পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যে আছি, তাহ৷ বলিতে পারি না। আজ রাত্রি নয়টার পর এলিয়ট ট্যাঙ্কের পশ্চিমে, আমাদের সেই নিজজন বক্ষতলে বেঞ্চখানিতে তুমি বসিয়া থাকিও। সৌভাগ্যবশতঃ একটা সংযোগ ঘটিয়াছে—ঐ সময় সেখানে গিয়া আমি তোমার সহিত ঘণ্টা দই বাপন করিতে পারিব। এস-এস-এস-তোমায় না দেখিতে পাইলে আমি মরিয়া যাইব । তোমারই— এলসি।” মেজর সাহেব কাগজে টকিয়া লইলেন-এলিয়ট—ট্যাঙ্ক-পশ্চিমে—বেঞ্চে । তাহার পর, খামখানি আঠা দিয়া আটিয়া ডাকিলেন—"বেয়ারা” বেয়ারা আসিয়া দাঁড়াইল । সাহেব বলিলেন, “যাও, চিঠঠি মোহেনবাবকে দেও। হাম ইস চিঠঠিকো দেখা, মেমসাহেব ইয়ে মোহেনবাব কোইকো মৎ বোলো খবরদার। বোলনেসে–বোলনেসে—”. দিকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, বোলনেসে, হাম তুমকো শট করেগা-জান মারেগা—সমঝো ?” বেয়ারা কম্পিতপদে এক হাত পিছাইয়া গিয়া, করযোড়ে কাতরস্বরে কহিল, “নেহি খোদাবন্দ–হাম কুছ নেহি বোলেগা। কোইকো নেহি বোলেগা। মেরা জান পিয়ারা হয়।” মেজর সাহেব রিভালভারটি দেরাজে বন্ধ করিয়া বলিলেন, “আচ্ছা—ইয়াদ রাখখো, - יין સાહા u wwq tu বিকালে মেজর সাহেব সাঁকে বললেন, “এলসি, আজ আমি বাড়ীতেই খাইব। বাবলুচ্চিকে বলিয়া দাও।” এ কথা শুনিয়া মেমসাহেবের মাথায় যেন বজ্রাঘাত হইল। মনের ভাব যথাসাধ্য গোপন করিয়া সে বলিল, “তবে যে তুমি বলিয়াছিলে, আজ তোমাদের ইউনাইটেড সমভূমি ক্লাবে একটা ভোজ আছে—ন’টার সময় তোমায় সেখানে যাইতে হইবে—বাড়ীতে খাইবে না !” , “হ্যাঁ, তা বলিয়াছিলাম বটে, কিন্তু—সেখানে যাইতে আর ইচ্ছা হইতেছে না। আজ এপায়ারে একটা খুব ভাল ফিলম আছে—চল ডিনারের পর দুজনে দেখিয়া আসা যাউক ৷” এলসি ভিতরে ভিতরে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত হইয়া, অগত্যা স্বামীর প্রস্তাবে . সম্মত হইল। ডিনার শেষে রাত্রি নয়টার সময় টমটম জোতাইয়া, মেজর সাহেব সীকে লইয়া বাহির হইলেন। বায়সেকাপে পেপছিয়া টমটম বিদায় করিয়া দিলেন-ট্যাকসিতে ফিরিবেন। সাড়ে নয়টায় বায়সেকাপ আরম্ভ হইল। দশটার পর্বেই মেজর সাহেব বলিলেন, “তুমি একটু থাক প্রিয়তমে; আমি দশ মিনিট মধ্যে ফিরিয়া আসিতেছি। বড় পিপাসা পাইয়াছে, বারে গিয়া একটা পেগ পান করিয়া আসি।” এলসি কোন কথা বলিল না—স্বামীর সঙ্গ তাহার বিষয়ং বোধ হইতেছিল। মেজর সাহেব চলিয়া গেলে সে বসিয়া ভাবিতে লাগিল আজ আর মোহেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবার সুকানই উপায় নাই—সে বেচারী সঙ্কেতস্থানে বসিয়া অবশেষে হতাশ হইয়া প্রস্থান করবে। সাহেব রাস্তা পার হইয়া দতপদে ময়দানের ভিতর দিয়া চলিলেন। দশ মিনিট পরে উদ্দিস্ট প্ৰথানের নিকটবৰ্ত্তী হইয়া, পথ হইতেই দেখিতে পাইলেন, বক্ষতলের অন্ধকারে বেঞ্চের উপর ফেটে হ্যাট মাথায় দিয়া কে একজন একাকী বসিয়া আছে। পথ হইতে নামিয়া, ঘাসের উপর দিয়া সন্তপণে তিনি সেইদিকে অগ্রসর হইলেন। পাববত্তী হইয়া বজ্ৰগম্ভীর সবরে তিনি ডাকিলেন—“মোহেন” । মহেন্দু চমকিয়া দাঁড়াইয়া উঠিয়া বলিল, “কে, মেজর গ্রীণ ?” - “হ্যাঁ। আমি মেজর গ্রীণ। তুমি এ সময়ে এখানে বসিয়া কি করিতেছ, মোহেন ?” “বায় সেবন করিতেছি।” সাহেব গজিয়া উঠিলেন, “রাস্কেল! ব্ল্যাগাড ! বায় সেবন করিতেছ ? না, আমার • ३२७ ' ' ' '