পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যোগ আছে। বাড়ী থেকে হতভাগাকে ভাড়িয়ে দিই কি বল ?? “তা দাও! কিন্তু, আমার ত ও কথা বিশ্বাসই হয় না। ছি ছি, এ কি কখনও হতে পারে ? চব্বিশ ঘণ্টা ত দুজনে একসঙ্গে রয়েছি, তার কথায় বাৰ্ত্তীয় চালচলনে কই, কোন দিন মনে ত কিছু সন্দেহ হয় না।” এ কথা শুনিয়া রামলোচন কিছুক্ষণ প্ৰবন্ধ হইয় রহিলেন। পরে বললেন, “তুমি যা-ই বল না কেন বড়বউ, ভিতরে কোনও গোলযোগ আছেই আছে। ছোটবউই ঋ লাভের অংশ দাবী করে কেন, আর হেরোই বা উকীল বাড়ী যায় কেন ? ভারী ত আমাদের মাসী মার কুটুম, পরমাণ্ডে দলবেলা খাচ্চেন দাচ্চেন-দিই ওকে দূর করে, কি বল ?” তারাসন্দেরী নীরবে কিছুক্ষণ ভাবিলেন। তার পর বললেন, “এখন হঠাৎ কিছ না করে দিনকতক চোখ-কাণ খলে থাকা যাক এস। যদি সে রকম কোনও বেচাল দেখতে পাই, তখন দটোকেই ঝাঁট মেরে বাড়ী থেকে দর করে দিলেই হবে।" রামলোচন পত্নীর এ যুক্তিই উপস্থিত ক্ষেত্রে সম্বোত্তম বলিরা বিবেচনা করিলেন । ll Łą łı ছোটবউ ও হারাধন সম্বন্ধে তাঁহাদের মনে যে কোনও প্রকর সন্দেহের উদয় হইয়াছে, তাহা কত্ত' বা গিন্নী নিজ নিজ কথায় বা ব্যবহারে কিছুমাত্র প্রকাশ না করিয়া দিন কাটাইতে লাগিলেন। এক দিন বেলা দশটার সময়, রান্নাঘরের বক্সান্দায় বড়বউ ছেলে কৃেলে করিয়া বসিয়া আছেন, ছোটবউ কুটনা কুটিতেছেন, এমন সময় “কি গো বড় গিন্নি, কেমন আছ গো?”— বলিয়া একজন বয়স্কা বিধবা উঠানে আসিয়া দাঁড়াইল । এই স্ত্রীলোক দেশে ইহাদের বাড়ীর কাছেই বাস করে, ইহাদেরই প্রজা। তারাসন্দেরী বলিলেন, “দলেবউ যে – ভাল আছিস ত দলেবউ ?” “হ্যাঁ, মা, তোমাদের ছিচরণ আশীব্বাদে ভালই আছি।”—বলিয়া নিমে দাঁড়াইয়া বারান্দার প্রান্তে মাথা ঠেকাইয়া সে উভয় বধকে প্রণাম করিয়া বলিল, “এই খোকাটি এবার বঝি হয়েছে ? তোমার খোকা হয়েছে, তা আমি দেশে থাকতেই শুনেছিলাম। আহা, তা বেশ হয়েছে, বেচে থাকুক !" বড়বউ বলিলেন, “ব’স দলেবউ. বাস । এখানে কোথায় এসেছিলি ? কবে এলি ?” “এই পরশ দিন এসেছি মা। আমার জামাই এখন এইখানেই চাকরী করে কিনা, সে এখন আদালতের পেয়াদা হয়েছে। তোম দের আশীব্বাদে বেশ দপয়সা ওজগরিও করছে। আমার মেয়েকে নিয়ে এসেছে, এইখানেই বাসা ভাড়া নিয়ে আছে। মেয়েকে অনেক দিন দেখিনি তাও বটে, তোমার খোকাটি হয়েছে শুনেছিলাম তাও বটে, তাই মনে করলাম যাই একবার দেখা-শনো করে আসি।” “তা বেশ করেছিস । তোর মেয়ে জামাই ভাল আছে ত?” “হ্যাঁ মা তারা ভাল আছে।” দলেবউ বসিয়া বসিয়া গ্রামের নানা সংবাদ বলিতে লাগিল। ঘণ্টাখানেক পরে বলিল, “আচ্ছা তা হলে এখন উঠি মা, বেলা হয়ে গেল। সকালেই দেশে যাব মনে করছি ।” তারাসুন্দরী কুহিলেন, "উঠবি কেন দলেবউ ? এতদিন পরে এলি, এইখানেই দটি খৈয়ে যা। নাওয়া হয়েছে ?” “না মা, নাওয়া এখনও হয়নি। তা বেশ, দটি.পেসাদ দিও, খেয়েই যাব। তোমাদের খেয়েই ত মানুষ মা: আজ বলে নয় সাত পর্ষ। তা একটা তেল দাও, নদীতে যাই।” ’দলেবউ নদী হইতে স্নান করিয়; যখন ফিরল, তখন প্রতিদিনের প্রথামত রামলোচন হারাধনকে লইয়া ভোজনে বসিয়ছেন। দলেবউ গোয় লঘরের ছায়ায় নারিকেলগাছের আড়ালে বসিয়া হারাধনের প্রতি একদস্টে চাহিয়া রহিল। পরর্বদের আহার শেষ হইলে দলেবউকে ভাত দিয়া, বড়বউ ও ছোটরউ থাইতে 》ふじ