পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বেণী বস কহিলেন, “জনালিয়ে-পড়িয়ে মারবে । ইচ্ছে করে, আচ্ছা করে নোরেটারে জৰদ করে দিই।” “তা, দাও না—একটা শিক্ষা হোক। কিন্তু কি উপায়ে জব্দ করবে, সেইটে বল দেখি ?” বেণী বস, সিদ্ধির খালি ভাঁড়টি নামাইযা রাখিয়া কহিলেন, “কত রকম উপায় হতে পারে। এই ধরন, গ্রামে কার নামে এখান থেকে যদি একটা উড়ো চিঠি লেখা যায় যে নরহরির সন্ত্রীকে সন্দরী দেখে, মোহান্ত মহারাজ ঠাকুন্দা বাধা দিয়া কহিলেন, “না না—সতীলক্ষী—তা কি করতে আছে ? ছি ছি তা কোরো না! হাজার হোক গহন্থের বউ! এমন কোনও উপায় বের কর, যাতে দু’জনের থব চলোচলি বেধে যায়। দিনকতক একটা মজা দেখে নিয়ে, তার পর সব ভেঙ্গে দিলেই হবে এখন, কি বল শিব ভায়া ?” শিব বলিল, “হ্যাঁ, সেই রকমই ভাল। ওঁর ওয়াইফ কি খুব সুন্দরী নাকি ?” বেণী বস, বলিলেন, “এমন কিছু ডানাকাটা পরী যে তা নয়, তবে রংটা ফসর্ণ আছে, মুখে-চোখও ভাল।” নাম কি ?” "এজকেটেড ? চিঠি লিখতে পারে?” বেণী বসন বলিলেন, “তোমার যেমন কথা ! এ কি কলকাতার মেয়ে যে লেখাপড়া জানবে ? কেন, জানলে কি করতে ? তার নামে কোনও জাল প্রেমপত্র-টক্স—” শিব বলিল, “না, এমনিই জিজ্ঞাসা করলাম।” এই সময় আর দুইজন নিমন্ত্ৰিত ভদ্রলোক আসিয়া জটিলেন। এ প্রসঙ্গ চাপা পড়িয়া গেল। সীতানাথ উঠিয়া পাকের পথানে গিয়া, পোলাও রন্ধনের তদ্বিরে ব্যাপত হইলেন । e. পঙ্কল্প পরদিন সন্ধ্যায় আবার নীলদপণের অভিনয় হইল। সন্ত্রী ও ঠানদিদি প্রভৃতিকে লইয়া নরহরি থিয়েটার দেখিয়া আসিল । তাহার পরদিন থিয়েটারের দল কলিকাতায় ফিরিয়া গেল। যাত্রার দল, বাই, খেমটা .প্রভৃতি এখনও আসর গবম রাখিয়াছে, এমন সময় মেলায় আর একটা নতন “আকষণ” উপস্থিত হইল। একজন নাকি অসাধারণ সিদ্ধপর ষের আবিভাব হইয়াছে; তিনি লোকের হাত দেখিয়া, ভূত-ভবিষ্যৎ ত তুচ্ছ কথা, পৰব'জন্মের ঘটনা পৰ্য্যন্ত বলিয়া দিতে পারেন। তবে, তাঁহার দক্ষিণাটা কিছু বেশী—নগদ ষোল আনা। তিনি নাকি কেদার বদরীর পথে একটি ধর্মশালা নিম্মর্ণণ আরম্ভ করিয়াছেন, তাহা সম্পর্ণে হইতে এখনও ৫i৬ হাজার টাকা লাগিবে, তাই বাবাজী এই উপায়ে অথসিংগ্ৰহ করিতেছেন মাত্র—নচেৎ তাঁহার আহার দৈনিক আড়াই সের দগ্ধ ও কিঞ্চিৎ ফলমল মাত্র। বেণী বস এক দিন গিয়া হাত দেখাইয়া আসিলেন। পরিচিত অপরিচিত যাহার সহিত সাক্ষাৎ হইল, বলিতে লাগিলেন, “বাবাজীর ক্ষমতা একেবারে অদ্ভুত। অত্যাশ্চৰ্য্য! আমার জীবনের পত্রবকথা যা যা বললেন, শুনে ত মশাই আমি ‘থ হয়ে গেছি।” আবার কেহ কেহ এমনও বলিতেছে, “বেটা বজরকে ! আন্দাজি ঢিল মারে, এক একটা লেগেও যায়। টাকা উপায়ের একটা ফন্দি করেছে।”—কিন্তু তথাপি হাত গণাইবার লোকের অভাব হইতেছে না ! বাবাজী নিয়ম করিয়া দিয়াছেন, বেলা ৮টা হইতে ১১টা পৰ্য্যন্ত স্ত্রীলোক এবং অপরায় ২টা হইতে ৬টা পৰ্য্যন্ত পরষগণের হাত দেখিবেন। একটি কাগজে নামধাম ও জন্মনক্ষত্র লিখিয়া, সেই কাগজে একটি টকা মাড়িয়া, চলার দ্বারা ভিতরে স্বাবাজীকে পাঠাইয়া দিতে হয়; যথাসময়ে ডাক পড়ে। ૨૭૭