পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হাঁর বলিল, “তুমি বিষ চেয়েছিলে ত ? বিষও আমার ছিল, কিন্তু একে বড়োমানুষ, তায় রাত্তির কাল, বিষের গড়ো না দিয়ে ভুলে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ফেলেছিলাম।” —বলিয়া হাঁর ব্যঙ্গভরে আবার হাসিল। v নীরদ তীক্ষা দটিতে হীররে মুখ পানে চাহিল। ক্ৰোধ কম্পিত স্বরে কহিল, “তবে তুই আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছিস বল ? আমাকে ফাঁকি দিয়ে টাকা নিয়েছিস, জোচ্চোর কোথাকার !” এই গালি শনিয়া হাঁর রাগিয়া গেল। দন্তে দন্ত ঘর্ষণ করিয়া বলিল, “হ্যাঁলো হারামজাদি শয়তানী নচ্ছারনী ! হ্যাঁ! তোকে ফাঁকি দিয়েই ত টাকা নিয়েছি। এখন আমি যে জন্য এসেছি, তা বলি শোন। নে, তোর গয়না কাপড় বাক্স থেকে বের করে পটাল বেধে নে। তোকে, তাজ রাত্রই কলকাতায় যেতে হবে।” নীরদা বিস্মিত হইয়া বলিল, “কলকাতায় ? কলকাতায় আমি যাব কেন ?” হীর ক্ৰোধ কল্পিত সবরে বলিল, “কলকাতায় যাবিনে ত কি এখানে থেকে স্বামীহতে ব্ৰহ্মহত্যে করবি হতভাগী ? নে, কাপড়-চোপড় গুছিয়ে নে ; ভোর তিনটেয় গাড়ী। আমি তোকে ইন্টিশনে পৌছে দিয়ে, টিকিট কেটে, গাড়ীতে বসিয়ে দিয়ে চলে আসব।” নীরদ কয়েক মহত্তে সন্তব্ধ হইয়া রহিল। পরে বলিল, “হীয়েনাল, তোর আলপন্ধা ত কম নয় ? আমায় হুকুম করছিস ? আমি যদি কলকাতায় না যাই ?” হীর বলিল, “না যাস, এখনই বিনোদ দাঠাকুরকে জাগিয়ে সব কথা তাকে বলে, তাতে আমাতে দ’জনে মিলে তোকে খনন করে, উঠোনে গৰ্ত্ত খড়ে তোকে পতে ফেলবো।“ হাঁরর ভঙ্গি দেখিয়া এবং তাহার কথা শুনিয়া নীরদ ভয়ে, কপিয়া উঠিল। বলিল, “হীর, আমি যদি দোষ করে থাকি আমার স্বামী তার বিচার করবেন । তিনি যদি আমায় ত্যাগ করেন, তখন আমি কলক তায় যাব—যেখানে হয় যাব। তুমি কেন এর মধ্যে —” হীর বলিল, “আহা, নেকু! সবামী তোমার বিচার করবেন। বেচারি অঘোরে পড়ে ঘুম চে, তুমি যদি আজ রাতেই তার গলাটি ছরি দিয়ে কেটে দাও ? যে বিষ খাওয়াতে পারে সে কি আর গলা কাটতে পারে না ? ওসব কথা আমি শনবো না। ভোর তিনটের গাড়ীতে তোমায় যেতেই হবে কুলকাতা। না যদি রাজি থাক, বল, আমি সোরগোল সরল করে দিই।” - l নীরদ আর দাঁড়াইয়া থাকিতে পরিল না। তাহার শরীর অবশ হইয়া সৃসিতেছিল। সে ধপ করিয়া সেখানে বসিয়া পড়িল । প্রায় কাঁদিতে কাঁদিতে বলিল, “কিন্তু হীরা, কলকাতায় যে আমায় যেতে বলছ, সেখানে গিয়ে আমি কি খাব ?” হীর বলিল, “তোমাদের দলের লোক সেখানে ঢের আছে। তারা যেমন করে খায়, তুমিও সেইরকম করে খাবে।” “কিন্তু হীর আমি যে কলকাতায় কখনও যাইনি, কাউকে চিনিনে। আমি কি করে সেখানে যাব, কি কবে কি করব ?”—বলিয়া নীরদ চোখে অচিল দিল । কথাটা শুনিয়া হীর একটুখানি ভাবিল। শেষে বলিল, “হ্যাঁ, তা বটে। আচ্ছা, চল, আমি নিজেই তোমায় সঙ্গে করে রেখে আসবো। রমবাগানে যে ডোমপাড়া আছে, সেই ডোমপাড়ায় আমাদের ক'জন আত্মীয় লোক থাকে। ত দের ধরে, তোমার একটা ঠায় ঠিকানা করে দিয়ে, আমি আসবো।” নীরদা দেখিল, হীর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাহার হাত হইতে নিস্তারের কোনই আশা নাই। তখন সে বলিল, “আচ্ছা, তাই চল তবে।” হীর বলিল, “তোমার স্বামীকে যা ঘমের ওষুধ দিয়েছি, সে ঘুম সহজে এখন ভাগবে না। কাল বেল ৮টা ৯টা পৰ্যন্ত খাব ঘমোবে। তোমার কোনও ভয নেই, . S88