পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঘরের মেঝেতে পাববৎ শইয়া রহিল। ৷ সাত ৷ দইদিন পরে, কলিকাতার কাগজে কাগজে ছাপা হইল— ভীষণ ডাকাতী - পোর্ট অফিস লন্ট ! বিগত শনিবার রাত্রে, ২৪ পরগণার অন্তগত মহেশপুর গ্রামের পোট অফিসে একটি ভয়ানক ডাকাতী হইয়া গিয়াছে। পোল্ট মাল্টার বিমলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়, রাত্রি ১১টার সময় ডাকঘরে বসিয়া হিসাব মিলাইতেছিলেন, পিয়নেরা তৎপর্বেই চলিয়া গিয়াছিল, সেখানে আর কেহ ছিল না। ৫i৬ জন যুবক হঠাৎ ডাকঘরের মধ্যে প্রবেশ করিয়া, রিভলবার বাহির করিয়া বলে—“খবন্দর্ণর চীৎকার করিও না, গলি করিব। লোহার সিন্দকের চাবি দাও।” ইহাতে পোস্ট মাস্টার বলেন, “তা কখনই দিব না—প্রাণ দিব তব সরকারের টাকা দিব না।” একজন যবেক তৎক্ষণাৎ পিসতলের বট দিয়া বিমলবাবর মস্তকে সজোরে প্রহার করে। অপর যুবকগণ তাঁহাকে জাপটাইয়া ধরিয়া মাটিতে ফেলিয়া, তাঁহার বকে বসিয়া মুখে কাপড় গুজিয়া মুখ বধিয়া ফেলে। তারপর হস্তপদাদি রজ বারা দঢ়রপে বন্ধ করিয়া চুবি খুজিতে থাকে। চাবি পাইয়া লোহার সিন্দকে খালিয়া পর্বেদিনের ক্যাশ- . ৫৪২, লইয়া, সিন্দুক বন্ধ করণান্তর পোট মাস্টারকে বাহিরের বারান্দায় আনিয়া শোয়াইয়া দেয়। অফিস ঘরে তালাবদ্ধ করিয়া, চাবির গোছা পোল্ট মাস্টারের পকেটেই ভরিয়া দিয়া তাহারা পলায়ন করে। প্রকাশ, ডাকাতগণের মদখে কালো মুখস, গায়ে কালো কোট, পায়ে. বঁটজতা ছিল, এবং তাহারা পরস্পরের মধ্যে কথাবাত্তায় মাঝে মাঝে ইংরাজি শব্দ ব্যবহার করিতেছিল। এই ডাকাতি সম্পকে গতকল্য কলিকাতার কয়েকটি ছাত্রাবাসে খানাতল্লাসী হইয়া গিয়াছে এবং পলিস, তিনজন যবেককে সন্দেহ ক্ৰমে গ্রেপ্তার করিয়াছে। শেষ পৰ্য্যন্ত ডাকাতেরা কেহই ধরা পড়ে নাই। বিমল আত্মপ্রাণ তুচ্ছ করিয়া সরকারের টাকা রক্ষা করিতে চেষ্টা করিয়াছিল, এই বিশ্বাসে সদাশয় গভর্ণমেণ্ট তাহাকে ইনপেক্টর পদে উন্নীত করিয়া দিলেন। রবিবার রাত্রে নরেন যথাস্থানে আসিয়া, বহনক্ষণ অপেক্ষা করিয়া কলিকাতায় ফিরিয়া যায়। বনলতা পত্রে এখানকার সমস্ত ঘটনা জানাইয়াছিল। মাসখানেক পরে, একদিন দিবা বিপ্রহরে, বনলতা পলায়ন করিয়া পদব্রজে রেলের টেশনে গিয়া নরেনের সঙ্গে মিলিত হয় এবং উভয়ে কলিকাতায় চলিয়া যায়। তার বশর কলিকাতায় গিয়া থানায় এবং উকিল বাড়ীতে অনেক ছটাছটি করিয়াছিলেন, কিন্তু কিছই করিতে পারেন নাই। নরেনের সঙ্গে তাহার বিবাহ হইয়া গিয়াছে। যুবকের প্রেম বিবাহের পর তিনটি বৎসরও ঘরিল না—মহেন্দ্র বিপত্নীক হইল। মাত্র দুই বৎসর নয় মাস পাবে তাহার বিবাহ হইয়াছিল। মেয়েটির নাম ছিল চঞ্চলা। হিন্দুর মেয়ের চঞ্চলা নাম রাখা ভাল হয় নাই, কারণ, বধ হইয়া তাহাকে পতিকলে ধৰেতারার মত স্থির থাকিতে হইবে। ছেলেবেলায় সে বড় দন্ট ছিল বলিয়াই মা-বাপ তাহার চঞ্চল নাম রাখিয়াছিলেন; তখন তাঁহারা কি জানিতেন, তাহার জীবন-কুসমটি ভাল করিয়া ফুটিতে না ফটিতেই, চপলা চঞ্চলার মতই সে আকাশের গায়ে লুকাইবে ? ురి '