পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিয়া, সভামধ্যে ঢল ঢল নয়নে উপবিষ্ট তাঁহার প্রভুর কাণে কাণে কি কথা বললেন —তাহা বিনয় শনিতে পাইল না। বাব উচ্চৈস্বরে বলিলেন, “আচ্ছা, নেভার মাইণ্ড—যানে দেও শালকো৷ নেই মাংতা।” বিনয়ের ইচ্ছা হইল, এক লফে সে ভিতরে পড়িয়া লাথি ও ঘষিতে সেই অধিশায়িত মাতালকে ধরাশায়ী করিয়া দেয়, কিন্তু অনেক কটে আত্মদমন করিল। হরিবাব বাহিরে আসিয়া বিনয়কে ফেরৎ পাঠাইবার জন্য মোটরের বন্দোবস্ত করিয়া দিলেন। --সপ্তম পরিচ্ছেদ ৷ কলিকাতার ধনী সম্প্রদায় বাগানে যে ঈভনিং পাটি দিয়া থাকেন, তাহার স্বরপটা এই స్ట్లో HR బోళా శోకా ఇ శా శా శా ఇ মা ! সঙ্গীতকলার প্রতি এদেশে ধনী সম্প্রদায়ের কতদর আদর, তাহা ক্ৰমে বিনয় হাড়ে হাড়ে বুঝিতে পারিল। সঞ্চিত অথ ফরাইতে লাগিল ; ক্রমে তাহার দিন চলা দকের হইয়া উঠিল। পৰব পরামর্শ অনুসারে মিউজিক্যাল রিসাইটলি দিবার অভিপ্রায়ে, বহর পরিশ্রমে সে স্বরলিপি প্রস্তুত ও অভ্যাস করিতে লাগিল। ভাবিল, ধনী সম্প্রদায় হইতে কিছু আশা নাই, মধ্যবিত্ত সমাজে সম্ভবতঃ তাহার বিদ্যার আদর হইবে। দিন স্থির করিয়া, স্টেজ ভাড়া লইয়া, সহরময় প্লাকাড ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়া সে উপযর্ন্যুপরি তিন সোমবার পারফরম্যান্স দিল ; কিন্তু ইহাতেও তাহাকে নিরাশ হইতে হইল। টিকিট বিক্লয়ের অথে বিজ্ঞাপন খরচ, টেজভাড়া, আলো খরচও সম্পণে উঠিল না—লাভ হওয়া ত দরের কথা। পারফরম্যান্স শেষে অনেকেই এই বলিতে বলিতে বাড়ী গেল—“দ দঃ, না আছে একটা মেয়েমানুষ, না কিছু পয়সা খরচ করে এও আবার মানুষ দেখতে আসে ?” চোটা চরিত্র করিয়া, ভদ্রপরিবারে ক্লমে তিনটি ট্যুশনি বিনয়ের জটিল। টাকার পরিমাণ অত্যন্ত কম—কিন্তু অগত্যা তাহাই স্বীকার করিতে হইল, নহিলে দিন চলে কেমন করিয়া ? এইরপে পজা পৰ্যন্ত কাটিল, পাজা গেল, শীত পড়িল, ডিসেম্বর মাসে উপযুক্ত ফণীতে একটি বৈঠকী মজলিসে বিনয়ের আহবান আসিল। কোনও “বাগানে” নহে—ভদ্রগহে। যথা দিনে ও সময়ে বিনয় তথায় উপস্থিত হইয়া, নিজ বিদ্যার পরিচয় দিল । শ্রোত্রী হইয়া বসিয়া ছিলেন। তিন ঘণ্টাকাল বাজাইয়া, বিনয় প্রচার প্রশংসা লাভ করিল। রাত্ৰি ১০টার সময় সভাভঙ্গ হইবার কালে একজন ভদ্রলোক হঠাৎ উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিলেন, “বাবা! আজ তুমি আমাদের বড়ই খসী করেছ। বিলেতে গিয়ে যা শিখে এসেছ— তা সাথক বটে। তোমার পরিশ্রমিক যা, গহকত্তর্ণ তা ত তোমায় দেবেনই ; আমি একজন নিমন্নিত আমি এই শালখানি তোমায় বকসিস করলাম।”—বলিয়া, হাসি হাসি মুখে, নিজ গাত্র হইতে শালখনি খালিয়া, তিনি বিনয়ের গাত্রে নিক্ষেপ করিলেন। প্রশংসা লাভে আজ বিনয়ের মনে যে আনন্দটকু সঞ্চারিত হইয়াছিল—মহত্তেমধ্যে তাহা ক্ৰোধে ও ক্ষোভে রপোন্তরিত হইয়া গেল। কম্পিতরুবরে সে বলিল, “মশায় আমি বাজাই বটে, কিন্তু আমি বাজন্দেরে নই, আমায় এভাবে অপমান করবার কোনও অধিকার আপনার নেই।” বলিয়া শালখানা সে ছাড়িয়া বাবটির দিকে ফেলিয়া দিল। উৎসব সভায় সহসা যেন বজ্রপাত হইল। সকলেই সতভিত হইয়া গেল। বাবটি বলিলেন, “কেন মশায়, এতে কি আপনাকে অপমান করা হল ? এই রকমে গণীর আদর করা, আমাদের দেশে ত বহন কাল থেকে চলে আসছে!”—বলিয়া তিনি রক্তবর্ণ চক্ষ অবনত করিয়া, শালখনি কুড়াইয়া লইলেন। S ను తి