পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


খানা” লিখিয়া সেনেট হাউসের দেওয়ালে আটিয়া দিয়াছিল। সুতরাং অনেকের সঙ্গে আমিও কলেজ পরিত্যাগ করিয়া, ধমের ষাঁড় হইয়া বেড়াইতে লাগিলাম। পড়াশনার দিকে ঝোঁক কোনও দিনই আমার ছিল না, পিতা মাতাও জীবিত নাই যে তাড়না করিবেন। পড়িতাম শধ্যে ফ্যাসনের অনুরোধে—আর পাঁচজনে যাহা করে তাহ করাই উচিত বলিয়া, —সে বালাই দুরে হইল; হাফ ছাড়িয়া বাঁচিলাম। কালক্রমে উত্তেজনার ভাবটা কতক কমিয়া গেলে, সবদেশী বস্ত্রের ব্যবসায় করিব বলিয়া ঠিক করিলাম। ব্যবসায়ের দিকে ঝোঁকটা আমার বাল্যকাল হইতেই। যখন . স্কুলে পড়িতাম, মনে আছে, নয় আনা দিয়া একশিশি লজেঞ্জুষ কিনিয়া, পয়সায় তিনটা করিয়া ছেলেদের নিকট বিক্রয় করিয়া বারো আনা করিতাম। জলছবি আনাইয়া, ঐরপে খুচরা বিক্ৰয় করিয়া, টাকায় আট আনা লাভ করিতাম। অভাবের জন্য যে এরপে করিতাম তাহা নহে; আমার পিতার কিছু ধন সম্পত্তি ছিল । ছেলেরা আমায় বলিত, “আর জন্মে তুই মাড়োয়ারী ছিলি।” তাই বোধ হয় ছিলাম; ব্যবসার প্রসঙ্গ শনিতে, ব্যবসায়িগণের সঙ্গে মেলামেশা করিতে মনে যে আনন্দ হইত, কোনও জগদবিখ্যাত বৈজ্ঞানিক যা দেশপ্রসিদ্ধ কবির সহিত আলাপেও তাহা হইত না। দেশে আমার পৈতৃক নগদ টাকা কিছু ছিল—বেশী নয়, হাজার পাঁচেক হইবে। ব্যবসায়ে সব টাকাটা একেবারে ফেলিব না সিথর করিয়া, দই হজার টাকায় ধতি শাড়ী প্রভৃতির জন আহমেদাবাদের এক বিখ্যাত মিলে অর্ডার পাঠাইলাম। বউবাজার স্ট্রীটে একখানা দোকান ঘর ভাড়া লইয়া, মাল রাখিবার জন্য র্যাক নিম্নমাণ করিতে মিসরী লাগাইয়া দিলাম। সাইন বোড অাঁকাইতে দিলাম, তাহাতে লেখা থাকিবে “বন্দে মাতরম বস্ত্র ভাণ্ডার—সোল প্রোপ্রাইটর, এ, বি, কাঞ্জিলাল।" বলিতে ভুলিয়াছি, আমার নাম শ্রীঅটলবিহারী কাঞ্জিলাল। * - র্যাক-আদি নিমিত হইল; সাইন বোড প্রস্তুত, এবং একদিন আহমেদাবাদ হইতে পত্র আসিল, মিলের মালিক পাঁচ গাঁইট মাল পঠাইয়া “বিলটী (মালের রসিদ) খানা ভিপি করিয়াছেন, টাকু দিয়া ভি-পি লইয়া আমি যেন মাল খালাস করিয়া লই। তৎসঙ্গে একটি চালান’ (জিনিষের ফন্দাও) আসিয়াছে। পরদিন পোল্ট আপিস হইতেও ইন্টিমেসন পাইলাম। মহোল্লাসে সেইদিনই গিয়া দই হাজার বাহাত্তর টাকা দিয়া ভি-পি ছাড়াইয়া লইলাম। রসিদ আসিয়াছে ডাকগাড়ীতে, মাল রওনা হইয়াছে মালগাড়ীতে সতরাং পেপছিতে দেরী হইবে; তাই এক সপ্তাহ অপেক্ষা করিয়া, হাওড়ার মালগদামে গিয়া অনুসন্ধান । করিলাম। কত লোকের কত গাঁইট আসিয়া সতপোকার হইয়া রহিয়াছে—কিন্তু আমার :মাল ত কই আসে নাই। একজন বাব বললেন, “আহমেদাবাদ কি এখানে মশাই! আরও হস্তাখানেক পরে এসে খবর নেবেন।” “যে আজ্ঞে"—বলিয়া চলিয়া আসিলাম। r সপ্তাহ পরে আবার গিয়া সংবাদ লইলাম-না, মাল আজিও আসে নাই। দইদিন, তিনদিন অন্তর মালগদামে যাইতে লাগিলাম, মালের কোনও পাত্তাই নাই। এইরপে মাসাধিক কাল কাটিয়া গেল। * একদিন মালগদামে দাঁড়াইয়া, একজন পরিচিত লোককে আমার দদশার কথা বলিতেছিলাম। নিকটেই একজন মাড়োয়ারী বালক দাঁড়াইয়া ছিল,—বছর বারো বয়স • হইবে—সে ছোঁড়া শুনিয়া, হি হি করিয়া হাসিয়া উঠিল। আমি রাগত ভাবে জিজ্ঞাসা করিলাম, “হাঁসতা হ্যায় কাহে জী ?” ছোকরা পরিকার বাঙ্গলায় বলিল, “হাসছি বাব, আপনার আক্কেল দেখে! মাল এসে পৌছল কি না, তার ঠিক নেই, এক ঝড়ি টাকা দিয়া বিলটী ছড়িয়ে নিলেন বিলটার ভি-পি এলে আমরা প্রথমে মালগদামে এসে খবর নিই যে মাল এসেছে কি না। মাল স্বচক্ষে দেখে, তবে আমরা পোষ্ট আপিসে - २¢ 8 S S S S S S S S S S S S S S