পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এইটুকু পথ হাঁটিয়া যাইতে হইবে। গাড়ী বিদায় করিয়া, আমাকে মধ্যে রাখিয়া, স্বামী ও পিসীমা সেই ভিড়ের মধ্য দিয়া অগ্রসর হইলেন। প্রথমটা আমরা তিনজনেই হাত ধরাধরি করিয়া চলিলাম। কিন্তু ভিড় বাড়িয়া আমাদিগকে বিচ্ছিন্ন করিয়া দিল। অনেক কষ্টে আমরা পুনরায় একত্র হইলাম। কিন্তু হইলে কি হইবে, খানিক অগ্রসর হইয়া দেখি, রাস্তার মাঝখানে দড়ি খাটাইয়া মেয়ে পরষের পথ পৃথক করিয়া দিয়াছে। খাকী কোটের বকে লাল কাপড়ের ফল অটা কয়েকজন যবেক দড়ি ধরিয়া দাঁড়াইয়াছে। সবামী আমাদের লইয়া পরষগণের রাস্তা দিয়াই অগ্রসর হইবার চেষ্টা করিলেন, কিন্তু সেই বাবরা বলিয়া উঠিল —“মা-লক্ষীরা এই দিকে—এই দিকে”—এবং বলপর্বেক আমাদের পৃথক করিয়া দিল । পরেষের সারি পরষদিগের ঘাটে যাইবে, স্ত্রীলোকের সারি সন্ত্রীলোকদিগের ঘাটে যাইবে, এই প্রকার বন্দোবসত হইয়াছে, ইহা পাবে আমার স্বামী জানিতেন না; এখন জানিয়া তিনি চীৎকার করিয়া আমাদের বলিয়া দিলেন, “চান করে উঠে ঘাটের চাঁদনিতে তোমরা দাঁড়িয়ে থেক, কোথাও যেও না, এক পা নোড়ো না, ভিড় কালে আমি গিয়ে তোমাদের নিয়ে আসবো।” পিসীমা উচ্চস্বরে উত্তর করিলেন “আচ্ছা।” প্রথমটা আমি পিসীমার হাত ধরিয়া ছিলাম-ক্লমে ভিড়ের চাপে হাত ছাড়িয়া গেল। পিসীমা একটা পিছাইয়া পড়িলেন। আমি মাঝে মাঝে পশ্চাৎ ফিরিয়া তাঁহাকে দেখিতে লাগিলাম। খানিক পরে আর আমি তাঁহাকে দেখিতে পাইলাম না। ক্ৰমে ভিড়ের চাপ আরও বাড়িয়া উঠিল। তখন আর আমি চলিতেছিলাম না, ভিড় আমাকে ঠেলিয়া লইয়া যাইতেছিল। ভিড়ের চাপে মাঝে মাঝে পা দটি আমার রাস্তা ছাড়িয়া শন্যে উঠিয়া পড়িতেছে—সেই অবস্থায় কিয়দর অগ্রসর হইয়া, পা আবার মাটীতে ঠেকিতেছে। ভাগ্যিস ইহা সীলোকের ভীড়—এই ভীড় পরষের হইলে কি কেলেণ্ডকারীই হইত, ছি ছি! শনিয়াছিলাম, ঘাট অধিক দরে নহে; কিন্তু অনেকক্ষণ চলিলাম, চালিত হইলাম ললিলেই ঠিক হয়। কোথায় যাইতেছি কিছুই বুঝিতে পারলাম না। অবশেষে একটা ঘাটে গিয়া উপস্থিত হইলাম। তখন প্রাণটা যেন হফি ছাড়িয়া বাঁচিল। দেখিলাম, ঘাটের উপরে চাঁদনি রহিয়াছে; বুঝিলাম, সনানান্তে এইখানেই অপেক্ষা করিতে হইবে। গঙ্গাতীরে দড়িাইয়া পিসীমার আশায় চাহিয়া রহিলাম। অনেকক্ষল অপেক্ষা করিলাম, কিন্তু তাঁহাকে দেখিতে পাইলাম না। তখন আমি জলে নামিলাম; অন্য সকলের সঙ্গে আমিও সনান করিতে লাগিলাম, এবং চারিদিকে চাহিয়া পিসীমাকে খুজিতে লাগিলাম। আসিবার সময়, ভিড়ের মধ্যে ২৩ জন সন্ত্রীলোকের সন্দিগমী হইয়াছিল; দেখিয়াছিলাম, খাকী কোটের উপর লাল ফল পরা যুবকেরা ভিড় সরাইয়া তাহাদিগকে কাঁধে করিয়া কোথায় লইয়া গিয়াছিল। ভাবিলাম, পিসীমারও কি সেইরাপ হইল নাকি ? তাহা, বড়ামানুষ, দৰবল শরীর—হায় হায়, এইরুপ অপঘাত মৃত্যুই কি শেষে তাঁর অদস্টে লেখা ছিল। যাহা হউক, আমি স্নান করিয়া তীরে উঠিয়া, চাঁদনিতে গিয়া দাঁড়াইলাম। তখনও বড় হড় করিয়া নানাথিনী রমণীরা আসিতেছে। আমি ভিজা কাপড়ে সেইখানে দাঁড়াইয়া দর দর ব্যাকুলহ্যদয়ে পিসীমাকে খুজিতে লাগিলাম। - কুমে দেখিলাম, সনানাথিনীদিগের প্রবাহ মন্দীভূত হইল, সনান করিয়া যাহারা ফিরিয়া যাইতেছে, তাহদের সংখ্যা বাড়িতে লাগিল, তবে আর পিসীমার আসিবার আশা কি ? }য়ে আমার কান্না পাইতে লাগিল, হাত পা ঠক ঠক করিয়া কাঁপিতে লাগিল, আমি সেইখানে শাণের উপর বসিয়া পড়িলাম। বোধ হয়, পরা আধঘণ্টাকাল আমি এই ভাবে সেই চাঁদনিতে বসিয়া রহিলাম। কখনও মুখ ঢাকিয়া কাদি কখনও বাকল নয়নে চারিদিকে চাহিয়া দেখি। সবামী যে 琴丛集