পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঝি বালল, “কত দিন তোমাদের থাকা হবে ?” শচীন বলিল, “দই এক দিন। কাল কি পরশ আমরা দেশে ফিরে যাব। এই সোরাইটেতে জল ভরে এনে দাও ত ঝি।” ঝি আমার দিকে চাহিয়া বলিল, “দেখ বউমা, থাবারটাবার দরকার হলে আমাকেই . বরং আনতে দিও। খোটা বেটারা আমাদের বাঙ্গালী-পছন্দ খাবার কি আনতে জানে ?” —বলিয়া সোরাই লইয়া চলুিয়া গেল। শচীন জামা ছাড়িয়া, বিছানার বান্ডিলের দড়ি খলিতেছিল; বলিল, “দেখ, আমি স্নান করবো। যদিও সকালবেলা বাসা থেকে স্নান করে বেরিয়েছিলাম, সেই ভিড়ের মধ্যে ভলন্টিয়ারি করে ঘামে সবাংগ ভিজে গেছে। তুমি আমার কোটটা আর গেঞ্জিটা ঐ বারান্দায় টাঙ্গিয়ে দাও। তার এই চাবি নাও, বাক্স থেকে আমার ধতি, তোয়ালে, সাবান বের করে দাও।” ' . বাক্স খলিয়া জিনিষগলি বাহির করিয়া দিলাম, শচীন সনানাথ গমন করিল। আমি নিজ বসের প্রতি চাহিয়া দেখিলাম, আধময়লা একখানি মিলের সাড়ী পরিয়া সমস্ত রাত্রি রেলে আসিয়াছিলাম, তাহাই পরিয়া গঙ্গাস্নান করিয়া গায়েই শুকাইয়াছি; এরকম: পেতনীর মত বেশে শচীনের সামনে থাকিতে আমার লজ্জা করিতেছিল। তাই আমি তার বাক্স হইতে একখানি ধোয়া কালোপেড়ে ধতি বাহির করিয়া পরিলাম; সোরাইয়ের । জলে মুখটা, হাত দুখানা ধাইয়া ফেললাম: শচীনের চিরণী-বর্ষ লইয়া, দেওয়ালে টাংগানো সেই আরসির সামনে দাঁড়াইয়া চলগুলি ঠিক করিয়া লইয়া, শচীনের জন্য অপেক্ষা করিতে লাগিলাম। - শচীন ভিজা তোয়ালে কাঁধে করিয়া ফিরিয়া আসিয়া, হাসিভরা চোখে আমার প্রতি চাহিয়া বলিল, “বাং, ধতি পরে কি সন্দের দেখাচ্ছে রে তোকে ও ধতির আজ জন্ম সাথক হ’ল!”—তাহার কথা শুনিয়া আমি লজ্জায় রাঙা হইয়া উঠিলাম। চাকর খাবার আনিল। ঝি আসন, থালা প্রভৃতি দিয়া গিয়াছিল। শচীনকে খাবার দিলাম। আহারান্তে তত্ত্বপোষের উপর বসিয়া পাণ ও সিগারেট সেবন করিতে বসিল। তাহার পাতে আমি খাইতে বসিলাম। আমার খাওয়া হইলে, শচীন বলিল, “এইবার আমি বেরই, তুমি দোর বন্ধ কর শয়ে একটা ঘমোও।” জিজ্ঞাসা করিলাম, “তুমি কোথা যাবে?” “থানায় থানায় গিয়ে খোঁজ নিতে হবে, তোমার স্বামী কোনওখানে ডায়োঁর করিয়েছেন কিনা। যদি করিয়ে থাকেন তবে তাঁর ঠিকানাও পাব। কিংবা পুলিশকে জানিয়ে আমি ভীত হইয়া বলিলাম, “আমি এখানে একলা থাকবো ?” “দিনের বেলা, ভয় কিসের ?”—বলিয়া শচীন বাহির হইয়া গেল। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ ॥ বকের হার - আমি ঘুমাইলাম। কাল সারারাত্রি জাগরণ, আজ ভিড়ে কটের পর, শরীর আমার অবশ হইয়া গিয়াছিল—খব ঘ মাইলাম। ঘুম ভাঙ্গিলে দেখিলাম, বেলা পড়িয়া গিয়াছে। মুখ-হাত ধইয়া, শচীনের অপেক্ষায় বসিয়া রহিলাম। - সন্ধ্যা হইল, ঝি আসিয়া ঘরে বাতি জালিয়া দিয়া গেল। প্রায় ৮টার সময় শচীন ফিরিল। বলিল, কোনও থানায় কেহ আমার সম্বন্ধে কোনও ডায়েরি করায় নাই। অবশেষে সে কালীঘাটে গিয়াছিল; প্রত্যেকটি ধারাবাসা তন্ন-তন্ন করিয়া খাজিয়া আসিয়াছে, কোথাও আমার স্বামীর সন্ধান পায় নাই। চারুক ভঙ্গি কদ ইপের চা সুত সুশে করিল। ,