পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হবে ; যদি বলে পারবে না, তাহলে পথে যেতে যেতে চাঁদনি থেকে ছাঁর কাঁটা চামচ কিনে নিতে হবে বইকি।” “আচ্ছা, তা যেন হল ; কিন্তু যদি সে বলে যে ভাত-টাত খাওয়া আমার অভ্যাস নেই, ও আমার সহ্য হবে না, তখন ?” “তা যদি বলে, তবে নবীন ফার্মাসি থেকে একখানা গ্রেট ইস্টাণের পাউরটি কিনে এনে দেওয়া যাবে।” এই যবেকবয়ের একটির নম—অনিলকুমার, অপরের নাম সবোধচন্দ্র। ইহারা, এবং আসন্ন অতিথি বিনয়ভূষণ একই জেলার লোক ; একই বৎসরে ম্যাট্রিক পরীক্ষা পাস করিয়া কলিকাতায় কলেজে পড়িতে আসিয়া, এক মেসে অবস্থান জন্য বন্ধুত্বসত্রে আবদ্ধ হইয়াছিল ; চারিবৎসর কাল একত্র অবস্থানে সে সত্র আরও দৃঢ় হইয়া উঠিয়াছিল। বি-এ পাস করার পর অনিল ও সবোধ ল-কলেজে ভৰ্ত্তি হয়, বিনয় বিলাত যাত্রা করে। বিনয়ের পরলোকগত পিতা, পিতামহ প্রভৃতি সঙ্গীতকলায় বিশেষ পারদর্শিতা জন্য নিজ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠালাভ করিয়াছিলেন। বাল্যকাল হইতে গীতবাদ্যের প্রতি অত্যন্ত সে অনুরক্ত : কলিকাতায় পঠদ্দশায়, ইউনিভাসিটি ইনস্টিটুটে, সমবন্ধনা সভায়, লাইব্রেরীর বার্ষিক উৎসবে এবং অন্যান্য সর্থানে গান গাহিয়, লোককে সে মোহিত করিয়া দিত। তাই পিতার মৃত্যুর পর, নিজ অংশে অনেকগুলি টাকা পাইয়া, সঙ্গীতবিদ্যা শিক্ষার জন্য সে বিলাত চলিয়া গিয়াছিল। কেনসিংটন কলেজ অব মিউজিক হইতে শেষ পরীক্ষায় সসন্মানে উত্তীণ হইয়া ডিগ্রী লাভ করিয়া, সে আজ দেশে ফিরিয়া আসিতেছে। সবোধ নিজের বাসায় তাহাকে লইয়া যাইবে, এই আশায় সকল বন্দোবসত করিয়া রাখিয়া, অনিলকে লইয়। iজটিতে আসিয়া দাঁড় ইয়া আছে। অনিল অন্য বাসায় থাকে। বেলা সাড়ে দশটা হইল, এগারটাও প্রায় বাজে-তখন দরে গঙ্গার বাঁকে ধমরেখ দষ্ট হইল। সাহেব মেমেরা চঞ্চল হইয়া উঠিল—সকলেই বলাবাল করিতে লাগিল, ঐ জাহাজ আসিতেছে।” অনিল ও সবোধও সেই দিকে চাহিয়া, এতক্ষণ প্রতীক্ষা করার শুক্লশ ভুলিয়া গেল। ক্লমে জাহাজখানি সপেস্ট আকার ধারণ করল। আরও কিছুক্ষণ পরে, ধোঁয়ানলের ভস ভস আওয়াজটাও বেশ শনা যাইতে লাগিল। জাহাজ গঙ্গাবক্ষের মাঝখান দিয়া ধীর মন্থর গমনে আসিয়া, ক্ৰমে জেটি লক্ষ্য করিয়া মুখ ফিরাইল। সবোধ ও অনিল দেখিল, ডেকের উপর বহুসংখ্যক স্বীপরাষ যাত্রী দাঁড়াইয়া আছে। কেহ কেহ জেটিতে আত্মীয়স্বজনকে দেখিতে পাইয়া রমাল ঘরাইতে লাগিল। জেটির উপর হইতেও অনেকেই রমাল ঘরাইতে লাগিল। সবোধ ও অনিল নিজ নিজ পকেটে রমালের প্রান্তভাগ ধরিয়া রহিল, কিন্তু তাইদের প্রিয় বান্ধবের কোন চিহ্নই দেখিতে পাইল না। ক্ৰমে জাহাজ আরও নিকটে আসিল, ক্ৰমে উহা জেটির সংলগ্ন হইল। অমনি বহলসংখ্যক “কুলি”লাফাইয়া জাহাজে উঠিল । জাহাজের উপর একটা ভারি সে রগোল পড়িয়া গেল; যাত্ৰিগণ কুলি সঙ্গে লইয়া নিজ নিজ ক্যাবিনের দিকে ছটিতে লাগিল; কিন্তু কই, বিনয় কই ? অলপক্ষণ পরেই জাহাজ হইতে যান্নিগণের অবতরণ আরম্ভ হইল। সবোধ ও অনিল ভিড় ঠেলিয়া “গ্যাংওয়ে"র যথাসম্ভব নিকটে গিয়া দাঁড়াইয়া পর্যয়থারিগণের মখ নিরীক্ষণ করিতে লাগিল। সবই সাদা মুখ—কালোরপেও কাঁচৎ দই একটি নামিল; কিন্তু তাহারা ত বিনয় নহে! জাহাজের ড়েক প্রায় খালি হইয়া আসিয়াছে, তখন সবোধ ও অনিল উল্লাসে চীৎকার করিয়া উঠিল। ধতি পরা, রেশমী চাদর গায়ে, তাহদের বিনয়--ঐ যে আসি- , তেছে, জেটির ভিড়ের পুনে চাহিয়া চাহিয়া দেখিতেছে, আর তাহার পশ্চাতে মাথার Уb- в