পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সবোধ বলিল, “আরও বোধ হয় কিছ জটলো।” “আর কি ?” “একটি মোটা রকম শ্বশরও বোধ হয় জক্টলো।” অনিল বলিল, “ধুৎ ! তুমি কি ভাবছ, ঐ ছড়িটাকে lesson দিতে দিতে বিনয় ওর প্রেমে পড়ে হাবড়বে খেতে থাকবে? আর, ছড়িটা বলবে, তেন্টর সময় মাস্টার মশাই তোমায় আমি হদে বসাই!’ ” সবোধ বলিয়া উঠিল, “ধুৎ—পাগল আর কি ?” অনিল বলিল, “ভায়া, সেই টিকিধারী বড়ো চাণক্য পণ্ডিত যে বলে গেছে ঘি আর আগন—বন্ধিমান একত্র স্থাপন করবে না—সে কথাটা নেহাৎ গাঁজাখুরি মনে কোরো না। আর, তাই হয়েই যদি যায়—মন্দ কি ? মেয়েটি যদি সংবভাব সদ্বংশজাতা হয়, সুশিক্ষিতা হয়—হোক না তার সঙ্গে বিনয়ের বিয়ে-তোমায় মিতবর করে দেওয়া যাবে এখন !”—বলিয়া সে হাসিতে লাগিল। প্রায় পনেরো মিনিট পরে বিনয় ফিরিয়া আসিল। উভয় বন্ধ উৎকণ্ঠিত হইয়া তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, “ব্যাপার কি হে ?” বিনয় বলিল, “ব্যাপার গরতর। ঐ মেয়েটিকে ওদের বাড়ী গিয়ে, হস্তায় তিনদিন' করে, ইংরেজি গান বাজনা শেখাবার জন্যে বাবটি আমায় এনগেজ করতে এসেছিলেন।” “কি দেবেন ?” “প্রথমে বলেছিলেন, মাসে ১oo-তারপর ১৫o, পৰ্য্যন্ত উঠেছিলেন।” অনিল বলিল, “হস্তায় তিন ঘণ্টা-মাসে ১২ ঘন্ট-কিছ কম হয় বটে। কিন্তু ভাই, প্র্যাকটিসের প্রথম অবস্থায়—তা আর কি করবে বল-বীকার করলে ত?” বিনয় বলিল, “না। টাকা কম বলে ষে স্বীকার করিনি—তা নয়। সব কথা বলি শোন। বাবটি প্রথমে ত আমার খুব প্রশংসা-স্ট্রশংসা করলেন। বললেন, মেয়েটির এখনও বিবাহ দেন নি, ভাল রকম লেখাপড়া শিখিয়ে তবে তার বিবাহ দেবেন। অষ্যশক্তিতে আমার বিষয় পড়ে, তাঁর মনে বড়ই ইচ্ছে হয়েছে যে আমাকে তাঁর মেয়ের শিক্ষক নিযুক্ত করে, ইংরেজি গান বাজনাও তাকে শেখান। এই পৰ্য্যন্ত বলে, মেয়েটিকে বললেন, তুমি একটু ওঘরে গিয়ে বস ত মা, আমি এর সঙ্গে আর সব বিষয় ঠিক করি। মেয়েটি উঠে গেল। তখন তিনি চপি চপি আমায় বললেন, ঐ মেয়েটি, তাঁর বিবাহিতা পীর মেয়ে নয়—ওঁর রক্ষিতার মেয়ে। মেয়েটি কুপথে যায় এটি ওঁদের ইচ্ছে নয়—সেইজন্যেই তাকে ভাল রকম লেখা-পড়া শেখাচ্ছেন—আশা করেন, হিন্দ সমাজে ত হবার উপায় নেই—হিন্দ সমাজের বাইরে, অথবা বিলাতফেরৎ সমাজের কোনও সপোত্রের সঙ্গে হয়ত একদিন ওর বিবাহও দিতে পারবেন।” অনিল বলিল, “এবং সে বিলাতফেরৎ তুমি হলেও হতে পার, এই আশাও বোধ হয় ,&র মনে ছিল!” বিনয় বলিল, “তা জানিনে। কিন্তু আমি তাঁকে বললাম, যে কোনও ভদ্রপরিবারে গিয়ে আমি শিক্ষা দিতে প্রস্তুত আছি, কিন্তু এ অবস্থায় আমার দ্বারায় ও কায হবে না-আমায় క్జా శా! এই ত বলে এলাম ভাই রঢ়েভাবে নয়—বেশ বিনয় করে, মিষ্টি করে’, יין সবোধ ও অনিল উভয়েই বলিল, “বেশ করেছ।” ৷ ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ ॥ কিন্তু কোনও ভদ্র পরিবার হইতে, পত্র-কন্যাকে গীত-বাদ্য শিক্ষা দিবার জন্য বিনয়ের আহবান আসিল না। চারি পাঁচ দিন পরে হরিক নামক একুৰি আসিয়া কলকাতার একজন প্রসিদ্ধ