পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কলিকাত: ২২শে অগ্রহায়ণ আমার হৃদয়েশবরী, গতকল্য তোমায় একখানি পর লিখিয়াছি—তাহা তুমি পাইয়া থাকিবে তাহাতে লিখিয়াছিলাম, আমি আগামী শনিবার দিন গিয়া তোমায় লইয়া আসিব। কিন্তু শনিবারে ষাওয়ার সুবিধা করিতে পারিলাম না। পরদিন অর্থাৎ রবিবার দিন আমি নিশ্চয় যাইব তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। তুমি পৰ্ব্ব পরামর্শ মত, ররি ঠিক ১২টার সময় তোমাদের বাড়ীর পশ্চিমে সেই শিবমন্দিরের সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইবে—আমি মন্দিরের পাশবপথ সেই বটবক্ষের ছায়ায় লুকাইয়া থাকিব; এবং তুমি আসামাত্র তোমাকে সঙ্গে করিয়া কলিকাতায় লইয়া আসিব। যান বাহনাদির কিরূপ বন্দোবসত করিয়া উঠিতে পারিব তাহা এখন বলিতে পারি না-হয়ত হাঁটিয়াই উভয়ে টেশনে গিয়া ট্রেণে উঠিব। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের আইন অনুসারে আমাদের বিবাহের সমস্ত আয়োজন আমি করিয়া রাখিয়ছি—পরোহিতও ঠিক হুইয়ছে--সোমবার দিন আমি যথাশাস্ত্ৰ তোমার পাণিগ্রহণ করিব । এ সম্পবন্ধে আমি উকীল ব্যারিস্টারগণের পরামর্শও লইয়াছি। তাঁহারা বলেন, যদি তোমার বশরকুলের কেহ এই লইয়া আমার উপর মামলা মোকদ্দমা করিতে উদ্যত হয়, তবে তোমার বয়স ১৬ বৎসরের অধিক হইয়াছে এবং স্বেচ্ছায় আমার সঙ্গে আঁসিয়াiছলে, ইহা প্রমাণ করিতে পারলেই কেহ আর আমাদের কেশাগ্রও সপশ করিতে পরিবে না। সেইজন আমি জন্মমৃত্যু রেজেন্টার আপিস হইতে তোমার জন্মদিনের সার্টিফিকেটের নকল পৰ্য্যন্ত আদায় করিয়া আনিয়াছি। সুতরাং সকল দিকেই অটঘাট বাঁধা রহিল। রবিবার সন্ধার ট্রেণে আমি রওয়ানা হইয়া টেশনে নামিয়া, রাত্রি দশটর মধ্যেই তোমাদের গ্রামে প্রবেশ করিতে পারিব। ভগবানের নাম সমরণ করিয়া, গহের বাহির হইও—অশো করি তাঁহার আশীব্বাদে আমাদের মিলনের পথ হইতে সকল বাধাবিঘ্য অপসারিত হইবে। অধিক আর কি লিখিব। আমার শান্য গহে আসিয়া তুমি লক্ষীরপে অবতীর্ণ হও--আমার শান্য হৃদয়ে বসিয়া আমায় চিরসখী কর । ইতি তোমার (মন) চোর। এই পত্ৰখানি পড়িয়া বিমল আপন মনে বলিয়া উঠিল—কি চমৎকার! এ যে রীতিমত একটা নভেলী ব্যাপার! বাঃ-বাঃ-ক্যা মজাদার। ক্যা তোফা। বাহবা চারশীলা— রাভো! জিতা রহো বাবা-থ্রি চিয়াস ফর চারশীলা। বেশ বেশ–বরের কাছে তুমি যাবে—মাইকেল ত বিধানই দিয়ে গেছে—“যে যাহারে ভালবাসে, সে যাইবে তার পাশে” —ব্রজাঙ্গনা কাব্য দেখহ । গড় ব্লেম দি হ্যাপি পেয়ার-তোমাদের বিয়েতে আমায় নেমন্তশ্ন করবে না বাবা ? নাচ খেয়ে আসতাম! অতঃপর বিমল বাকী পত্র দইখানি পড়িয়া দেখিল ; এ দুইখানিই মামদুলি স্বামীর মামলি প্রেমের চিঠি-তাহাতে প্রেমের চেয়ে ঘরকন্নার কথাই বেশী-কোনও বিশেষত্ব নাই। বিমল এই ছয় মাসের মধ্যে বৈধ ও অবৈধ সহস্ৰাধিক প্রেমপত্র পড়িয়াছে, সে জানে বৈধ প্রেমের চিঠি অপেক্ষা, অবৈধ প্রেমের চিঠিতেই ‘মজা বেশী থাকে; পত্রগুলি আবার জড়িয়. রাখিয়া বিমল মাসিকপত্ৰখানি পড়িতে আরম্ভ করিল। পড়িতে পড়িতে ক্ৰমে উহ। তাহার হােত হইতে খসিয়া পড়িল; সে তখন পাশ ফিরিয়া পাশের বলিসে পা দিয়া আরামে ঘুমাইতে লাগিল। - ৷ চার in পরাভুকালে - -- তাহাদের নিকট অপর ল বিভিন্ন গ্রাম হইতে পিয়নের ফিরিয়া আসিলে বিমল ত হইতে মনি অর্ডার রেজেস্টারি প্রভৃতির রসদ বঝিয়া লইয়া, খাতাপত্র লিখিতে আরম্ভ 。 - २ ov