পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঢাকার বাঙ্গাল এক ঢাকা কলেজ হইতে পরেশনাথ প্রথমে এম-এ ও পরে বি-এল পাস করিয়া, পঞ্জিকা মতে এক অতি শুভদিনে ব্যবসায় আরম্ভ করিবার জন্য ঢাকার বার লাইব্রেরীতে প্রবেশ করিয়াছিল। পরেশের পৈতৃক-ভবন ঢাকা সহর হইতে কিছু দরে কোনও গ্রামে; নৌকায় যাইতে ৫।৬ ঘণ্টা মাত্র লাগে । উকীল হইয়াও পরেশ প্রথমে নিজ স্বতন্ত্র বাসা করে নাই; কারণ তাহার হাতে এ পরিমাণ মজদ টাকা ছিল না যে, ওকালতীর অনশন-কাল কাটাইয়া ওঠে। তাই সে মেসের বাসাতে থাকিয়াই, শেয়ারের ছক্কড় গাড়ী আরোহণে আদালতে “বাহির হইতে লাগিল। পরেশনাথের বয়স এ সময় ২৫ বৎসর মার--গৌরবণ যবো, দিব্য সঠাম চেহারা; পড়াশনাও বেশ ভাল রকমই করিয়াছে—এবং এখনও করিয়া থাকে,—কিন্তু হইলে কি হইবে, সে, যাহাকে বলে, একটা মুখচোরা’। সকল প্রসঙ্গে সকলের সঙ্গে ফর ফর করিয়া কথা বলা তাহার মোটেই আসে না। ইহাও একটা কারণ বটে;—দ্বিতীয় কারণ, এখানে তাহার কোনও সহায় ছিল না—তাই পরেশ পশার জমাইতে পারল না। পশার চলায় যাউক, মাসে মাসে মাসিক বাসা-খরচটা উপাতজন করাও তাহার পক্ষে কঠিন হইয়া দাঁড়াইল। সামান্য যাহা পাঁজি ছিল, তাহা দেখিতে দেখিতে ফরাইয়া গেল। তার পর বিধবা জননীর সামান্য সঞ্চয়ে হাত পড়িল। তার পর সত্ৰণীর অলঙ্কারেও হাত পড়িতে আরম্ভ হইয়াছে। এইভাবে, বছর দুই কাটিয়া গিয়াছে। বছরখানেক বার লাইব্রেরীতে ধরণা দিবার পর হইতেই, ওকালতী ব্যবসার প্রতি পরেশের ঘণা ধরিয়া গিয়াছিল; ইহাও সে বিলক্ষণ বুঝিতে পারিয়াছিল যে, তাহার প্রকৃতির মানুষের, এ ব্যবসায়ে কোনও দিনই কোনও সুবিধা হইবে না। তাই সে একটা চাকরির সন্ধান করিতেছিল। বিজ্ঞাপন দেখিয়া নানা সথানে দরখাস্ত করিয়াছিল, কিন্তু এ পয্যন্ত কোনও ফল দশো নাই। পরেশের ওকালতী জীবন দুই বৎসর পণ্যে হইবার পর, একদিন সংবাদপত্রে সে এক বিজ্ঞাপন দেখিল, কলিকাতাপথ কোনও সম্প্রান্ত ও পদপথ ব্যক্তির পত্রগণকে পড়াইবার জন্য একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিধারী সচ্চরিত্র গ্রহশিক্ষকের প্রয়োজন, মাসিক বেতন ৫o, মাত্র কিন্তু বাসা-খরচ লাগিবে না। প্রথম দশনে, এ বিজ্ঞাপন পরেশনাথের নিকট তেমন লোভনীয় মনে হইল না। এম-এ, বি-এল পাশ করিয়া শেষে ছি ছি, ৫০ টাকা বেতনের গৃহশিক্ষক ? তাও কোনও করদ রাজা মহারাজার গহেও নয়,—একজন সম্প্রান্ত ও পদস্থ ভদ্রলোকের গহে!—কিন্তু পরদিন সাত পাঁচ ভাবিয়া, সে একখানা দরখাস্ত ঝাড়িয়াই দিল। ভাবিল—“হবে না সে ত জানাই আছে। কত দরখাস্ত ত করা গেল, হ’ল কি কোনওটা ? যাক, দেখাই যাক না, দটো পয়সা বইত নয় ।" (ইহা ডাকমাশল বন্ধির পর্বের ঘটনা) এ দরখাতের কিন্তু জবাব আসিল। "হইল” ঠিক বলা যায় না, “হইলেও হইতে পারে” —ভবানীপুরের ঠিকানা দিয়া রায় বাহাদর খেতাবধারী এক ভদ্রলোক চিঠি লিখিয়াছেন—“আপনার সহিত সাক্ষাতে কথাবাত্ত কহিতে ইচ্ছা করি। আপনি আসিয়া আমার সহিত আগামী শব্রুেবার বেলা দশটার মধ্যে দেখা করন। যদি আপনি মনোনীত না হন, তবে আপনার যাতায়াতের ইন্টার ক্লাসের ভাড়া আমি দিব ।” এ পত্র পড়িয়া পরেশ চটিয়া গেল। সে আপন মনে বলিতে লাগিল, “হ্যাঃ—ভারি ত চাকরি তাও আবার জাঁকড়ে ! "ার হাদয়নাথ চাটাজি! কে হে তুমি