পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছিলাম, সিন্ধবাদ সে কোন দেশে গিয়াছিল, সেখানে স্বামী মরিলে জীবন্ত স্মীকে এবং সী মারলে জীবন্ত স্বামীকে একত্র সমাধিস্থ করা হয়—আমি কি সেই দেশে রহিয়াছি এবং এই তরণেই কি আমার মতা পত্নী ? বিশেষ চেষ্টায় মরণশক্তি প্রয়োগ করিয়া জ্ঞান হইল—না, তাহা নয়, আমি অবিবাহিত বাঙ্গালী যবক, এবং মাল খরিদ করিবার জন্য এই ট্রেণে আহমেদাবাদ যাইতেছিলাম। নিজ উরতের ক্ষত স্থানে হাত দিয়া যন্ত্রণা লাঘবের চেষ্টা করিতেছি, এমন সময় একটা গোঙানি শব্দ শনিতে পাইলাম। জয় জগদীশবর –ও তবে মরে নাই—বাঁচিয়াই আছে! মৃত্যু-নদীর তটপ্রান্তে দাঁড়াইয়া, একটি জীবিত প্রাণীর সঙ্গলাভে যেন কৃতার্থ হইয়া গেলাম। হাত বাড়াইয়া মেয়েটির গা ঠেলিয়া বলিলাম, “তুমি বেচে আছ?” সে কুন্দনের সবরে বলিল—“আগে মাঈ গে মাঈ!” বঝিলাম বাঙালীর মেয়ে নয়, হিন্দী কথা কয় যে! জিজ্ঞাসা করিলাম, “বহত চোট লাগা ?” সে কেবল কাংরাইতে লাগিল । ক্ষণপরে আবার জিজ্ঞাসা করিলাম, "বহুৎ জখম হয়ো ?” সে বলিল, “বড়া দখোতা হায় মাঈ যে মাঈ !” - বলিলাম, “কাঁদনেসে ক্যা হোগা ? গাড়ী লড় গিয়া। হামলোগ সব চাপা পড় গিয়া। তুমারা নাম ক্যা ?” সে বলিল, “সরস্বতী-বাঙ্গলা ধরণে নয়, সংস্কৃত ধরণে শব্দটা উচ্চারণ করিল। - ক্ৰমে ক্ৰমে প্রশন করিয়া জানিলাম, তাহার পিঠে শিরদাঁড়ায় আঘাত লাগিয়া বড় যন্ত্রণা হইতেছে, রক্তপাত হইয়াছে বলিয়া বোধ হয় না। এই ট্রেণে অন্য কামরায় তাহার পিতাও আছেন, সে দেড়া মাসলের মেয়েকামরায় ছিল। হাওড়ায় ট্রেণে উঠিবার সময়, আমাদের কামরার পাশে ইন্টার ক্লাসের মেয়েকামরা দেখিয়াছিলাম; বঝিলাম মাঝের পার্টিসন ভাঙ্গিয়া, বিধাতা তাহাকে আমার কামরায় আনিয়া ফেলিয়াছেন। সরস্বতী বলিল, “এ যাঙ্গালী বাবা, হামলোক জিয়েগা ?” বলিলাম, “দেখো, রামজাঁকা ক্যা মঞ্জি" | বালিকা তখনও কাতরাইতেছে দেখিয়া বলিলাম, “এ জী! তুমারা পিঠমে একটা হাত বলায় দেগা ?” সে বলিল, “হাঁ বাবাজী!" বলিলাম, "আচ্ছা, তবে থোড়া কাছমে সরে আও।” সে তেমনি কাতরাইতে লাগিল। বোধ হয় অঙ্গসঞ্চালনের ক্ষমতা তাহার বিলুপ্ত। আমি কন্টে সটে তাহার নিকটবত্তী হইয়া হস্ত প্রসারণ করিয়া দেখিলাম, সে পশ্চাৎ ফিরিয়া পড়িয়া আছে, পিঠের মাঝখানটা বিষম ফলিয়াছে। তাহার “আঙিয়া”র সে স্থানটা ছিড়িয়া গিয়াছে। আমি অতি মদভাবে সেখানে হাত বলাইতে লাগিলাম। বোধ হয় বালিকার আরাম হইতেছিল, তাহার কাতরাণী একটা কমিল। কথাবাত্তাগলার বাঙ্গলা অনুবাদই দেওয়া যাউক। সে জিজ্ঞাসা করিল, “হাঁ বাব, আমরা বাঁচবো ?” বলিলাম, “নারায়ণ জানেন।” “আমার বাবার কি হ’ল ?” “তাও নারায়ণই জানেন ।” মেয়েটি “বাবা-হো!”—বলিতে বলিতে ফোঁস ফোঁস করিয়া কাঁদতে লাগিল। আমি তাহাকে সাম্মনা দিতে চেণ্টা করিতে লাগিলাম, “এ জী, কোদো না, কপালে যা আছে তা কে খণভাবে বল !" - ক্ৰমে সে একটু শান্ত হইল। আবাব কথাবাত্তা চলিতে লাগিল। তাহারা গজেরাটী ২৫৬ -