পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিন্তু কি জানি কেন তিনি রণে ভঙ্গ দিতে চাহিলেন না। বাবা অবশেষে অগ্নিশৰ্মা হইয়া তাহার বাকী টাকা পয়সাগুলি মঠা করিয়া হাহাকারের সহিত সেই গরীবের গায়ে ছড়াইয়া ফেলিয়া দিলেন; সে ব্যক্তির আর যাওয়া হইল না। আহা, আবার বোধ হয় তাহাকে পাঁচ সাত ক্লোশ হাঁটিয়া বাড়ী ফিরিয়া একটি ভাল টাকা সংগ্ৰহ করিয়া আনিতে হইয়াছিল। সেই দিন রাত্রে ডাকগাড়ীর পকে এক সাহেব আসিয়া বোম্বাইয়ের টিকিট চাহিলেন। নোট দিয়া তাঁহার যে টাকা ফিরিল, তাহার সহিত আমাকেও যাইতে হইল। আমি সমকোমল চমপেটিকায় বন্ধ হইয়া সাহেবের পকেটে বাসা করিলাম। পথে যাইতে যাইতে কথায় বাত্তায় জানিতে পারলাম, তিনি ‘নতন ম্যাজিস্ট্রেট হইয়া ইংলণ্ড হইতে আসিয়াছিলেন, সম্প্রতি ছটি লইয়া বিবাহ করিতে যাইতেছেন। আমি মনে করিলাম, এই সযোগে একবার বিলাতটা বেড়াইয়া আসা হইবে; আশায় উৎফুল্ল হইয়া কালাতিপাত করিতে লাগিলাম। কিন্তু আমার মনোরথ পণে হইল না; সাহেব জাহাজে আরোহণ করিবার পবে যে হোটেলে পানাহার করিলেন, তথায় আমায় পরিত্যাগ করিয়া গেলেন। আমি হোটেলের ক্যাশবাক্সে এবং ক্যাশবাক্স হইতে আয়রণচেণ্টে সৰ্থান প্রাপ্ত হইলাম। আমি এই সময় তাহাকে বাধা দিয়া বলিলাম,—“ওহে তোমার গলপ যে ক্রমশঃ ডল’ হইয়া পড়িতেছে ; আমার পাঠকেরা যে বিরক্ত হইয়া উঠিবেন : তাহা ছাড়া তোমার জীবনের প্রতি ঘটনা এরূপ পঙ্খোনুপুঙ্খরুপে লিখিতে গেলে প্রবন্ধের কলেবর যে নিতান্ত দীঘ হইয়া পড়িবে। তুমি বরং তোমার জীবনের প্রধান প্রধান ঘটনাগুলি সংক্ষেপে বলিয়া যাও।” মনুখনল বলিল,— বটে ? আচ্ছা তাহাই হইবে। আর আমার জীবনের বেশী বাকীও নাই, কিন্তু আসল ঘটনাগুলিই বাকী রহিয়াছে। উঃ-অামি এত দঃখ সহ্য করিয়াছি, এত সুখভোগ করিয়াছি যে, তোমরা হইলে আতিশয্যে দম ফাটিয়া মরিয়া যাইতে । মন দিয়া শন । - হোটেলের আয়রণচেটে প্রতিদিন টাকা যাহা জমা হয়, পরদিন সমসত ব্যাকে গিয়া পৌঁছে—কিন্তু আমাকে ব্যাকে যাইতে হইল না। হোটেল-সাহেবের কনিষ্ঠ পত্রটি অত্যন্ত শিকারপ্রিয়। সে সেই দিন বহ বন্ধ সমভিব্যাহারে দরদেশে শিকার করিতে টুলিল। পথখরচের জন্য একখানা নোট ভাঙ্গাইয়া টাকা লইল, তাহার মধ্যে আমি পড়িয়া গেলাম। সাহেবতনয়গণ বোম্বাই স্টেশনে গাড়ী চড়িয়া পাঁচ ছয় ঘণ্টার পর এক পথানে অবতরণ করিল; টেশনের কিছু দরে তাব ফেলা ছিল; সেখানে পানাহার করিয়া ছিপ হিপ হররে নাদে দিগন্ত প্রকম্পিত করিতে করিতে জগলে প্রবেশ করিল। দুদোম বন্দকের আওয়াজ, বিজাতীয় চীৎকার, কখনও ধীরপদে গমন, কখনও ধাবন, "খনও লম্ফন এইরূপ করিয়া সন্ধ্যা হইয়া আসিলে সকলে তামবতে ফিরিল। এইরূপ হেবের পকেটে থাকিয়া প্রতিদিন শিকারে যাইতে লাগিলাম। একদিন একটা কৃষ্ণসারজাতীয় হরিণ সাহেবদের লক্ষ্য ব্যথা করিয়া একটা গভীর জঙ্গলে লক্কোয়িত হইল। গে গলের ভিতর প্রবেশ করিতে সাহেবেরা অনেক চেষ্টা করিল, কিন্তু পথ খুজিয়া পাইল না। সেই স্থানে কাঠারিয়াদের একটি ছোট মেয়ে কাঁসার মল পরিয়া দাঁড়াইয়া এামাসা দেখিতেছিল, সে বলিল,-“সাহেব লোক, আমি প্রবেশের পথ দেখাইয়া দিতে পারি, আমায় কি দিবে আগে বল।” আমার সাহেব, পেণ্টালনের পকেট হইতে আমাকে - আখির করিয়া মেয়েটিকে দেখাইল; দেখাইয়া আমাকে বক-পকেটে ফেলিয়া দিল। মেয়েটি আগে চলিল, সাহেবেরা তাহার অনুগমন করিল। শেষে মেয়েটির দশিত পথে এক খনে খ,থ ঝ:কিয়া দুই হাতে ডালপালা ঠেলিয়া জঙ্গলে প্রবেশ করিল। মেয়েটি তখন প্লওম,৩ পুরস্কার চাহিল; সাহেব বন্দক উঠাইয়া বিকৃত মোটা গলায় বলিল, HHH 00S0S S BB BBBB BBBBB BBB BBB BBB BBBS BBBB BBBB দেখি। আমার বড় লৎজা হইতে লাগিল: ইচ্ছা করিতে লাগিল, এই দ্বরাচারের কাছ &