ধীর লাভ করিয়াছে, যাহার অর্ধেক তিনি এখনই পাইবেন, , তাহা জানিবার জন্য ব্রাহ্মণ এতই উৎকণ্ঠিত হইয়াছিলেন যে, সত্রীকে সংবাদটা জানাইয়া আসিবারও অবসর হইল না। যুবকের সহিত শ্যামবাজারে আসিয়া তিনি দেখিলেন যে, ইহা ত সেই হরিহর মিত্রেরই ঠিকানা—৩২নং কাল ঘোষের লেন! সন্ধীর বৈঠকখানায় লইয়া গিয়া তাঁহাকে বসাইল । সেখানে তখন আর কেহই ছিল না। তাঁহাকে বসাইয়া, পার্শবাদবারের পদ সরাইয়া সন্ধীর বাড়ীর ভিতর চলিয়া গেল। ক্ষণকাল পরে ফিরিয়া আসিয়া বলিল, “জ্যোতিষী মশায়, আপনার কৃপায় আমি নদগ ১০১টি টাকা পেয়েছি। এই নিন আপনার ভাগ।”—বলিয়া দশ টাকার পাঁচখানি নোট এবং একটি রুপার আধলি সে জ্যোতিষী মহাশয়ের পায়ের কাছে রাখিয়া বলিল, “নগদ এই। আর পেয়েছি, একটি রত্ন । ওগো, এস।” বলিতেই—পদর্শ সরাইয়া, ১৪ ১৫ বৎসরের একটি সন্দরী মেয়ে, একখানি আসমানী রঙের শাড়ী পরিয়া, সভয়-পদক্ষেপে অবনতবদনে প্রবেশ করিল। সন্ধীর, হাত ধরিয়া তাহাকে কাছে টানিয়া আনিয়া বলিল—“আর—এই স্ত্রীরত্ব ।”—বলিয়া যদুগলে জ্যোতিষী মহাশয়কে প্রণাম করিল। তাহার পর, হাসিতে হাসিতে বলিল—“রত্ব অবিভাজ্য। মল্যের অদ্ধাংশ আপনার প্রাপ্য হলেও, কোনও উপায় নেই—কারণ, আমার এ রত্নটি অ-মল্য।” বলিয়া সুধীর হাসিতে লাগিল। জ্যোতিষী মহাশয় মহত্তেমধ্যে ব্যাপারটা অনুমান করিয়া লইলেন। সন্ধীরের দেওয়া পাঁচখানি নোট হইতে একখানি তুলিয়া লইয়া, মেয়েটির হাতে দিয়া আশীব্বাদ করিয়া ৰুলিলেন—“তাৰা ৩। বেশ হয়েছে, বেচে থাকমা, সখে থাক। মেয়েটি - උH -