পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাধের ?” মহারাজ বলিলেন, “প্রজা সাধারণের রমণীগণের পক্ষে অপরাধ নহে বটে; রাজপরিবারে উহা নিয়মবিরাদ্ধ। তুমি ত রামায়ণ পড়িয়াছ; সীতাদেবী বিবাহের পর সেই যে অযোধ্যায় আসিয়াছিলেন; আর কি কোনও দিন তিনি মিথিলায় গমন করিয়াছিলেন ? মহাভারত পড়িয়াছ, দ্রৌপদী দেবী, বিবাহের পর কোনও দিন আবার পাঞ্চালনগরে পিতৃদশনে যাইতেছেন, এ বর্ণনা কোথায় আছে ? তব ত তাঁহাদের পিতা রাজ্যেশবর। আর, তোমার পিতা ? যদি আমার অনুমতি লইয়া যাইতে সে স্বতন্ত্ৰ কথা ছিল; তুমি দৈবরিণীর ন্যায় চলিয়া গিয়াছিলে!” রাণী বললেন, “কেন, মহারাজ, আমাকে এরপে কটবাক্য সকল বলিতেছেন ? আপনার অনুমতি লইবার উপায় ছিল না; তাই আমি পৰ্টমহাদেবীর অনুমতি লইয়া গমন কারয় | মহারাজ বললেন, “মহাদেবীর অনুমতি লইয়া গিয়াছিলে; কিন্তু এ বিষয়ে অনুমতি দিবার তিনি কে ?” আমবালিকা বলিলেন, “ওটা আমারই ভুল হইয়াছে, মহারাজ! বিগত-যৌবনা মহাদেবীর অনুমতি না লইয়া, নতন রাণী হৈমবতীর নিকট অনুমতি লইয়া গেলেই বোধ হয় মহারাজের ক্লোধানি হইতে পরিত্রাণ পাইতাম।” মহারাজ মুখ বিকৃত করিয়া বললেন, "ঈষর্ণটি ত দেখিতেছি, ষোল আনাই আছে! তোমার পিতার সঙ্কটাপন্ন পীড়াই যদি হইয়াছিল, তবে পালকী পাঠাইয়া সেই ভিক্ষকটাকে এখানে আনাইয়া লইলেই পারিতে। এখানে রাজবৈদ্যগণ সেটার চিকিৎসা করিত, ঔষধপথাদির ব্যয়টাও তার বাঁচিয়া যাইত।" এই কথা শুনিবামার, রাণী ক্ৰোধে জ্ঞানহারা হইলেন। সহসা বলিয়া ফেলিলেন, “সকলেরই ত রুপবতী পিসি ও ভগিনী থাকে না মহারাজ, থাকিলে, আপনার ন্যায়, আমার পিতাও হয়ত তাহদের মুসলমানকে দিয়া, সম্পত্তিশালী ও গণ্যমন্য হইতে পারিতেন।” কথাটা বলিয়া ফেলিয়াই রাণী মহাশঙ্কিত হইয়া পড়িলেন। ভাবিলেন, হায় হায়, কি করলাম —রাণা প্রতাপসিংহ একবার ইহাকে ঐ বিষয়ে উপহাস করিয়াছিলেন, তাহাতে মহারাজ নিজেকে কিরুপ অপমানিত জ্ঞান করিয়াছিলেন, তাহা রাণী জানিতেন । বাসতবিক, অম্বালিকার আশঙ্কা যে অমলেক নহে, তাহা তৎক্ষণাৎ প্রমাণিত হইল। কথাগুলি শনিবামাত্র মানসিংহের চক্ষদ্বয় ক্ৰোধে রক্তবর্ণ ধারণ করিল। তিনি কাঁপিতে কাঁপিতে উঠিয়া দাঁড়াইয়া, গজন করিয়া বলিলেন, “পাপীয়সী ! তুই আমায় অপমান করিলি ? এত সাহস তোর ? যা, আমার অন্তঃপর হইতে তুই দরে হইয়া যা। আর ইহজীবনে আমি তোর মখদশন করিব না। তোকে, সাতদিন মাত্র সময় দিলাম। এই সাতদিনের ভিতর, তুই তোর পিতাকে আনাইয়া, তাহার সহিত চলিয়া যাইবি—ইহাই তোর প্রতি আমার শেষ ও অপরিবত্তনীয় দণ্ডাদেশ ”—বলিয়া, মহারাজ, কম্পিতপদে রাণী অমবালিকার মহাল পরিত্যাগ করিয়া গেলেন। ৷৷ তৃতীয় পরিচ্ছেদ । রাণী অবালিকা, অনাহারে, অনিদ্রায় সারা রাত্রি কদিয়া কাটাইলেন। পরদিন তিনি বহ মিনতি করিয়া, ক্ষমা চাহিয়া, মহারাজের নিকট একখানি পত্র লিখিলেন। পারচারিকা ফিরিয়া আসিয়া বলিল, মহারাজ পত্র পাঠান্তে উহা খণ্ড খণ্ড করিয়া ছিড়িয়া ফেলিয়াছেন ও কহিয়াছেন, রাণীকে বলিস, মহারাজ মানসিংহের মুখ হইতে এক ভিন্ন দ্বিতীয় কথা বাহির হয় না। - সে রাত্রিও অবালিকা কাঁদিয়া কাটাইলেন। পরদিন বিপ্রহরে, তাঁহার স্বারে একখানি পন্দর্ণঘেরা তাঞ্জাম আসিয়া লাগিল। মিনা :zy: ', `२8३ .* *