পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ধাবন তাহাদের গহে পদাপণ করিয়াছিলেন, এবং বৈঠকখানায় বসিয়া তাহার পিতামহের সহিত অনেকক্ষণ ধরিয়া কথাবাত্তর্ণ কহিয়াছেন, উপরন্তু উঠিবার সময় দশটি টাকা প্রণামী দিয়া আসিয়াছেন। শুনিয়া সশীলা মনে মনে বলিল, “হ—ৈসুশীলা বামনী আবার জানে না কি ! কেবল মরবে কবে তাই জানে না। আমার সঙ্গে এই চালবাজি। আচ্ছা আসকে মিন্সে বাড়ীর ভিতর !” সীর পীড়াপীড়ি ও জেরায় পড়িয়া, অবশেষে “মিন্সে”কে স্বীকার করিতেই হইল ষে ঘষে দিয়া মিথ্যা সাক্ষী সম্মিট করা রূপ দীকাষ" সে করিয়াছে এবং নাক কাণ মলিয়া প্রতিজ্ঞা করিল যে, এরপ কাৰ্য্য আর কখনও তাহার দ্বারা হইবে না। ॥ তৃতীয় পরিচ্ছেদ ॥ - আষাঢ় মাস। আকাশ ঘনঘটায় সমাচ্ছন্ন। সুশীলা তখন শয়নকক্ষের জানালার কাছে বসিয়া আকাশের গায়ে নীরদ ও সৌদামিনীর খেলা দেখিতেছিল। তার মনটা বড় ভাল নাই—কারণ তার স্বামী “৩৪ দিনে ফিরিব" বলিয়া একটা বিবাহের নিমন্ত্রণে কলিকাতায় গিয়াছিলেন, আজ সপ্তাহ অতীত হইল, আজিও তিনি ফিরিলেন না, বা কোন সংবাদও পাঠাইলেন না। - এই সময় গেনির মা আসিয়া প্রবেশ করিল। সে ধীরে ধীরে প্রভুপত্নীর নিকট অগ্রসর হইয়া গিয়া বলিল, “মা, একটা বিষম খপর শনে এলাম এখনি!” সশীলা তাহার পানে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কি খবর গেনির মা ?” “কত্তা নাকি শুনলাম, কলকাতায় গিয়ে একটা বিয়ে করেছেন ?" “বিয়ে করেছেন ? ধং-কে বললে তোকে ? বন দেখছিস নাকি?” “না সপনি কেন দেখব মা! ঘোষেদের ঝি পেসন্ন ঘল্লে।” “কি বললে ?” “ঘোষজা মশাই ত মাসখানেক বাড়ী ছিল না কিনা—হাইকোটে তেনার শালার কি মোকদ্দমা চলছিল, তাই সে সেখানে গিয়েছিল। কাল বিকেলে ফিরে এসেছে। এসে , ঘোষণিনীর সঙ্গে বলাবলি করছিল, তাই পেসন্ন বাইরে থেকে শুনেছে।” সুশীলা রন্ধশ্বাসে জিজ্ঞাসা করিল, "আর কি পেসন্ন বললে গেনির মা ?” গেনির মা বলিল, “আর কি কি বললে ?—মনে করে দেখি দাঁড়াও ! দশ গণ্ডা বছর বয়স হল ! কোনও কথা কি মনে রাখতে পারি ছাই। হ্যাঁ হ্যাঁ—আর বললে যে, বউ নাকি বেশ ডাগর সাগর, যেমনি উপ তেমনি নেকাপড়া জানে।” শনিয়া সশীলার মাথার ভিতরটা ঝিম ঝিম করিতে লাগিল। তার চোখ দিয়া প্রায় জল বাহির হইবার উপক্রম হইল। মনে মনে ভাবিতে লাগিল—এতদিন যে জন্য আমি অননয় বিনয় করিতেছি—সেই কাষণ করিলই শেষে—তবে ওরপে ভাবে, আমাকে লুকাইয়া করিবার কি দরকার ছিল ? কলিকাতা যাইবার সময় সকল কথা খলিয়া বলিলেই ত হইত। এরকম ভাবে আমাকে অপমান করিল কেন ? আহারাদি শেষ হইলে সশীলা ঘোষগহিণীর সহিত সাক্ষাৎ করিবার উদ্দেশ্যে বাহির হইল। শ্রীযুক্ত সরেন্দ্রনাথ ঘোষ এই গ্রামের আর একজন ক্ষুদ্র জমিদার। পলিন ইহাকে দাদা সবোধন করিয়া থাকে। খিড়কী দরজা দিয়া বাহির হইয়া বাগানে বাগানে সেই বাড়ীতে যাওয়া যায়। সশীলা অন্তঃপরে প্রবেশ করিয়া দেখিল, ঘোষগহিণী আহারান্তে পাণ খাইতে খাইতে তাঁহার চন্ননা পাখীকে পড়াইতেছেন। সুশীলাকে দেখিয়া তিনি ব্যস্তসমস্ত হইয়া তাহকে অভ্যর্থনা করিলেন এবং পরম সমাদরে ঘরের ভিতর লইয়া গিয়া বসাইলেন। কিয়ৎক্ষণ সাধারণ ভাবের কথাবাত্তার পর সেখানে আর কেহ নাই দেখিয়া সশীলা জিজ্ঞাসা করিল, “শনলাম বটঠাকুর লালকে "; আমাদের ওরা আজ এক সপ্তাহ হল