পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“না, ফিট হবে কেন ?” . - রায় বাহাদর বলিলেন, "এখানে যখন ছিল, তখন একদিন এজলাসে বসে তার ফিট হয়েছিল।” - প্রবোধবাব বলিলেন, “না, সেখানে কোনও দিন ত ফিট-টিট হতে দেখিনি তার।” রায় বাহাদর একটা গোপন অনুসন্ধান করিয়া জানিতে পারিলেন, যতীন ডাক্তার যিনি আলিপরে পরেশের ফিটের দিন চিকিৎসা করিয়াছিলেন, তিনি পরেশের সবগ্রামবাসী ও সতীর্থ; এবং পরেশ এখানে থাকাকালীন সে প্রায়ই তাঁহার বাড়ীতে গিয়া আড়া দিত। রাত্রে রায় বাহাদর পরেশঘটিত নতন খবরগুলি সমস্তই তাঁহার গহিণীর নিকূট প্রকাশ করিলেন। গহিণী বলিলেন, “এখন বুঝতে পারা যাচ্ছে, ও ফিট-টিট সবই সু-দুল বা বাদ দি কে কি ক ক নং ও লাল করে p" রায় বাহাদর বলিলেন, “আমরা গৰব করে থাকি আমরা কলকাতার লোক ভারি চালাক –কিন্তু ঢাকার বাঙ্গালটা এসে আমাদের কি ঠকানটাই ঠকিয়ে গেল বল দেখি !" সুশীলা না পিপলা ? এক ভাগলপরে আমার পিতা ওকালতী করতেন, সেই পথানেই আমার জন্ম হয়। আমার পিতার নাম অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। আমার নাম সরেন্দ্রনাথ। - আমাদের বাড়ী হইতে অলপ ব্যবধানেই পিতার বন্ধ আর একজন উকীলের বাড়ী ছিল। তাঁহার নাম চন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়। বাল্যকালে আমি তাঁহাদের বাড়ীতে প্রায় প্রতিদিনই খেলা করিতে যাইতাম। চন্দ্রনাথবাবকে আমি কাকামশাই ও তাঁহার পত্নীকে কাকীমা বলিতাম। কাকীমার তখনও কোনও সন্তানাদি না হওয়ায় তিনি আমাকে খুবই মত্ব করিতেন;—কোলে বসাইয়া আমাকে মিঠাই খাওয়াইতেন, মুখ ধোয়াইয়া, চল আঁচড়াইয়া দিয়া, আমায় পাউডার মাখাইতেন। চলিয়া আসিবার সময় মুখে চমো খাইয়া বলিতেন, “আবার কাল এস, বাবা।” মা আমায় মারিলে কাকীমার কাছে গিয়াই আমি নালিশ করিতাম। তাঁহার উপর আমার আবদার ও মান-অভিমানের সীমা ছিল না। কিন্তু কাকীমার গহে আমার এই অত্যধিক আদর অধিক দিন রহিল না। আমার বয়স যখন সাত বৎসর তখন তিনি স্বয়ং জননী হইলেন,—একটি আধটি নয়—একসঙ্গে দুই দইটি কন্যা তিনি প্রসব করিয়া বসিলেন। ইহাকেই বলে “রামজী যব দেতা তব ছাপর ফোড়কে দেতা।” আমি তখন সাত বৎসরের বালক হইলেও, ঘটনাটি বেশ সমরণ আছে। তাহার অলপদিন পবেই আমি ইংরাজী স্কুলে ভত্তি হইয়াছিলাম। যাহা হউক, কাকীমার কন্যা দইটি দিন দিন “শকুপক্ষের শশিকলা”র মতই বাড়ীতে লাগিল। আমিও ক্লাসের পর ক্লাস উঠিতে লাগিলাম। আমি আর বড় একটা কাকীমার বাড়ী যাই না। একটা বড় হইলে, তাঁর মেয়ে দটি আমাদের বাড়ী খেলা করিতে আসিতে লাগিল। একটির নাম সুশীলা, অপরটির নাম পিপলা বা প্রফুল্লনলিনী। একে ত যমজ ভগিনী, কোনটি কে চেনাই শক্ত--তার উপর আবার তাদের মা দন্টামী করিয়া দুইটিকে একই রকমে সাজাইতেন। দইটির চল ঠিক একই রকমে বধিয়া, একই রঙের ডিজাইনের ফ্রক দাইটিকে পরাইতেন, জতা মোজা পরিলে তাহাও ঠিক একই রকমের হইত। আমাদের বাড়ীতে দইটি প্রায় একসঙ্গেই আসিত। কখনও একটি একলা আসিলে বাড়ীর সকলেই জিজ্ঞাসা করিত—“সুশীলা না পিপলা?” যে আসিত, সে নিজের নামটি বলিত। es )