পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ব্ৰজবাব অনেক কষ্টে তাহকে ঠাণ্ডা করিলেন। দুই একটা প্রশন করিয়া যাহা জানিতে পারলেন তাহা সংক্ষেপে এই ঃ– বিবাহের পাবে সত্যর অভদ্রতা সম্বন্ধে সকল কথা উষা কেবল মাকে বলিয়ছিল, আর কাহাকেও বলে নাই। তাহা শনিয়া মা বিরক্ত হইয়া সত্যকে নিজনে তিরস্কার এবং বাটীতে প্রবেশ করিতে নিষেধ করিয়াছিলেন। তারপর উষার বিবাহ হইল, সত্যও বিবাহ করিল। দই তিন বৎসর সত্য আর উষাদের বাড়ী আসে নাই। তাহার স্ত্রী আসিত, বাড়ীতে অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গে গলপ করত, তাস খেলিত—ইদানীং আবার উষা থাকিলে, স্ত্রীকে ডাকিবার ছলে, সত্য যাতায়াত আরম্ভ করিয়াছিল। মাস কয়েক পর্বে উষা যখন দিন পনেরো গিয়া পিত্রালয়ে ছিল, তখন আবার সত্য পাববৎ আচরণ আরম্ভ করে। উষা মাকে উহা জ্ঞাপন করায়, মা আবার তাহাকে বাড়ী আসা বন্ধ করেন। এবার উষা পিত্রালয়ে গেলে, একদিন মা’র সঙ্গে তাহার অনেক কথা হয় । একাকিনী অথবা কোনও সখীর সঙ্গে থিয়েটার, বায়স্কোপ প্রভৃতিতে যাওয়ার কথা, ইহাতে ব্ৰজবাবর অসন্তুটি একদিন প্রতিমাদের সঙ্গে বায়কোপ দেখা, ফিরিবার সময় প্রতিমার ভাই তাহাকে বাড়ী পৌছাইয়া দিতে আসার কথা, নামিবার সময় স্বামীর সামনে পড়িয়া যাইবার কথা, এবং পরে কিছুদিন ধরিয়া এ বিষয় লইয়া স্বামী-স্ত্রীতে মান অভিমানের কথা, সমস্তই উষা মাকে বলিয়াছিল, মা শুনিয়া তাহাকে তিরস্কার করিতেছিলেন ; এ সমস্ত সময়টা সত্যর সন্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিল ;–সেই নিশ্চয় গিয়া সবামীর নিকট সে সব কথা গলপ করিয়াছে। তারপর ঐ শাড়ী, ঐ নেকলেস, ঐ গন্ধ ছয়মাস পর্বে মার নিকট থাকাকালীন ক্লীত হয়। পিতার মৃত্যুর পর, মা তাহাকে গোপনে পাঁচ হাজার টাকা দিয়াছিলেন, সেই টাকা হইতেই, ভাইদের সাহায্যে উষা ঐ গন্ধ, ঐ শাড়ী এবং ঐ নেকলেস ক্রয় করে। সত্যের সত্ৰী ঐ সমস্ত জিনিষই দেখিয়াছে, দামের কথাও শনিয়াছে এবং আপাততঃ উষা স্বামীর বকুনির ভয়ে ওসব তাঁহাকে দেখাইবে না, ইহাও সে জানিয়া গিয়াছিল। সব কথা নিশ্চয় সে সত্যর নিকট গলপ করিয়াছিল। সত্য, এই সংযোগ পাইয়া ঐ কুৎসিত পত্র লিখিয়া নিজ হীন প্রতিহিংসা বত্তি চরিতাথ করিবার চেষ্টা করিয়াছে, তবিষয়ে কোনও সন্দেহ নাই। সকল কথা শুনিয়া ব্ৰজবাব, আরামের নিঃশ্বাস ফেলিয়া বাঁচিলেন। উষা বলিল, “ওগো তোমার দটি পায়ে পড়ি—এই শাড়ী, নেকলেস, গন্ধ আর ঐ শত্রর চিঠি নিয়ে এখনি তুমি মা'র কাছে যাও । তাঁকে এ সব দেখিয়ে, তিনি কি বলেন তা শনে এস। আমি না হয় বাড়ীতেই থাকি।” ব্ৰজবাব বললেন, “না, তার দরকার হবে না। তোমার কথাতেই আমার বিশ্বাস হয়েছে।” উষা অনেক পীড়াপীড়ি করিল। কিন্তু ব্ৰজবাব কিছতেই এই সরেজমিন তদন্তে যাইতে রাজী হইলেন না। তারপর বিলাত যাওয়া না যাওয়া সম্বন্ধে পরামর্শ চলিতে লাগিল। শেষে স্থির হইল, দুজনে যাওয়াই ভাল। তবে চিরজীবনের জন্য নহে। বছর পাঁচেক সেখানে থাকিয়া, আবার দেশে ফিরিলেই চলিবে। তখন, আর একটা প্রোফেসারি জটাইয়া লইতে কতক্ষণ ? যাত্রার পবেদিন দুজনে ভবানীপরে বিদায় সম্ভাষণ করিতে গমন করিল। উষা : সেই শাড়ী এবং সেই হার পরিয়াই স্বামীর সহিত ট্যাক্সিতে উঠিয়াছিল। sa