পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিনিই আসিয়া গ্রামস্থ লোকের সাহায্যে আমার পিতার শ্রাদ্ধশান্তি সম্পন্ন করেন। জিনিষপত্র কতক বেচিয়া, কতক বিতরণ করিয়া, পৈতৃক বাটীতে তালা লাগাইয়া, আমাকে সঙ্গে লইয়া পরেলিয়াতে চলিয়া যান। তখন আমার বয়স চারি বৎসর মাত্র। জ্যেঠামহাশয়ের একটি পত্র ছাড়া তিনটি কন্যা ছিল। পরে শুনিলাম, আমাকে পেপছিতে দেখিয়া জ্যেঠাইমা নাকি বলিয়াছিলেন, “বেশ হ’ল, এবার গন্ডা ভত্তি হল।” আমার জোঠতুতো বোন তিনটির নাম—নীহারবালা, শৈলবালা এবং ননীবালা; শৈল ছিল আমার সমবয়সী—কিন্তু তথাপি তাহার সহিত আমার তেমন ভাব হয় নাই। আমি কোথা হইতে উড়িয়া আসিয়া জড়িয়া বসিলাম বলিয়া শৈলবালা আমার হিংসা করিত; জ্যেঠাইমা আমাকে লুকাইয়া মাঝে মাঝে তাহাকে এটা ওটা খাওয়াইতেন বলিয়া আমি তাহার হিংসা করিতাম। আর একটু বয়স হইলে যখন আমরা বালিকা-বিদ্যালয়ে ভক্তি হুইলাম, তখন সে আমার চেয়ে ভাল পড়া বলিতে পারত, ভাল প্রাইজ পাইত বলিয়া তামি তাহার হিংসা করিতীম ; এবং তার চেয়ে আমার রং ফরসা বলিয়া সে আমার হিংসা করিত। নীহারদিদি আমাদের চেয়ে দুই বৎসরের বড় ছিল। ১৩ বৎসর বয়সে তাহার বিবাহ হইল। জ্যেঠামহাশয়ের পাবসিঞ্চিত যাহা কিছ, ছিল, তাহার বেশীর ভাগই এই বিবাহে নিঃশেষিত হইয়া গেল। . জ্যেঠাইমা তাঁহাকে বলিয়াছিলেন, “একটির বিয়েতেই যা কিছু ছিল, সব খরচ করে ফেললে বাকীগুলিব বেলায় কি উপায় করবে, তা কিছু ভেবেছ?” জেঠ মহাশয় বলিয়াছিলেন “উপায় করবার মালিক আমিও নই, তুমিও নও; যে উপায় করনেওয়ালা, সেই উপায় করবে, তুমি দেখে নিও।” নীহারদিদির ত কিনারা হইয়া গেল, এবার আমার এবং শৈলর পালা। একযোড়া ভাল পত্রের সন্ধান করিবার জন্য জ্যেঠামহাশয় নানা সথানে চিঠি লিখিলেন, দই বৎসর ধরিয়া এইরুপ অন্বেষণ চলিল, কিন্তু একযোড়া ত দরের কথা, মনের মত অথচ দামে সন্তা একটি পাত্রও মিলিল না। আমাদের দই বোনকে তেরো বছরের ধিতিগ দেখিয়া, জ্যেঠাইমা সববাদ! ম্রিয়মান হইয়া থাকিতেন এবং এক একদিন জ্যেঠামহাশয়ের প্রতি চোখা চোখ বাক্যবাণ প্রয়োগ করিতেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ | শচীন আসিল এই সময় নীহারদিদির বশর, জ্যেঠামহাশয়কে পত্র লিখিলেন যে, তাঁহার কনিষ্ঠপত্র শচীন্দ্রনাথ (জামাইবাবার ছোট ভাই) গত ভাদ্র মাস হইতে ম্যালেরিয়া জনরে ভুগিয়া ভুগিয়া অস্থিচৰ্ম্মসার হইয়াছে; কলেজে তাহার পাসেন্টেজ গিয়াছে, সে এবার পরীক্ষা দিতে পাইবে না; ডাক্তার বায়পরিবত্তন করাইতে উপদেশ দেন; অতএব বৈবাহিক মহাশয়ের যদি অসুবিধা না হয়, তবে শীতের কয়টা মাস শচীন প্রলিয়াতে থাকিয়া তাহার সবাস্থ্যের উন্নতি করিতে পারে। ’ জ্যেঠাইমার সহিত পরামর্শ করিয়া, জেঠ মহাশয় শচীন্দ্রনাথকে আহবান করিলেন। পরে জানিয়াছিলাম, নিঃসবাথভাবে পরোপকার কারবার জন্য তাঁহারা এ কাযে প্রবত্ত হন নাই; এই উপকরটীকুর বদলে, শচীনের পিতাকে চক্ষুলজার ফেরে ফেলিয়া সন্তায় শচীনকে জামাই করিয়া লইতে চেষ্টা করাই তাঁহাদের গোপন অভিসন্ধি ছিল। নীহারদিদি অনেক দিন পিত্রালয়ে আসেন নাই; তাঁহাকেও শচীনের সঙ্গে পঠাইয়া দিতে অনুরোধ করা হইল। যথাদিনে দেবর সহ নীহারদিদি আসিয়া পেপছিলেন। - শচীনের বয়স তখন ১৮১৯ বৎসর, রংটি বেশ পরিকার, মুখচোখও সুগঠিত-–এক কথায় বেশ সশ্রী যাবা পরষ। তবে রোগে ভুগিয়া তাহার দেহকান্তি অনেকটা মলন হইয়া গিয়াছিল। মাসখানেক পরলিয়ায় থাকিয়াই, শচীন তাহার স্বাস্থ্য, বল, কান্তি আবার ফিরিয়া পাইল। মোঃ মাক মাঝে নীহারদিদির পরামশ হইতে ჯ 8& °