পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-মনিব পরিবারকে এ পয্যন্ত কিছুই জানানো হয় নাই। মোক্ষদার ভারি লজ্জা করে .—ছিঃ এতদিন বিধবার মত থাকিয়া কেমন করিয়া বলিবে ও বাড়ীর ঐ ভজা আমার স্বামী ! লোকে যদি অবিশ্বাস করে, তখন সাক্ষী প্রমাণ কোথায় পাইবে ? শুঞ্জাও তাহার মনিবকে বলিতে সাহস করে না—তিনি শুনিলেও হয়ত বিশ্বাসই কারবেন না ; হয়ত ভাবিবেন, ও বাড়ীর ঐ সশ্রী ঝিটার উপর তাহার লোভ পড়াতে ছড়িকে রাজি করিয়া এই মিথ্যা দাবী উপস্থিত করিয়াছে ; এবং জাতিয়ে হাড় ভেঙ্গে দিবেন। এখন আর মোক্ষদা গহিণীর সহিত বিকালে বেড়াইতে যায় না; উভয় বাটীর লোকে বেড়াইতে বাহির হইলে সে স্বামীর সহিত নিভৃতে সাক্ষাতের সংযোগ অন্বেষণ করে ; এবং মাঝে মাঝে সে সযোগ পাইয়াও থাকে। উভয় বাটীর বাগানের সীমানাল্প পশ্চাদভাগে একটা মস্ত কামিনী ফলের ঝাড় আছে, তাহার আড়ালে বসিয়া উভয়ে প্রায়ই কিছুক্ষণের জন্য কথাবাত্তা কহে । - - প্রথম দিন মোক্ষদা জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, “হ্যাঁরে, তুই এমন কাজ কেন করতে গিয়েছিলি বল দেখি ?" ভজা বলিয়াছিল, “থানায় যাচ্ছি বলে তোকে শাসিয়ে সেই ষে বাড়ী থেকে বেরলাম; —বাঝলি মুখী, খানিক দূরে গিয়ে ভাবলাম, তুই হলি আমার আপন ইন্তিরী তোকে জেলে দেওয়াটা ত ভাল হবে না, লোকে শনলে বলবে কি ? গায়ে থুতু দেবে যে ! তার চেয়ে বরং অন্য রকমে তোকে জব্দ করাই ভাল। মাছ খেতে তুই বন্ড ভালবাসিস, মছ না পেলে ধড়ফড়য়ে মরিস, তাই ভাবলাম, দাঁড়া তোকে জব্দ করছি। তোকে বিধবা করে তোর মাছ থাওয়া বন্ধ করছি শালী !—এই ভেবেই, ধৃতি গামছা ডাঙ্গায় ছেড়ে রেখে পদ্মায় গিয়ে ঝাঁপ দিয়েছিলাম।” o “ধতি গামছা ডাঙ্গায় ছেড়ে রেখে গিয়েছিলি কেন ?” “গাঁয়েরই ঘাটত। সেই ধতি গামছা ওখানে দেখে, কেউ না কেউ চিনতে পারবে —আমার নাস যদি ভেসে নাও ওঠে, তা হলেও বোঝা যাবে যে জলে ডাবে আমি আত্মহত্যে করেছি। তবে ত তোর মাছ খাওয়া বন্ধ হবে ।” - . মোক্ষদা বলিল, “তোর কি বৃদ্ধি রে! আচ্ছা যখন দেখলি যে বেচে আছিস, তখন বাড়ী, এলিনে কেন ?” , - “চাকরি করছিলাম যে ! ভেবেছিলাম, মাসকতক চাকরি করে কিছু টাকা জমিয়ে গিয়ে দেখিয়ে দেবো আমি রোজগার করতে পারি কি না। দেশে গিয়ে শনলাম, তুইও কলকাতায় এসেছিস চাকরি করতে। সেই অবধি কত জায়গায় যে তোকে খুজেছি তার ঠক নেই। কার্য বাড়ীর বিকে পথে ঘাটে দেখলেই অমনি তার পিছ নিয়েছি। জিজ্ঞাসা করেছি। হ্যগিা, রায়গঞ্জের মোক্ষদা গয়লানী কোথায় ঝিগিরি চাকরি করে জান কি ? কউ বলতে পারেনি।” * - পরদিন বিকালে যখন কামিনী ঝাড়ের আড়ালে উভয়ের সাক্ষাৎ হইল, তখন ভজহরি কলাপাতায় জড়ানো একখন্ড ভাজা মাছ বাহির করিল দেখিয়া মোক্ষদা জিজ্ঞস করিল, “মান্থ আনলি কেথেকে ?” ভজহরি বলিল, “আজ চার বচ্ছর তুই মাছ খেতে পাসনি—আহা তের কত কস্ট হয়েছে! তাই তোর জন্যে এনেছি।” “কোথা পেলি ?” , w "বামন ঠাকুর আজ ভাতের সঙ্গে আমায় যে মাছ দিয়েছিল, সে মাছ আমি খাইনি, তোর জন্যে নাকিয়ে রেখেছিলাম। নে, খা”—অলপ দরেই একটা খল ছিল। মোক্ষদা চার বৎসর পরে স্বামীর প্রসাদ ভক্ষণ করিয়া, সেই খালের জলে হাত মাখ-ধইয়া আসিয়া, আবার গল্প করিতে বসিল। - జా బోళ శా స్కౌగా E a প্রথম প্রথম ২৪ মিনিটের ১৬ -