পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একটা সিগারেট ধরাইয়া শচীন বলিল, “এখন উপায় ? তোমায় কি তোমার স্বামীর বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে রেখে আসবো ?” আমাকে নীরব দেখিয়া সে বলিল, “যদি বল, আমাদের বাড়ীতে নীহারবউদির কাছেও তোমায় রেখে আসতে পারি।” তথাপি আমি চাপ করিয়া আছি দেখিয়া শচীন বলিল, “কি ভাবছ তুমি ?” “আমি ভাবছি, তুমি আমায় স্বামীর বাড়ীতেই রেখে এস, আর নীহারদির কাছেই রেখে এস, তুমি আমায় কুড়িয়ে পেয়েছ, এক দিন এক রাত তোমার সঙ্গেই আমি ছিলাম, এ কথা শনলে আমার স্বামী কি ভাববেন ?” - চা আসিল। শচীন এক পার লইল অন্য পাত্র আমায় দিতে চাহিল। আমি চ৷ খাই না শনিয়া সে নিজেই উভয় পত্র গ্রহণ করিয়া বলিল, “এতে আর দোষটা কি ? একজন ভদ্রলোক যদি এ রকম অসহায় অবস্থায় কোনও বিপন্ন স্ত্রীলোককে পায়, সে কি তাকে তার বাড়ী পৌঁছে দেবে না ?” আমি বলিলাম, “কিন্তু তুমি যে ” “কেন, আমি কি দোষ করেছি ?” “তুমি না কর, আমি যে করেছিলাম। আর, সে কথা যে আমার স্বামীর কাণেও ; উঠেছে।” শচীন বিসিমত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কি কথা ?” আমার ভারি লভজা করিতেছিল, তথাপি কোনও মতে আমি বলিলাম, "বিয়ের পর, আমার স্বামী একবার পরলিয়াতে এসেছিলেন। ননীবালা তখন ন বছরের। আমার স্বামী রংগ করে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তোর বিনোদদিদি আমাকে কি রকম ভালবাসে বল দেখি। ননী বলেছিল, না তোমাকে ভালবাসে না, শচীনদীকে ভালবসে। স্বামী, জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘শচীনদা কে ? ননী বলেছিল, সে আমাদের বাড়ী থাকতো। তার সঙ্গে বিনোদিনীর বিয়ে হবার কথা হয়েছিল কিনা। দিদি ন:কিয়ে নকিয়ে তাঁকে দেখত, দুজনে হাসাহাসি করত, তারপর যখন বিয়ে ভেঙে গেল, সে চলে গেল, দিদি সেদিন কে’দে একবারে কুলক্ষেত্র করেছিল । তার পরেই ত তোমার সঙ্গে দিদির বিয়ে হ'ল কিনা!" শচীন বলিল, “আচ্ছা দণ্ট মেয়ে ত! তা, এ রকম সব কথা সে বানিয়ে বললে । কেন ?? “বানিয়ে বলবে কেন ?” “তবে কি সত্যিই তুমি—” সোঁতাই আমি”—বলিয়া মাখ নত করিলাম; বোধ হয় আমার গাল দটিও রাঙা হইয়া উঠিয়াছিল। শচীন কয়েক মহত্তকাল নীরব থাকিয়া বলিল, “তা হলে আমিও বলি। সেই পরলিয়াতে, যখন আমি সেখানকার জলইওয়ার গণে দিন দিন সন্থ সবল হয়ে উঠছিলাম, তোমায় যে আমি কি চোখে দেখেছিলাম, তা বলতে পারিনে, বাবা যখন চিঠি লিখলেন যে, তিন হাজার টাকার কমে তিনি কিছুতেই আমার বিয়ে দেবেন না, আমায় চলে আসতে হুকুম দিলেন, তখন আমার মাথায় যেন বজ্রাঘাত হ’ল। তোমার আশা জন্মের মত ছেড়ে, আমিও চোখের জল ফেলতে ফেলতেই সেখান থেকে চলে এসেছিলাম। এত দিনেও কি আমি তোমায় ভুলতে পেরেছি ? এ তিন বছরের মধ্যে বোধ হয় এমন একটি দিন যায়নি, যেদিন তোমার কথা আমার মনে পড়েনি।” শচীনের মুখে এই কথা শুনিয়া, পলকে আমার অঙ্গ শিহরিয়া উঠিল। স্বামীর আশা আমি একপ্রকার ত্যাগই করিয়াছিলাম। একেই ত শচীন সম্বন্ধে আমার প্রতি তাঁহার সন্দেহ। শচীন যদি তাঁহাকে খুজিয়া পায়, অথবা সঙ্গে করিয়া আমার দেশে । রাখিয়া আসে, তথাঙ্গি তিনি కా গ্রহণ করিবেন, এ সম্ভাবনা অতি প।