পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্ৰান্ত ও পদস্থ ব্যক্তি ? তোমার নামও ত কখনও শনিনি জীবনে। ভেবেছিলাম হয়ত বা রবীন্দ্র ঠাকুর, কি জগদীশ বোস কি প্রদোৎকুমার, কি দীঘপাতিয়া—এই রকম কেউ একজন নামজাদা লোকের বিজ্ঞাপন। তা নয়, হৃদয়নাথ চাটজি ঘোড়ার ডিম যাবে।” পরদিন ডাকে পরেশ তার সন্ত্রীর নিকট হইতে একখানি পত্র পাইল। সে লিখিয়াছে, জমিদারের গোমস্ত খাজনার জন্য বড়ই বিরক্ত করিতেছে ; খোকার গোয়ালার দুধের দামও তিন মাসের বাকী, সে বলিয়াছে অন্তত এক মাসের টাকা শোধ না করিলে সে দধ বন্ধ করিবে—অতএব গোটা কুড়ি টাকা না হইলেই চলে না ইত্যাদি। এই পত্র পড়িয়া পরেশের মনটা খারাপ হইয়া গেল। ভাবিল, দীর হোক ছাই— এ রকম করে আর কতদিন চলবে ?—অত মান অপমানের হিসেব করতে গেলে চলে না —যাই, মহা সম্প্রান্ত ও মহাপদপথ সেই অজ্ঞাতনামা রায় বাহাদরের তাঁবেদারীই করিগে। sাস গেলে পঞ্চাশটে টাকা পাব ত ? বাসা-খরচ লাগবে না, নিজের কাপড় জমতেী—সে আর কতই ? বাড়ীতে মাসে মাসে যদি কুড়িটে টাকাও মনিঅৰ্ডার করে পাঠাই তাহলেই তারা বেশ সুখে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারবে। যাই দেখি, মহামতি চাট-যো মশাই অামায় ‘মনোনীত করেন কি না।” কিন্তু টাকা কোথায় ? বাড়ীতে ২০, এবং কলকাতার পাথেয় সবরপ অন্ততঃ ২০–এই ৪০ টাকা এখনই প্রয়োজন। শবশারদত্ত একছড়া সোণার চেন তাহার ছিল; ইতিপবে সন্ত্রীর অলঙ্কার সে বিক্ৰয় করিয়াছে কিন্তু এটিকে বিক্রয় করে নাই—কারণ সপটে অন্ন থাকুক আর নাই থাকুক, তদুপরি সোণার চেন ঝালাইয়া আদালতে না গেলে উকীলের মৰ্য্যাদা থাকিবে কেন ? সেই চেনছড়টি বিক্রয় করিয়া বাড়ীতে ২০, পঠাইয়া দিয়া বাকী অথ* সঙ্গে লইযা পরেশ কলিকাতা যাত্রা করিল। मदुई শিয়ালদহে নামিয়া, “পান্থ-নিবাস" নামক হোটেলে নিজের বাক্স ও বিছানা রাখিয়া, চা খাইয় পরেশ ভবানীপর যাত্রা করল। নিন্দিটি ঠিকানায় গিয়া দেখিল, বাড়ীটি বড়মানুষী ধরণের বটে। ফটকে কাঠের চেয়ারের উপর ভে জপুরী দ্বারবান গবিবতিভাবে বসিয়া আছে—বেটা যেন লাট ! ইহা দেখিয়া পরেশ সেখানে দাঁড়াইল না। অলপদরে রাস্তার মোড়ে একটা পাণের দোকান ছিল, সেখানে গিয়া এক পয়সার মিঠা খিলি কিনিল । দেড় পয়সা দিয়া একটা কাঁচি সিগারেট কিনিয়া, তাহা ধরাইয়া পাণওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করিল, “ঐ যে বড় বাড়ী, ফটকে দরোয়ান বসে’ আছে, ও বাড়ী কার হে ?” পাণওয়ালা বলিল, “জানেন না বাব ? উনি রায় বাহাদর রিদয়বাব। ঐ যে চিড়িয়াখানার কাছে ছোটলাট সাহেবের কুঠী আছে না ? উনি সেই কুঠীর মেনেজার, মসত লোক ?” “ওং”—বলিয়া পরেশনাথ ধীর পদে, সেই ব:ড়ীর দিকে ফিরিয়া আসিয়া আসিল । বারবান হস্তে, রায় বাহাদরের চিঠিখানি পাঠাইয়া দিল। ক্ষণকাল পরেই তাহার ডাক পড়িল। পাজামা স্যুট পরিয়া রায় বাহাদর ড্রয়িং রমে বসিয়া, গড়গড়িতে তামাকু সেবন করিতে করিতে খবরের কাগজ পড়িতেছিলেন। চোখে সোণার চশমা। বয়স তাঁহার পঞ্চাশের উপবৈ উঠিয়াছে—দেহখানি পথল, বণটি খুব উত্তজনল শ্যাম-প্রায় গৌরবণ বলিলেই হয় । পরেশনাথ প্রবেশ করিতেই তিনি তাহার সহিত শেকহান্ড করিয়া বলিলেন, "বসন।” २१