পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করল। কাযর্ণশেষ হইলে, ভূত্যকে বলিল, “ওরে, যা দেখি, হরেন সার দোকান থেকে এক বোতল বিহাইব নিয়ে আয়। চাদরের ভেতর বেশ করে নকিয়ে আনবি–বঝেছিস ? আর, করিমন্দিকে আমার কাছে ডেকে দিয়ে যাস।”—বলিয়া বিমল, সরকারী তহবিল হইতে ভূত্যের হস্তে ছয়টি টাকা দিল। কিয়ৎক্ষণ পরে পিয়ন করিমন্দি সেখ আসিয়া বলিল, “হজের ডেকেছেন ?” বিমল বলিল, “হ্যাঁ। আজ একটা ফাউলের কারি বানিয়ে দিতে পারবে হে শেখের ייג পো করিম বলিল, “কেন পারবো না হজের ?” “আচ্ছা—এই টাকা নাও। বেশ মোটা তাজা দেখে একটা মুরগী কিনে এনো। বেশ করে লঙ্কাবাটা দিও—আমরা বাঙ্গাল মানুষ, ঝালটা কিছ বেশী খাই।”—বলিয়া বিমল ক্যাশ হইতে তাহাকেও একটি টাকা দিল। কাজকম শেষ হইলে, ক্যাশ হইতে আর তিনটি টাকা লইয়া, দ্বিপ্রহরে লব্ধ সেই দশ টকার নোটখানি ক্যাশে রাখিয়া ক্যাশ পরণ করিল। ক্যাশ মিলাইয়া তাহা লোহার সিন্দকে বন্ধ করিয়া, আপিস ঘরে চাবি দিয়া বিমল বাসায় গেল। তখন সন্ধ্যা হইয়া গিয়াছে। বামন মাকে দেখিয়া বলিল, “মা, আজ শরীরটে কেমন ম্যাজ ম্যজ করছে, আজ রাত্রে ভাতটা আর খাব না, খানকতক পরে,টা ভেজে রেখে যেও । তরকারী ফরকারী বেশী কিছু দরকার নেই খানকতক আলভাজা হলেই চলবে।”—বলিয়া সে মুখহাত ধইতে চলিয়া গেল। (মাঝে মাঝে—বিশেষ, বেতন পাইবার পর দই চারি দিন বিমলের এরূপ গা ম্যাজ ম্যাজ করিয়া থাকে—এবং রাত্রে ভাতের পরিবত্তে লুচি বা পরোটা ফরমাস করে।) মুখ হাত ধুইয়া আসিয়া বিমল এক পেয়ালা চা পান করিয়া, পাণ মুখে দিয়া ধোষেদের বৈঠকখানায় পাশা খেলিতে গেল—প্রত্যহই এইরুপ যায়। রাত্রি ৮টা বাজিতেই বামন মা পরোটা ও আলভাজা বিমলের শয়নঘরে ঢাকিয়। রাখিয়া বাড়ী চলিয়া গেলেন। অন্ধ ঘণ্ট পরে বিমল বাসায় আসিয়া রামচরণ ভৃত্যকে জিজ্ঞাসা করিল, “করিমন্দি এসেছিল ?” রামচরণ বলিল, “আজ্ঞে হ্যাঁ। ঐ রেখে গেছে।”—বিমল দেখিল একটি এনামেলের বড় বাটীতে তাহার আকাঙিক্ষত ফাউল কারি ঢাকা রহিয়াছে। বিমল তখন ভূতকে রাত্রের মত বিদায় দিয়া, সদর দরজা বন্ধ করিয়া, শয়নঘরে আসিয়া প্রবেশ করিল। দেওয়ালে একটি ল্যাম্প জম্বলিতেছিল—তাহার আলো বাড়াইয়া দিয়া যথাস্থান হইতে বোতল গলাস এবং ‘কাক ইসকুর বাহির করিয়া, শয্যাপাশবসথ (সরকারী) টেবিলের উপর রাখিল ; জনতা মোজা ত্যাগ করিয়া, বিছানার ধারে বসিয়া বোতলটি খালিয়া ফেলিল । এক গ্লস পান করিয়া, বেহালাটি পাড়িয়া তাহাতে ছড়ি দিতে লাগিল। একটা গৎ বাজাইয়া আর এক গলাস পান করিয়া, বেহালা যথাস্থানে রাখিয়া ভাবিল, সেই মজার চিঠিখানা আর একবার পড়িতে হইবে। দেওয়াল আলমারি খলিয়া, চিঠিগুলি বাহির করিয়া, চারুশীলার খানি বাছিয়া লইয়া বলিল—“এঃ জড়ে ফেলেছি যে দেখছি। কুছ পরোয়া নেই—ফের খুলবো!”—বলিয়া টলিতে টলিতে বিছানায় আসিয়া বসিল। চিঠিখনিকে স মনে ধরিয়া বলিল, “কি চাঁদ, জল খাবে? না ব্ল্যাড়ি ?”—বলিয়া গেলাসে খানিক ব্ল্যাডি ঢালিয়া, আঙুলে একট লইয়া চিঠির মুখ ভিজাইয়া বলিল, “যা বেটা, তোর চিঠিজন্ম সাথক হরে গেল।” পরে ব্ল্যাডিট কু পান করিতে করিতে, চিঠিখানি খলিতে চেন্টা করিতেই উহর মুখ ছিড়িয়া গেল। চিঠিখানি উদ্ধেৰ তুলিয়া ধরিয়া বলিল, “ছিড়ে গেলি কাল বিলি হবি কি করে রে শালা ?”—বলিয়া খাম হইতে চিঠি বাহির করিয়া, থমখানা ছিড়িয়া মেঝের উপর ফেলিয়া বুলিল "জহন্নামে যাও " চিঠি খলিয়া পড়িল i-S 8 {వعا