পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বুদ্ধি ও সাহস অত্যন্ত প্রশংসাহা। আমাদের কৃতজ্ঞতার চিহ্নকরপে তোমাকে যদি আমরা সামান্য কিছু উপহার দিই, তাহাতে তুমি বিরক্ত হইবে কি ?”—বলিয়া তিনি পকেট হইতে একখানি একশো টাকার নোট বাহির করিয়া টেবিলের উপর রাখলেন । মহেন্দ্র নোটখানির প্রতি একবার চাহিয়া দেশগুয়া, সলজ হাসি হাসিয়া বলিল, “আমি কোনও উপহার বা পরস্কারের আশায় ত এ কাষ" করি নাই। প্রত্যেক ভদ্রলোকের যাহা কত্তব্য, তাহাই আমি করিয়াছি মাত্র । টকা না লইবার অপরাধ আপনারা গ্রহণ না করেন, ইহাই আমার প্রার্থনা।” সাহেব দুইজন আবার কি বলাবলি করিলেন। তাহার পর মেজর সাহেব বলিলেন, “তুমি চাকরীর সন্ধানে কলিকাতায় আসিয়াছ বলিলে; কোনও থানে কোন আশা পাইয়াছ दिः ?” “না সাহেব, এ পয্যন্ত পাই নাই।” “আমাদের অফিসে একটি চাকরি খালি আছে। বেতন একশ টাকা, সেটি পাইলে তুমি খসী হও ?” “হ্যাঁ সাহেব—সেটি পাইলে নিজেকে আমি সৌভাগ্যবান মনে করিব।” “বেশ! কাল তুমি একখানি দরখাস্ত লিখিয়া আনিও এবং বেলা একটার সময় আমার সহিত আসিয়া সাক্ষাৎ করিও।" “নিশ্চয় আসিব । আমার ধন্যবাদ গ্রহণ করন।” “কিছুই না—কিছুই না, তবে ঐ কথা ঠিক রহিল। আমরা এখন ক্লাবে চলিলাম। সন্ত্রীর প্রতি) এলসি, বাবকে একট চা খাওয়াইবে না ?” বিবি গ্রীণ বলিলেন, “চা আনিতে হুকুম দিয়াছি। তোমরা চা খাইয়া যাইবে না ?” মেজর সাহেব বলিলেন, “না প্রিয়তমে, আজ বিলম্ব হইয়া গিয়াছে—আমরা ক্লাবে গিয়াই যাহা হয় পান করিব।”—বলিয়া তিনি কর্ণেল সাহেবের সঙ্গে বাহির হইয়া গেলেন । যাহা হয় কথাটির অর্থ বঝিয়া, বিবি গ্রীণ আপন মনে একটু হাসিলেন। চায়ের অপেক্ষায় মহেন্দুকে নিকটে বসাইযা তাহার সহিত গল্প করিতে লাগিলেন। ৷ পাঁচ ॥ পরদিন দরখাসত লইয়া কেল্লার আফিসে গিয়া মেজর সাহেবের সঙ্গে মহেন্দ্র সাক্ষাৎ করিল। মেজর সাহেব যথাস্থানে লইয়া গিয়া, সঙ্গে সঙ্গে দরখাসত মঞ্জর করাইয়া, নিয়োগপত্র সহি করাইয়া দিলেন। আগামী কল্য হইতেই তাহাকে কায্য করিতে হইবে। বাসায় ফিরিবার পথে, একটা পোস্ট অফিসে দাঁড়াইয়া, মহেন্দু পোটকাডে জননীকে এই শুভ সংবাদ জ্ঞাপন করিল। - মহেন্দ্রের আশ্রয়দাতা আড়তদার সেই কায়সথবাবটি এ সংবাদে অত্যন্ত আহমাদিত হইলেন। মহেন্দ্র সঙ্কুচিত ভাবে তাঁহাকে বলিল, “গোটাকতক টাকা পেলে অফিস যাবার জন্যে কিছ কাপড়-চোপড় তৈরী করাতাম। মাইনে পেয়ে শোধ করতাম।” কায়সথবাবটি তৎক্ষণাৎ তাহার আবশ্যকমত টাকা বাহির করিয়া দিলেন। পরদিন আফিস হইতে ফিরিবার পথে, ধমতিলার একটা ভাল দজির দোকানে মহেন্দ্র দইট ইংরাজী সন্ট ফরমাস দিয়া আসিল। যেদিন চাকরী হইল, সেদিন রাত্রে বাসায় শয়ন করিয়া, সন্ত্রীর চিঠির বাডিল বকে করিয়া মহেন্দু অনেক আশ্রবষণ করিল। প্রথম মাসের বেতন পাইয়া মহেন্দ্র সেই ছেলেপড়ানো চাকরীটি ছাড়িয়া দিল, কায়স্থ বাবর ঋণ পরিশোধ করিল; একটা মেসের বাসা সিথর করিয়া সেখানে উঠিয়া গেল, আরও কিছ কাপড়-চোপড় ফরমাস দিল এবং মাকে দশটি টাকা মণিতাডার করিল। মহেন্দ্রের চালচলন, ইংরাজী কথ্য-ভাষাজ্ঞান ও কমপটতায় সাহেবেরা তাহার উপর

  • ybr" -