পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার আদটে লিখিলেন না !-তুই যা, রন্ধনশালায় ব্রাহ্মণেরা আমার আজ্ঞামত মহারাজের ভোজনের সকল ব্যবস্থা করিতেছে কি না দেখিয়া আয়।” পরিচারিকা চলিয়া গেলে আমবালিকা দেবী, উঠিয়া কক্ষমধ্যে কিয়ংকাল পাদচারণ করিলেন; তাহার পর ভিত্তিগাত্র বিলম্বিত, রৌপ্যখচিত একখানি বহৎ দপণের সম্মুখে দণ্ডায়মানা হইয়া, নিজ প্রতিবিম্ব দশন করিতে লাগিলেন। ভ্রমরকৃষ্ণ কেশরাশির মধ্যে দুই একগাছি করিয়া রপোর তারও দেখা দিয়াছে।--কিয়ৎক্ষণ দেখিয়া, একটি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া, পনরায় আসিয়া গবাক্ষের নিকট দাঁড়াইলেন। সন্ধ্যা অতীত হইয়া গেল। ক্ৰমে প্রহরের ঘণ্টা বাজিল। দ্বিতীয় যামে, সংবাদ আসিল, মহারাজ দুঃখের সহিত জানাইতেছেন, আজ অনেক রাত্রি পয্যন্ত তাঁহাকে রাজকাযের্ণ ব্যস্ত থাকিতে হইবে; অতরাত্রে আসিয়া তিনি রাণী অম্বালিকা দেবীর বিশ্রামভঙ্গ করিতে ইচ্ছা করেন না। অ-বালিকা দেবীর নয়নযুগল সজল হইয়া আসিল। পরিচারিকাকে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “কাল আসিবেন, অথবা কবে আসিবেন, তাহা কি মহারাজ কিছু বলিয়াছেন ?” মিনা উত্তর, করিল, “সে কথা আমি জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। রাজভৃত্য বলিল, সে সৎবন্ধে প্রভুর কোনও আদেশ নাই।” রাণী শুধ বলিলেন, “বেশ।" প্রদোষে রাণী ষে বস্ত্ৰালঙ্কারে ভূষিতা হইয়াছিলেন, একে একে সে সমস্তই মোচন । করিলেন। দাসী তাঁহাকে শয়নের বেশ পরিধান করাইয়া দিয়া বলিল, “এখন ভোজন করিবেন কি ?” রাণী বলিলেন, “করিব, পরে। তুই একটা কাজ করিতে পারিস ?” “কি, বলন।” “অন্যান্য রাণীদের মহালে গিয়া জানিয়া আয় দেখি, মহারাজ আজ রাত্রে কোথায় বিশ্রাম করবেন " দাসী চলিয়া গেল। কিয়ৎক্ষণ পরে ফিরিয়া আসিয়া বলিল, “রাণী হৈমবতীর মহালে, মহারাজের আহায্য প্রস্তুত হইতেছে; কিন্তু মহারাজ এখনও আসিয়া পৌছেন নাই; অধিক রাত্রে তাঁহার আসিবার কথা আছে।” রাণী হৈমবতী মহারাজ মানসিংহের নতনতম মহিষী। তিনি হাণ্ডিরাজ ভীমসিংহের দহিতা। - - ॥ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ॥ এই ঘটনার ৫।৬ দিন পরে, মহারাজ মানসিংহ, রাণী অম্ববালিকার আতিথ্য গ্রহণ করিলেন। রাণী যাহা আশঙ্কা করিয়াছিলেন, তাহাই ঘটিল। মহরাজ রাণীর দিকে দষ্টিপাত করিয়াই বলিলেন, "এ কি, এত রোগা হইয়া গিয়াছ কেন ? বিজয়গড়ে এ বৎসর দভিক্ষ হইয়াছে শনিয়াছি; যাইবার সময় এখান হইতে কিছ ঘতাদি খাদ্য লইয়৷ গেলেই হইত !” রাণী বুঝিলেন, মহারাজের এ বাক, স্নেহজনিত নহে-পরন্তু তাঁর পিতার দারিদ্র্যের প্রতি শেলষকটাক্ষ। মহারাজ কিরূপ গন্বিত ও মদোন্ধত, তাহা রাণ র জানিতে বাকী ছিল না। তিনি অবনত বদনে নিরক্তর রহিলেন। মহারাজ কিন্তু এ ব্যাপার এখানেই থামিতে দিলেন না। অবালিকা তাঁহার বিনা হকুমে পিরালয়ে গিয়াছিলেন, এ জন্য তিনি ত বিষম বিরক্ত হইয়াই ছিলেন, তদুপরি, একটা রাজকীয় ব্যাপারের জন্য তাঁহার মনটা আজ অপ্রসন্ন ছিল। কথায় কথায় কথা বাড়িয়াই চলিল। অবশেষে রাণী বললেন, “আপনি উপস্থিত ছিলেন না–তাই আপনার হুকুম লইতে পারি নাই। রমণীর পিরালয় গমন এতই কি 》8 واللاص وعيا