পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাই। বিলটী তিন হস্তা ডাকঘরে জমা থাকে।” ছোকরার কথা শুনিয়া আমার চক্ষ খলিয়া গেল। ঠিক কথাই ত! কিন্তু, কই, এ কথা ত এতদিন কেহই আমায় বলে নাই। এই বারো বছরের ছোঁড়া এ কথা জানে, —অথচ সে কালিদাস পড়ে নাই, ভবভূতি পড়ে নাই—সেক্সপিয়রের মিলটনের নামও তাহার উদ্ধনাতন চতুৰ্দশ পরিষে কেহ শ্রবণ করে নাই। : মাল আসিল না। রেল কোম্পানীর নিকট দরখাস্ত করিয়াছি, তাঁহারা ছাপা ফরম ফিল-আপ করিয়া উত্তর দিয়াছেন, “অনুসন্ধান করিতেছি।” সে তাঁরা করন; আমি ত মাল পাইবার আশা ছাড়িয়াই দিয়াছি। শেষ পর্যন্ত মোকদ্দমা করিয়া রেল কোম্পানির নিকট হইতে টাকা আদায় করিতে হইবে—কিন্তু সে পরের কথা। আপাততঃ, বস্ত্র খরিদ জন্য স্বয়ং আহমেদাবাদ যাত্রা করিলাম। বিভিন্ন মিলে গিয়া স্বয়ং দেখিয়া মাল অর্ডার দিব। বিভিন্ন মিলে—কারণ সব খরিদ্দারের পছন্দ একরকম নহে। এ জ্ঞানটুকুও সম্প্রতিই অর্জন করিয়াছি। ফিরিয়া আসিয়া, হাওড়ায় আমায় মাল পেশছিয়াছে সবচক্ষে দেখিয়া, তার পর পোস্ট আপিস হইতে বিলটীর ভি-পি ছাড়াইব। ৷৷ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ॥ বোম্বাই মেলে কলিকাতা হইতে যাত্রা করিলাম। ইন্টার ক্লাশের টিকিট ছিল। ইটাসি" স্টেশন ছাড়াইয়া রাত্রি হইল। ব্যাগে লচী, আলভাজা ও মোহনভোগ ছিল, তাহাই খাইয়া, বিছানা পাতিয়া শ্যইয়া পড়িলাম। আমার কামরায় তখন দইজন মাত্র আরোহী | fa fశా ఆ it ? তার পর আমি ঘুমাইয়া পাড়লাম। . কতক্ষণ নিদ্রিত ছিলাম জানি না, একটা কণবধিরকারী বিরাট ভীষণ শব্দে নিদ্রাভঙ্গ হইল, এবং সঙ্গে সঙ্গে আমি বেঞ্চির উপর হইতে ছিটকাইয়া মহাবেগে কোথায় যেন পতিত হইলাম। চক্ষ খলিয়া দেখি সমস্তই অন্ধকার। একটা মড়মড় কড়কড় শব্দ এবং সেই সঙ্গে অনেক লোকের করণ আত্তনাদ কাণে আসিতে লাগিল। নিজে তখনও আমি দলিতেছি—আমার ডান দিকের উরতে এবং মাথার পশ্চাতে ভীষণ যন্ত্রণা। বঝিলাম, ট্রেণে কলিসন হইয়াছে। . দোলানি ও মড়মড় কড়কড় শব্দ শীঘ্রই থামিয়া গেল । উরতে হাত দিয়া দেখিলাম একটা কাঠের টুকরা সেখানে বিধিয়া রহিয়াছে। সেটা খলিয়া ফেলিতেই, যন্ত্রণা একটন কমিল বটে, কিন্তু দর দর ধারায় রক্তপাত হইতে লাগিল তাহা সপশ দ্বারা বুঝিতে পারলাম। আরও বঝিলাম, এ কলিসনে আমি মরি নাই, মরিলে ক্ষতস্থান হইতে রক্ত পড়িত না; ভাঙা গাড়ীর সত্যুপের ভিতর জীবন্ত সমাধি লাভ করিয়াছি । বাহির হই কি করিয়া ? কই, কোনও দিকে ত একটু আলোকের কণাও দেখিতে পাইতেছি না। কিন্তু বাসকষ্টও ত অনুভব করিতেছি না—বায় প্রবেশের পথ কোথাও নিশ্চয়ই আছে। এবং সেই পথেই, নরনারীর সমবেত কঠোথিত আৰ্ত্তনাদও শ্রবণপথে আসিয়া পেপছিতেছে। বাহির হইবার কোনও উপায় কি নাই ? এই অন্ধ তমোগহরে, অনাহারে মৃত্যুই কি আমার অদটেলিখন ? তার চেয়ে, মস্তক চর্ণ হইয়া সঙ্গে সঙ্গে পরলোক পাড়ি দিতে পারলেই ত ভাল হইত। সেই অন্ধকারে ! চারিদিক হাতড়াইতে লাগিলাম। একটা কোমল দ্রব্য সপশ করলাম—মনুষ্যদেহ। পশে* আরও জানিলাম, তরণী নারীদেহ। তাহাকে ঠেলিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, "মরে গেছ নাকি ?” কোনও উত্তর নাই ও তবে মরিয়াছে । জীবিত ও মত—একত্র সমাধিস্থ। আরও চারিদিক হাতড়াইয়া দেখিলাম, আর কাহাকেও পাইলাম না। আরব উপন্যাসে পড়িয়া २¢¢