পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লইয়া নীচে নামিয়া গেল। স্নান করিয়া অ সিরা সাবধানে কেশবিন্যাস করিয়া, মগেন্দ্র খাবার খাইয়া চা পান করিল। সন্ধীরকে বলিল, "ওহে তৈরী হয়ে নাও।” / সন্ধীর বলিল, “আমি—আমার আর যাবার দরকার আছে কি ? হয় ত একজন তৃতীয় ব্যক্তি উপস্থিত থাকলে সে নিজের জীবন কাহিনী—“ নগেন্দ্র বলিল, “জীবন কাহিনী কি আজই তাকে জিজ্ঞ সা করবো? আজ একটা আলাপ পরিচয় করে তাসা মাত্র। চল চল। অন্ততঃ আজকের দিনটে ত চল । অন্যদিন না হয় আমি একাই যাব।” সন্ধীর অগত্যা কাপড় বদলাইতে গেল। ফিরিয়া আসিয়া দেখিল, নগেন্দ্রের ঘরখানি সৌগন্ধে ভুর ভুর করিতেছে। নগেন্দ্র, জামাইবাবটি সাজিয়া বসিয়া বসিয়া সিগারেট ফকিতেছে। প্রভাবতীকে উপহার দিবার জন্য হাতে একখানি "সমাজদ্রোহী” পুস্তক। উভয়ে তখন বাসা হইতে বাহির হইল। বড় রাস্তায় পেশছিয়া নগেন বলিল, “ওহে একথানা ট্যাক্সি ধরা যাক।” সন্ধীর বলিল, “কত দরই বা ? মিছামিছি আর ট্যাক্সি কেন দাদা ?” নগেন্দ্র বলিল, “ওহে, গরমটি কি রকম দেখছ? হেটে গেলে, ঘামে ভিজে, ভিজে বিড়ালটি হয়ে সেখানে পৌঁছব । ঘেমো গন্ধে কি সে বেচারীর মাথাটি ধরিয়ে দেবো ?” রাস্তা হইতে একটি ট্যাক্সি ধরা হইল। দশমিনিটের মধ্যে ট্যাক্সি ঠিকানায় পেপছিল। নগেন্দ্র ট্যাক্সি হইতে নামিয়া, দরজার উপর বাড়ীর নম্বরটি দেখিল । ঠিক হইয়ছে জানিয়া, তথাপি ভিতরে প্রবেশ করিতে একটা ইতস্ততঃ করিতে লাগিল। এমন সময় একজন ভূত্যকে বাহির হইতে দেখিয়া নগেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিল, “এজি দেখো, প্রভাবতী বিবি হিয়া রহতা হায় ?” ভূত্য বলিল, “হ্যাঁ বাবা, তেতলায় আছেন।” - দুইবন্ধ তখন অঙ্গনে প্রবেশ করিল। নিজজন অঙ্গন পার হইয়া সিড়ি উঠিয়া, বিতলে এবং ক্লমে ত্রিতলে উঠিল। দেখিল, একটি কক্ষে বিদ্যুৎ আলোক জৰূলিতেছে, পাখা চলিতেছে, ফরাস বিছানায় একজন স্ত্রীলোক একটি কুকুর কোলে করিয়া বিমষ বদনে বসিয়া আছে। দুই বৎসর পরে দেখিলেও, নগেন তাহাকে চিনিতে পারিল । অগ্রে অগ্রে নগেন্দ্র, পশ্চাতে সন্ধীর। বারের নিকট উপস্থিত হইয়া নগেন বলিল, “প্রভাবতা—ভাল আছ ত ?” প্রভাবতী দাঁড়াইয়া উঠিয়া বলিল, “আপনারা কে ? চিনতে পারছিনে ত ?” নগেন্দ্র বলিল, “চিনতে পারছ না ?”-বলিয়া হাসিতে হাসিতে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল। সন্ধীর তখনও বাহিরে দাঁড়াইয়া। প্রভাবতী রক্ষসবরে বলিল, “কি রকম ভদ্রলোক মশাই আপনি ? বলা নেই, কওয়া নেই, ঘরে ঢুকে পড়লেন যে ?” বলিয়া চীৎকার করিয়া উঠিল “পলিশ, পলিশ ”ি পর মহত্তে পাশের ঘরখানির বন্ধদ্বার খলিয়া গেল। চারজন কনটেবল তন্মধ্য হইতে ছটিয়া বাহিরে আসিয়া “শালা গন্ডা”—বলিয়া, এক একজনের উভয় হস্ত, দদুজন ধরিয়া ফেলিল । প্রভা বলিল, “এই লোক গন্ডা হয়। হামকো খনন করনে আয় হায় ।” নগেন্দু বলিল, “প্রভা, এ কি কান্ড ই আমি নগেন্দু-নগেন্দ্ৰ—এদের বল—” প্রভা বলিল, “নগেন্দ্র তোমার কুন্দনন্দিনীর কাছে যাও। এখানে কেন মরতে এসেছ ? পাহারাওয়ালা, এই দনো আদমি গণ্ডী হায়, হামকো খন করনে আয়া হয়। পাকড়কে "ৰেল" বলিয়া ধাৱ দিতে দিতে কনস্টেবলন্বয়, ঔপন্যাসিক ও তাঁহার ভক্তকে থানায় লইয়া চলিল। ...»ፃo