পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


॥ দই । তহবিল মিলানো শেষ করিয়া, টাকাগুলি বাসায় লইয়া যাইবার জন্য খেরয়ার থলিতে ভরিয়া রাখিয়া সন্ধ্যার প্রাক্কালে রামলোচন থেলো হ:কা হাতে করিয়া তামাকু সেবন করিতেছিলেন, এমন সময় পর্বেকথিত সেই ভিখারী আসিয়া দোকানে প্রবেশ করিল। রামলোচন বললেন, “কি হে, জলটল কিছ খেলে ?” “আজ্ঞে হ্যাঁ। এক পয়সার বাতাসা কিনে জল খেলাম।” “বেশ । তোমার নাম কি ?” “আমার নাম শ্ৰীহারাধন দত্ত। কায়স্থ।” “কায়স্থ ? বেশ বেশ । আচ্ছা, বস ঐখানটায়।”—বলিয়া, যে চৌকিখানির একপ্রান্তে তাহার “গদী", চক্ষর ইঙ্গিতে রামলোচন তাহারই অপর প্রান্ত দেখাইয়া দিলেন। হারাধন বসিল । হকৈায় কয়েক টান দিয়া রামলোচন বলিল, “কায়স্থ ? বটে ! তা, তোমার এমন অবস্থা হ’ল কি করে ?” হারাধন মীরবে আপন ললাটে হস্তাপণ করিল। রামলোচন বলিল, “হ্যাঁ হ্যাঁ, সে ত বটেই, সে ত বটেই। অদষ্টই হচ্চে মলাধার। বাড়ী কোথা তোমার ?” “কোথাও নেই। বাড়ী ঘর থাকলে কি আর পথে পথে ভিক্ষে করে বেড়াই বাবা ?” “তব-তোমার বাপ-পিতামহ কোথায় থাকতেন, কোথায় তুমি জন্মেছিলে, কোথায় ছেলেবেলা কাটিয়েছ, সে সব ত বলতে পার ?” হারাধন মাথাটি নড়িয়া, একটি দীঘনিশবাস ফেলিয়া বলিল, “সে মশাই অনেক কথা! বলতে গেলে মহাভারত।" রামলোচন ভাবিলেন, পাবে বোধ হয়, ইহার অবস্থা ভাল স্থল গ্রহবৈগণ্যবশে এখন এরূপ দাঁড়াইয়াছে, সে সকল কথা বলতে বোধ হয় লজ্জা ও"দুঃখ অনুভব করিতেছে । ভাবিলেন, সকলই অদটের খেলা, কখন কার কি অবস্থা দাঁড়ায়, কিছুই ত বলা যায় মা। এ বিষয়ে উহাকে আর জিজ্ঞাসাবাদ করিবার প্রয়োজন নাই। কর্ণাপণ নয়নে লোকটির পানে চাহিয়া বলিলেন, “তামাক খাবে ?” - “আজ্ঞে দিন”—বলিয়া হারাধন হাত বাড়াইল। রামলোচন কলিকাটি খালিয়া তাহার হাতে দিলেন ; হাক দিলেন না, কারণ যদিও এ ব্যক্তি নিজেকে কায়স্থ বলিয়া পরিচয় দিয়াছে—সত্যই কায়স্থ কি না, তাই বা কে জানে! লোকে কথায় বলে, “জাত হারালে কায়েত ৷” x - হারাধন কলিকটি লইয়া, তাহা অঙ্গলিপটে ধারণ করিয়া, হস্তদ্বারা কৃত্রিম হংকা রচনা করিয়া খুব জোরে জোরে তিন চারিটা দম লাগাইল। তাহার দাপট দেখিয়া রামলোচন সহাসো জিজ্ঞাসা করিলেন, “বড় তামাক খাওয়া অভ্যাস আছে নাকি ?” “বড় তামাক”—অথাৎ গাঁজা। হারাধন বলিল, “মাঝে মাঝে তাও চলে বইকি!”— বলিয়া কলিকাটি সে রামলোচনকে প্রত্যপণ করিল। রামলোচন তখন সেটি নিজের হকায় বসাইয়া, দই এক টান দিয়াই বঝিতে পারলেন, উহাতে আর কিছই অবশিষ্ট न' उपन সন্ধ্যা হইয়া আসিতেছে। রামলোচন ডাকিলেন—“বেজা! পিদিপটে জাল রে।” বালক ভূত্য ব্ৰজনাথ গদীর উপর একটি পিতলের রেকবা বসাইয়া, প্রদীপসহ পিল সজটি তাহার উপর রাখিয়া প্রদীপ জ্বালিয়া দিল। রামলোচন তখন “হরবোল হরি— দগো দাগা, জয় মা অক্ষপণী" প্রভৃতি দেবদেবীর নামোচ্চারণ পাবক প্রণাম করিলেন। বেজা তার পর প্রদীপটি হাতে করিয়া, দোকানের সবত্র ঘরিয়া, “সন্ধা দেখাইয়া” আসিল। দোকানের গোমস্থতা এবং ওজনদার উভয়ে মিলিয়া, সকল বার ও জানালাগলি সাবধানে ১৯২ : - . * - -