পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আসিয়া উপস্থিত হইল। সন্ধ্যা হইলে অন্ধকারের সঙ্গে সঙ্গে একটা শঙ্কার ভাব প্রত্যেক মাতৃহদয়ে সঞ্চারিত হইয়া থাকে এবং তাবৎ জীবজগতে মাতৃস্নেহের একটা প্রবাহ বহিয়া যায়। ঈশ্বরের কি আশ্চয্য মহিমা, সেই প্রথানা-পরায়ণা জননীর হৃদয়ে সেই মাতৃস্নেহপ্লাবিত সন্ধ্যাকালে এক অভূতপবে ভাবের সঞ্চার হইল। তাঁহার স্তনে দগধধারা ক্ষরিত হইতে লাগিল। কে যেন ভাঁহার কাণে বলিয়া দিল--"এ সন্তান তোমারই।" সেই অবধি তিনি অতি নিপুণতা ও সাবধানতার সহিত সেই বালকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন এবং সঞ্চালনের ভাব লক্ষ্য করতে লাগিলেন। তাঁহার স্বামীর সহিত ঐ বালকের সমস্তই আশ্চৰ্য্যরপ মিলিতে লাগিল। একদিন শ্বশ্ৰঠাকুরাণীর নিকট এ কথা বলিলেন, কিন্তু এইরুপ উত্তর পাইলেন—“বাঁদি, যদি বারদিগর (দ্বিতীয়বার) ও কথা মুখ হইতে বাহির করিবি, তবে তোর জিহাটা জলন্ত লৌহ দিয়া পোড়াইয়া দিব।” এইরূপ ব্যবহারের পর ওয়াজিহনের বঝিতে বাকী রহিল না যে, তাঁহার গুণবতী শ্বাশুড়ীই সেই সন্দিগধ অপকায্যের কত্রী ! অবশেষে উপায়ান্তর না দেখিয়া তিনি সেই নগরের কাজির নিকট বিচারপ্রাথিনী হইলেন। কাজি জিজ্ঞাসা করিলেন—“তোমার কোন সাক্ষী সাবােদ আছে ?” ওয়াজিহন বললেন—“আমার সাক্ষী সবগে ঈশ্বর এবং মত্ত্যে আমার এই মাতৃহন্দয়।” কাজি মহাশয় বড় বিপদে পড়িলেন। এমন অবসথায় কেমন করিয়া এই মোকদ্দমার কিনারা করবেন ? দই চারি দিনের মধ্যে একথা রাষ্ট্র হইয়া পড়িল। ক্ৰমে আপনার পবপরষ (নাম করিলে গোসতাকি হইবে) তদানীন্তন বোগদাদাধিপতির কণেও একথা পেপছিল। তিনিও অপর সকলের ন্যায় সমংেসকে হইয়া কাজির বিচারফলের প্রতীক্ষা করিতে লাগিলেন। দই তিন মাস অতীত হইয়া গেল তবুও মোকদ্দমার কিছুই হইল না। অবশেষে খালিফ হুকুম দিলেন, তিন মাসের মধ্যে যদি কাজি বিচার সমাধা করিতে না পারেন, তবে তিনি সপরিবারে নিববর্শাসিত হইবেন এবং তাঁহার সমস্ত সম্পত্তি রাজসরকারে বাজেয়াপ্ত হইবে। এই আদেশ প্রাপ্ত হইয়া কাজি সাহেব যারপরনাই দুশ্চিন্তান্বিত হইলেন। অবশেষে ভাবিলেন আমার নিবাসন ত হইবেই, অতএব সে অপমান সহ্য করা অপেক্ষা এখন হইতেই ফকিরী গ্রহণ করিয়া সংসারাশ্রম পরিত্যাগ করি। যদি ঈশ্বর দয়া করেন—যদি কোন উপায় সিথর করিতে পারি—তবেই ফিরিব, নতুবা মক্কায় গিয়া জীবনের অবশিষ্ট অংশ অতিবাহিত করিব। এইরপে কাজি গহত্যাগ করিলেন। পদব্রজে ভ্রমণ করিয়া গ্রাম হইতে গ্রামান্তরে, নগর হইতে নগরান্তরে, পৰ্ব্বত পার হইয়া, নদী পার হইয়া, জঙ্গল ভেদ করিয়া চলিলেন। অষ্টাদশ দিবসের পর সন্ধ্যাকালে এক দরিদ্র গহন্থের বাটীতে উপস্থিত হইয়া আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন। সেই গহন্থের একখানি মাত্র ঘর, তাহাতেই সে সপরিবারে শয়ন করিত। অতিথিকে বলিল--"মহাশয় আপনি যদি ঐ গোশালায় রান্ত্রি যাপন করিতে প্রস্তুত হন, তবে অবস্থিতি করন।” কাজি স্বীকৃত হইলেন। পথশ্রমে তিনি নিতান্ত কাতর ছিলেন। গহস্থ প্রদত্ত কিঞ্চিৎ দুগ্ধ পান করিয়া অবিলম্বেই নিদ্রিত হইলেন। অনেক রাত্রে নিদ্রা ভঙ্গ হইল। পথিবীর যাবতীয় দভাগ্য মনষ্যের মত তিনিও সেই ঘোর অন্ধকারময়ী স্তবধ রজনীতে তবধভাবে আপনার অদষ্টান্ধকারের বিষয় ভাবিতে লাগিলেন। কিছুক্ষণ পরে জনকতক অসাধারী দস্য সেই গোশালায় প্রবেশ করল। দুইটি গাভী এবং তাহদের দুইটি বৎস বাঁধা ছিল— দুসারা একটি গাভী এবং একটি বৎসকে হরণ করিয়া লইয়া গেল। তাহারা চলিয়া গেলে পরিত্যক্ত গাভী ও বৎস অত্যন্ত কাতরভাবে রোদন করিতে লাগিল। গাভীটি "হা বংস" এবং বৎসটি “হা মাতা” বলিয়া রোদন করিতেছিল। কাজি বিদ্যাবলে পশুপক্ষীদিগের ভাষা, ববিতে পারিতেন। তিনি এই ক্ৰন্দন ব্যাপারের অর্থ বঝিতে না পারিয়া g - - - ৭২০৩