পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিছ রহসা লক্কায়িত আছে। সে সাবধান হইল ; এবং বালকের প্রশেনর উত্তর না দিয়া বলিল, “যাদের বিয়ে হয়ে গেছে তারা ডেপুটি হতে পারে না তোমায় কে বললে ?” বালক বলিল, “আমায় কেউ বলেনি। কাল রাত্রে আমরা যখন ঘমেচ্ছিলাম, বাবা মা শয়ে যে সব কথা বলাবলি করছিলেন, তাই থেকেই আমি বুঝতে পেরেছি যে যাদের বিয়ে হয়ে গেছে তাদের আর ডেপটি হবার যেটি নেই।” পরেশ হাসিয়া বলিল, “ঘামচ্ছিলে ত বাবা মার কথা শনলে কি করে ?” বালক বলিল, “সবটা কি ধমচ্ছিলাম ? একট একটা ঘামচ্ছিলাম, একট একটা জেগেও ছিলাম।” পরেশ নিলিপ্ত ভাবে জিজ্ঞাসা করিল, “কি বলছিলেন তাঁরা ?” ‘মা বলছিলেন, পরেশ ছেলেটি ত দেখতে শুনতে বেশ, স্বভাবটিও ভাল, ওর বিয়ে হয়ে গেছে কিনা খোঁজ নাও না। যদি না হয়ে থাকে, লাটসাহেব ত তোমার হাতধরা, তুমি কি আর ওকে একটা ডেপুটি করে দিতে পার না ? বাবা বললেন, তা পারবো না কেন, বোধ হয় পারি। আচ্ছা কাল পরেশকে জিজ্ঞাসা করবো ।” পরেশ বলিল, “আর কি বলছিলেন তাঁরা ?” বালক বলিল, “আরও বাবা কি কি বললেন আমি ভুলে গেছি, স্যার।” শনিয়া পরেশ হাসিতে লাগিল। এই সময় আয়া দুধ খাইবার জন্য সশীলকে ডাকিতে আসিল, সুশীল ভিতরে চলিয়া গেল । পরেশ আপন মনে কথাগুলি আলোচনা করিতে লাগিল। প্রথম নম্বর, বাড়ীতে একটি বিবাহযোগ্যা কন্যা বক্তমান। দ্বিতীয়তঃ পরেশ তাহাদের সবজাতি ও সবঘর, এবং সে যে বিবাহিত, একথা কোনও দিন প্রকাশ করে নাই—কেহ তাহাকে জিজ্ঞাসা করে নাই বলিয়াই প্রকাশ করিবার প্রয়োজন হয় নাই। তৃতীয়তঃ রায় বাহাদরের জামাতার জন্য একজন পদপথ ব্যক্তির প্রয়োজন, পঞ্চাশ টাকা বেতনের গহশিক্ষক হইলে চলিবে কেন ? যতই সে ভাবিয়া দেখে, ততই তাহার মনের বিশ্বাস দঢ়তর হয় যে, তাহাকে জামাই করিবার অভিপ্রায়েই রায়বাহাদর-দম্পতী গত রাত্রে ঐ প্রকার কথোপকথন করিয়াছিলেন। সেই দিনই রাত্রি-ভোজনের পর, রায় বাহাদর খোলা বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসিয়া ধুমপান করিতে করতে, পরেশকে ডাকাইয়া পাঠাইলেন। পরেশ আসিলে বলিলেন, “বস হে। একটা কথাবাত্তা কওয়া যাক ৷” পরেশ বসিল। প্রথমে দই একটা অবান্তর কথার পর রায় বাহাদর জিজ্ঞাসা করিলেন, “বাড়ীর চিঠিপত্র পাও ? সবাই ভাল আছেন ত ?”

  • আজ্ঞে হ্যাঁ।” "বাড়ীতে তোমার কে কে আছেন বলেছিলে ?” “আজ্ঞে আমার বিধবা মা আছেন, একটি ছোট বোন আছে, বিধবা জ্যেঠাইমা আছেন, তাঁর একটি ছেলে আছে বছর বারো তেরো।”

"আজও বিবাহ করনি নাকি ?” পরেশের বকটি দর দর করিয়া উঠিল। কিন্তু সে তৎক্ষণাং পাট স্বরে মিথ্যা বলিল, “আজ্ঞে না।” “কেন ? তার কারণ ?” “আজ্ঞে, নিজে ভাল রকম উপাত্তজন করতে পারার পর্বে বিবাহ করাটা উচিত মনে করি না, সেই জন্যেই করিনি। অন্য কোনও কারণ নেই।” কথাটা শনিয়া রায় বাহাদব খসী হইলেন। সেদিন এ প্রসঙ্গে আর অধিক কথা চালাইলেন না । দিন পাঁচ ছয় আর কোন কথা এ সম্বন্ধে উঠিল না। ইহাতে পরেশ একটু হতাশ হইয়াই পডিল। কিন্তু সপ্তম দিনে, রাত্রি দশটার সময় রায় বাহাদর তাহাকে তলব · GN,