পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অন্য দিন রাত্রি ১cট না বাজিতেই বাড়ীর সকলে ঘুমাইয়া পড়ে। আজ বনলতা ছটফট করিতেছে, কিন্তু বাড়ীর সকলে জাগিয়া; বাশুড়ী-ননদেরা তাহাকে চোখে চোখে রাখিয়াছেন। ওদিকে বৈঠকখানা হইতে ১২টার কিঞ্চিৎ পাবে, বনলতার শবশর, তাঁহার ধন্ধদ্বয় সহ, লাঠি ওঁ দড়ি সঙ্গে লইয়া, শিবমন্দিরের পশ্চাতে গিয়া লুকাইয়া রহিলেন। কিছুক্ষণ পরেই, ওভারকেট গায়ে, মাথায় মুখে কৃফাটার জড়ানো, বিমল ধীরে ধীরে আসিয়া বটবৃক্ষের অন্ধকার ছায়ায় দাঁড়াইল। ক্ষণপরেই তিনজন লোক আসিয়া তাহার মাথায়, পাশেব, বকে, পদদ্বয়ে লাঠি, কিল, চড়, ঘসি ও লাথি মারিতে মারিতে তাহাকে মাটিতে পাড়িয়া ফেলিল। প্রহারের চোটে তৎপর্বেই বিমল সংজ্ঞাহীন হইয়াছিল। লোক তিনজন তখন, অচেতন বিমলের হস্তপদ উত্তমরপে রক্তজীবদ্ধ করিল। এক ব্যক্তি কহিল, “বেটী বেচে আছে ত ? না মরেছে ?” অপর ব্যক্তি তাহার নাকের কাছে হাত দিয়া বলিল, “না—নিঃশ্বাস বেশ পড়ছে।” প্রথম ব্যক্তি বলিল, “এখন, একে কি করা যায় বল দেখি ? এইখানেই কি পড়ে থাকবে ?” “না ন—আমাদের বাড়ীর কাছে কেন ? শেষকালে কি কোনও পলিস হাঙ্গামায় পড়বো ?” “তবে চল বেটকে নিয়ে খানিক দরে কোথাও ফেলে রেখে আসা যাক।” “দেশলাইটে জাল ত, লোকটা কে, দেখি ।” এক ব্যক্তি দেশলাই জালিল। তিনজনেই তখন বলিয়া উঠিল, “এ কি ! এ যে মহেশপরের পোস্ট মাল্টার!” দেশলাই পড়িয়া গেল। আবার যেমন অন্ধকার তেমনই অন্ধকার। তখন তিনজনে ফিস ফিস করিয়া পরামর্শ চলিতে লাগিল। “এ বেটাই বা এখানে এল কেন ? যে বেটার আসবার কথা সেই বা এল না কেন ?” “সে যা হোক তা হোক—এখন চল একে মহেশপরে পোট আপিসের বারাষ্টদায় শুইয়ে দিয়ে আসা যাক।” তিনজনে তখন বিমলের অচেতন দেহ বহন করিয়া লইয়া চলিল। পল্লীগ্রামের পথরাত্রি বিপ্রহর—রাস্তায় আলো নাই—জনমানবের সঞ্চার নাই । Η 5ξί ή - - শীতে, খোলা বারান্দায় পড়িয়া থাকিয়া, ঘণ্টা দই পরেই বিমলের জ্ঞান ফিরিয়া আসিল । সে সেই অবন্ধ অবস্থায় পড়িয়া পড়িয়া, নানারপে উপায় ফন্দি চিন্তা করিতে লাগিল। " ক্লমে ভোর হইল। একজন পিয়নকে সেই দিকে আসিতে দেখিয়া, বিমল ক্ষীণকন্ঠে তাহাকে ডাকিল। -<* - مه পিয়ন আসিয়া বলিল, “বাবা, ব্যাপার কি ?” বিমল চি.চি’ করিয়া বলিল, “ডাকাতি রে, ডাকাতি! আগে আমার প্রাণটা বাঁচা।” সে ব্যক্তি ছটিয়া গিয়া অন্যান্য পিয়নকে ডাকিয়া আনিল। সকলে মিলিয়া বিমলের বন্ধনরত্জ খলিয়া দিল। বিমল বলিল, “আমার বকপকেট থেকে চাবি নে। ডাকঘর খোল, খালে, মেঝের উপর আমায় শুইয়ে দিয়ে থানায় খবর দিগে যা।” : --> পিয়নেরা তাহাই করিল। বিমল কাৎরাইতে কাংরাইত বলিল, “সব পিয়ন যা। দারোগা প্রথমে তোদেরই জবানবন্দি নেবে কিনা !” তাহারা জিজ্ঞাসা করিল, “কি বলবো হজের ?” “যা জানিস—যা দেখেছিস-সবই বলবি।” - . পিয়নগণ যখন চলিয়া গেল তখন বেশ ফসর্ণ হইয়াছে। বিমল টলতে টলিতে উঠিয়া, সরকারী লোহার সিন্দক খলিল। তাহার মধ্যে নোটে টাকায় ৫৪২ ছিল—সেগুলি সমস্ত - ২১২ ৷