পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভাবিয়া চিন্তিয়া ঠিক করিয়া লইতে হইবে। তুমি মুখ হাত ধাইয় লও। চা খাইয়া, চল, ময়দানে গিয়া একটু বেড়ানো যাক।” সন্ধ্যার পর কেল্লা হইতে বাহির হইয়া ময়দানের এক জনহীন স্থানে বক্ষতলের অন্ধকারে বেঞ্চ দেখিতে পাইয়া, সেইখানে দুইজনে বসিয়া, ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে নানা জলপনা কল্পনা করিতে লাগিল । অবশেষে সিথর হইল, পাক লেনে অথবা ঐ অঞ্চলের কোনও উপযুক্ত বাড়ীতে, বেনামীতে একখানি ঘর ভাড়া লইতে হইবে । সুযোগমত সঙ্কেত অনুসারে সেইখানেই মাঝে মাঝে উভয়ের দেখা সাক্ষাৎ এবং “মনের কথার আদান প্রদান” চলিবে। এলসি বলিল, “তাহারা বোধ হয় ২৪ মাসের ভাড়া অগ্রিম চাহিয়া বসিবে। কিছ আসবাবও আমাদের আবশ্যক হইবে । আমি সেজন্য তোমায় এক হাজার টাকা দিব। আজ রাত্রেই টাকাটা দিয়া রাখিব—নইলে আমার স্বামী অসিলে অসুবিধা হইতে পারে। এখন ওঠা যাক চল, আমাদের ডিনারের সময় হইয়া আসিল।” মেজর গ্রীণ পরদিন প্রাতে আসিয়া পৌছিলেন। বিকালে যথানিয়মে মহেন্দ্র তাঁহাকে পড়াইতে গেল। মেজর সাহেব পড়িলেন না—মহেন্দ্রকে চা খাওয়াইয়া, হাসি-খাসী গল্পগজেবে সময় কাটাইয়া তাহাকে বিদায় দিয়া সস্ত্রীক টমটমে হাওয়া খাইতে বাহির হইলেন । পরদিনও এইরুপ হইল । এ দই দিন এখান হইতে বিদায় হইয়া, মহেন্দু পাক লেন অঞ্চলে “উপযুক্ত বাড়ী"ত খালি ঘর খুজিয়া বেড়াইল। কিন্তু তখন রাত্ৰি—কোথাও কোনও সুবিধা করিতে পারিল না । সুতরাং সে সিথর করিল, রবিবারে এই পাড়ায় তাসিয়া এ কাযর্ণটি সম্পন্ন করিবার চেন্টা করিবে । তৃতীয় দিন, অফিসে মেজর সাহেব মহেন্দুকে একান্তে ডাকিয়া কহিলন, “মোহেন, আমার এখন অনেক কাজ পড়িয়াছে। এখন আমি আর বাংগলা পড়িবার সময় পাইব না। আর তোমার কাট করিয়া আমার কুঠিতে আসার প্রয়োজন নাই।”—বলিয়া তিনি মহেন্দ্রের প্রাপ্য টাকা তাহাকে বঝাইয়া দিলেন। মহেন্দু দেখিল, মেজর সাহেবের মািখখানা গভীর-বিরক্তির ছায়াও তাহাত সমপটে । মহেন্দ্র অফিসে নিজ স্থানে গিয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিল, না পড়িবার কারণ সাহেব যাহা বলিলেন, তাহাই কি সত্য ? না, কাহাযও নিকট কোন “কাণাঘাষা” শনিয়া তাঁহার মনে একটা সন্দেহ প্রবেশ করিয়াছে ? যাহা বলিলেন, তাহা আফিসে না বলিয়া, নিজ গহেও ত বলিতে পারিতেন। তাঁহার কুঠাতে আর আমি যাই, ইহা কি তাঁহার ইচ্ছা নয় ? বাসতবিক, এ দিকে একটু বাড়াবাড়ি হইয়া উঠিয়াছিল বইকি; সেটা নিতান্ত নির্বাধিতার কায হইয়াছে।” ইহার দই দিন পরে মেজর সাহেব আফিসের বারান্দায় আসিয়া হঠাৎ দেখিলেন, কিছদরে তাঁহার গহভূত একখানি চিঠি হাতে করিয়া মহেন্দ্রের আফিসের দিকে যাইতেছে। । সাহেব বেয়ারাকে ডাকিলেন। সে ব্যক্তি চিঠিখনি বন্দ্রমধ্যে লুকাইয়া, প্রভুর নিকট-আসিয়া দাঁড়াইল। সাহেব তাহাকে নিজের খাসকামরায় আনিয়া বলিলেন, “কিসকা চিঠঠি— ੇਸ਼ਾਂ মত্তি দেখিয়া বেয়ারা কম্পিত হতে চিঠিখানি বাহির করিয়া দিল। “টম আভি বাহার বারাণ্ডামে ঠাহরো-বলিয়া সাহেব চোখে চশমা অটিয়া দেখিলেন, তাঁহার সীর হসন্তাক্ষরে মহেন্দ্রের নাম লেখা। খামের মথে জল দিয়া ভিজাইয়া দিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে উহা সন্তপণে খলিয়া চিঠি পাঠ করিলেন। সেই কয়েক লাইন ইংরাজীর অনুবাদে এই— “প্রিয়তম, আজ তিন দিন তোমায় চোখের দেখাটিও দেখিতে পাই নাই। সে জন্য কি কন্টে ¢2२" . اے - ج د مامہ ’e\.