পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তখনও যথেষ্ট দিবালোক ছিল। হেনরি পত্ৰখানি হাতে করিয়া এ পিঠ ও পিঠ দেখিতে লাগিল। মদম্বরে জিজ্ঞাসা করিল-“এ কার পত্র ?" "ট্র্যান্ড সম্পাদকের পত্র।” “না। এ কাহার নামে আসিয়াছে ? মরিসন কে ?” “সেই যে আমার সেই বন্ধ যিনি তোমার ফোটাে তুলিয়াছিলেন, তাঁহার নাম মরিসন। পড় না।” হেনরি পত্ৰখানি পড়িল। আমি তাহার মুখের পানে চাহিয়া রহিলাম। যতক্ষণ পত্র পড়িতেছিল, ততক্ষণ তাহার স্বচ্ছ সন্দর বান্ধক্য-রেখাঙ্কিত মখে কত রকমের ভাব খেলিয়া গেল ! পত্র পড়িয়া হেনরি মুখখানি মলান করিয়া রহিল। আমি বলিলাম--“সার হেনরি।” হেনরি যেন চমকিয়া উঠিল। বঝিলাম এখনও হেনরি সপণে আরোগালাভ করিতে পারে নাই। পত্রে পড়িল আমরা তাহার প্রকৃত পরিচয় অবগত হইয়াছি, অথচ তাহারা প্রকৃত নামে ডাকাতে সে চমকিল । হেনরি বলিল—“কি ?” আমি বলিলাম—“আমাদিগকে মাপ কর।” “কেন ?” “তোমার প্রকৃত পরিচয় অবগত ছিলাম না ; আতিথ্যের কত ক্ৰটি হইয়াছে ! কত কট পাইয়াছ । আমাদের এই অজ্ঞানকৃত অপরাধ ক্ষমা কর।” হেনরি অত্যন্ত সঙ্কুচিত হইয়া বলিল—“আমার সঙ্গে তোমরা যেরূপ ব্যবহার করিয়াছ, তাহাতে তোমাদের আশ্চৰ্য্য সহদেয়তা, অমায়িকতা ও পরদুঃখকাতরতা প্রকাশ পাইয়াছে। আমি যতদিন বাঁচিয়া থাকিব, তোমাদের উপকার বিস্মত হইব না।” “আমি আর তোমার কি উপকার করিয়াছি সার হেনরি ? তুমিই বরং আমার মেয়ের প্রাণ বাঁচাইয়াছ।” - হেনরির মুখে এতক্ষণে একটু হাসি দেখা দিল। গিরিবালার প্রসঙ্গ মাত্রেই সে আনন্দিত হইত। বলিল—“আমি যদি তোমার মেয়েকে বাঁচাইয়া থাকি, তুমিও ত আমাকে তাহার জন্য যথেষ্ট মাল্য দিয়াছ।” আমি মনে করিলাম, হেনরি আতিথ্যের উল্লেখ করিতেছে। বলিলাম—“আমি তার তোমায় কি দিয়াছি ? আমি যৎসামান্য যাহা তোমার জন্য করিয়াছি, তুমি আমার কমে' সহায়তা করিয়া তাহার ঋণ শোধ করিয়াছ ।” হেনরি আবার হাসিল: বলিল—“না না তাহার অপেক্ষা তুমি আমাকে ঢের বেশী সল্যবান জিনিষ দিয়াছ।” “কি ?” "কেন, গিরিবালাকে আমায় দিয়াছ। হাসিলে যে। কেন ? ভারি অসম্ভব নাকি ? তুমি ত ব্রাহ্ম, তোমার ত জাতিচ্যুতির ভয় নাই। গিরিবালাকে আমি বিলাতে লইয়া গিয়া উহাকে সেখানে কোনও প্রথম শ্রেণীর বিদ্যালয়ে ভক্তি করিয়া দিব, উহাকে মানুষ করির, লেখাপড়া শিখাইব, তাহার পর হয়ত কোনও সম্প্রান্তবংশীয় সচ্চরিত্র সুশিক্ষিত লণ্ডন প্রবাসী বঙ্গীয় যুবকের সহিত উহার বিবাহ দিব।” আমি বলিলাম—“না । সে কি হয় ? আমি ছাড়িলেও, আমার প্রত্নী ছাড়িবেন কেন ?” হেনরি ভ্ৰকুটি বিস্তার করিয়া বলিল—“বেশ! মনে নাই ? তিনি ত গিরিবালাকে আমায় দান করিয়াছেন।” সার হেনরি এখন বিলাতে। সম্পণে আরোগ্যলাভ করিয়াছেন " উল্লিখিত কথাবাত্তার একমাস পরে তাঁহার ভ্রাতুলপত্র স্বয়ং আসিয়া তাঁহাকে সঙ্গে করিয়া লইয়া গিয়াছেন। প্রায় প্রতি মেলেই চিঠি পাই। >8