পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ব্ৰজবাব বলিলেন, “হয়। আর কিছ আছে ? গহনা টহনা ?” “আছে। তাও দেখাচ্ছি।”—বলিয়া উষা তাহার গহনার বাক্স হইতে হরতন আকারের একটা মখমলের কেস বাহির করিয়া আনিয়া, উহা খলিয়া, স্বামীর সমখে টেবিলের উপর রাখিল। সয্যালোকে জড়োয়া নেকলেস ঝকমক করিয়া উঠিল। ব্ৰজবাব সপশ করিলেন না, তবে লক্ষ্য করিলেন, ডালার ভিতর-অংশে সোণার অক্ষরে হ্যামিলটন কোম্পানির নাম লেখা রহিয়াছে। জিজ্ঞাসা করিলেন, “এর দাম কত ?” উযা অসঙ্কোচে বলিল, “৭০০ টাকা ।” ব্ৰজবাব বলিলেন, "হা-আর কিছু নেই বোধ হয় ?” উষা বলিল, “না, আর আমার এমন কিছু নেই, যা তোমার কাছে লকোনো।” উভয়ে কয়েক মহত্তে নীরব। তার পর ঊষা বলল, “তু আমায় যা কথা জিজ্ঞেস করলে, আমি সব সত্য উত্তর দিলাম। এখন তুমি আমার একটি কথার সত্য উত্তর দাও।” “বল।” “আমার এ কাপড় গহনা এসেন্স সম্বন্ধে, এ রকম ভাবে তুমি আমায় জেরা করলে কেন ?” বলিলেন, “এই চিঠিখানি পড়ে দেখলেই তুমি বুঝতে পারবে। আর, কেন যে তোমায় ছেড়ে আমি বিলেতে যাচ্চি, তাও বুঝতে পারবে।” উষা এক নিঃশ্বাসে পত্র পাঠ করিয়া, সেখানি দরে নিক্ষেপ করিয়া, দই হাতে মুখ ঢাকিয়া আবার কাঁদতে বসিল। ব্ৰজবাব হতভম্ব হইয়া এই দশ্য অবলোকন করিতে লাগিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে, মুখ তুলিয়া, উষা ক্ৰন্দনের সবরে কহিল, “ঠিক হয়েছে, আমার উপযুক্ত শাসিত আমি পেলাম। সবামীর কাছে মিথ্যা কথা বলা, স্বামীকে লুকিয়ে কাজ করার শাসিত যে এত বড়, তা কিন্তু আগে আমি বুঝতে পারিনি। সে যা হয় হোক) এখনই —শীগগির একখানা ট্যাক্সি আনাও। তুমি আমার সঙ্গে চল ভবানীপার। এই গহনা, কাপড়, আর গন্ধ, মাকে দেখিয়ে তুমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করবে, এসব আমি কোথায় পেয়েছি। আর তোমার মোটা বেতের ছড়িগাছটা হাতে নাও।” “যে এই বেনামী মিথ্যা চিঠি তোমায় লিখেছে, সেই লোকটাকে আমি তোমায় দেখিয়ে দেবো। তুমি তাকে মারবে--খব মারবে-যেন ছমাস সে বিছানা ছেড়ে উঠতে না পারে। তার জন্যে যদি তোমায় জেলে যেতে হয়, তাও যেও । তুমি জেল থেকে ফিরে আসবার আশায় আমি প্রাণ ধরে থাকবো, তোমার সংসার বজায় রেখে দেবো।” ব্ৰজবাব ব্যগ্রভাবে বলিলেন, “কাকে ? কাকে মারবো ?” “কোন সত্য ?” “সে আমার বাপের বাড়ীর কাছে থাকে। ছেলেবেলা থেকে সে আমায় জবালাতন করছে—যখন আমার বিয়ে হয়নি—তখন থেকে। ইদানীংও, আমি মার কাছে গেলে, আমার সঙ্গে গোপনে কথা কইতে চেন্টা করে। মাকে আমি সব কথাই বলে দিয়েছিলাম। আগে সে আমাদের বাড়ীতে ঘরের ছেলের মত আসতো যেত ; মা সেটা বন্ধ করে দিয়েছেন। কিছুতেই না পেরে, সে আমার এই সব্বনাশের আয়োজন করেছে। উঃ কি পাজি, কি শয়তান ! চল তুমি, তার পাপের প্রতিফল তাকে দেবে চল। মার খেয়ে সে পড়ে গেলে, আমি এই হাইহিল জাতোসন্ধ গুণে তিনটি লাথি তার মুখে মারবো। ওগো চল, চল।”—বলিয়া উষা উঠিয়া দাঁড়াইল। তাহার চোখের অশ্রু শুকাইয়া গিয়াছে, ఆ శా శాణ గణణారా ? ఇ a fణా